গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের বিষয়ে লেবার পার্টির প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে থাকা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, গাজায় ইসরাইলি হামলার বিষয়ে লেবার পার্টি যে অবস্থান নিয়েছিল, তা সঠিক ছিল না। তার মতে, বিষয়টি আরো ভালোভাবে সামলানো উচিত ছিল।
বার্নহ্যাম চলতি মাসের শেষ দিকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরের শেষ দিকে গাজায় যুদ্ধবিরতির দাবি করেছিলেন তিনি। তখন এ নিয়ে লেবার নেতা কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে মতবিরোধ তৈরি হয়।
সামাজিকমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘গাজায় যা ঘটেছিল, সে বিষয়ে লেবার পার্টির প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া অনেক মানুষকে কষ্ট দিয়েছে। আমরা ভুল করেছি এবং আমি এর জন্য দুঃখিত।’
এক ভিডিও বার্তায় ইসরাইলে হামাসের হামলা এবং যুক্তরাজ্যে ইহুদিবিদ্বেষী হামলারও সমালোচনা করেন তিনি।
যুদ্ধের শুরুর দিকে কিয়ার স্টারমার পূর্ণ যুদ্ধবিরতির দাবি করেননি। তিনি শুধু মানবিক বিরতির পক্ষে ছিলেন, যাতে কিছু সময়ের জন্য যুদ্ধ থামিয়ে গাজায় খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য ত্রাণ পৌঁছানো যায়।
আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতির তুলনায় মানবিক বিরতিগুলো সাধারণত স্বল্প সময়ের জন্য, কখনো কখনো মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্য স্থায়ী হয় এবং দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক সমাধান অর্জনের পরিবর্তে শুধুমাত্র সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যেই এগুলো বাস্তবায়ন করা হয়।
বার্নহ্যাম বলেন, ‘আমি জানি, অনেকের কাছে মনে হয়েছে যে গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের শুরুতে আমার দল ঠিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারেনি। আমি এজন্য দুঃখিত। আমাদের আরো ভালো করতে হবে। যুক্তরাজ্য যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাতে অনেক দেরি করেছে।’
তিনি গাজায় প্রাণহানি ও মানবিক সংকটকে ‘যৌথ বিবেকের জন্য একটি ক্ষত’ বলে বর্ণনা করেন।
২০২৩ সালের ১১ অক্টোবর এক সাক্ষাৎকারে স্টারমারের কাছে জানতে চাওয়া হয়, ইসরাইল যদি গাজার বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেয়, তা ঠিক হবে কি না?
তিনি জবাবে বলেন, ‘ইসরাইলের আত্মরক্ষার অধিকার আছে।’
বার্নহ্যাম তার ভিডিওতে লেবার সরকারের নেওয়া বেশ কয়েকটি পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। এগুলো হলো: ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া, ইসরাইলি মন্ত্রী ও বসতি স্থাপনকারীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা এবং ইসরাইলের জন্য কিছু অস্ত্র রপ্তানির লাইসেন্স সীমিত করা।
তিনি ইসরাইলের নেতানিয়াহু সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ইসরাইলের উগ্রপন্থি মন্ত্রী ও বসতি স্থাপনকারীদের ওপর আরো কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ওপর জোর দিয়েছেন।
বার্নহ্যাম বলেন, ‘আমাদের কর্মপন্থাকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। ইসরাইলি সরকার যাতে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলে তা নিশ্চিত করতে এবং দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনাকে বাঁচিয়ে রাখতে আরো অনেক কিছু করা প্রয়োজন।’
ফিলিস্তিনিদের ভূমি থেকে উচ্ছেদ এবং অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। এসব অবৈধ বসতির সাথে বাণিজ্য সম্পূর্ণ বন্ধ ও নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি ইসরাইলকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য অভিযুক্ত করেন। বলেন, পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, ‘নেতানিয়াহুর সরকার স্পষ্টতই দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানকে অসম্ভব করে তোলার চেষ্টা করছে।’







