আগামী পাঁচ দিন দেশের অধিকাংশ এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সময়ে উজানের ভারী বৃষ্টি ও দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় ১৮ জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)।
বুধবার (৮ জুলাই) প্রকাশিত আবহাওয়া অধিদপ্তরের ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাস এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ছত্রিশগড় ও তৎসংলগ্ন উত্তর ও মধ্য প্রদেশে অবস্থানরত মৌসুমি স্থল নিম্নচাপটি দুর্বল হয়ে বর্তমানে মধ্য প্রদেশ ও তৎসংলগ্ন উত্তর প্রদেশ এলাকায় সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপের তারতম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় থাকায় আগামী পাঁচ দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে দমকা হাওয়া, বজ্রপাত এবং ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৮ ও ৯ জুলাই রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। ১০ থেকে ১২ জুলাইও দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। তবে পাঁচ দিনের বর্ধিত পূর্বাভাসে বৃষ্টির প্রবণতা ধীরে ধীরে কমে আসতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
অন্যদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের সব প্রধান নদ-নদী বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও আগামী কয়েক দিনে ভারী বৃষ্টির কারণে দেশের ১৮ জেলার নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এতে কয়েকটি নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার সৃষ্টি করতে পারে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের চট্টগ্রাম বিভাগে অতি ভারী এবং সিলেট ও বরিশাল বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। একই সময়ে ভারতের মেঘালয় ও ত্রিপুরা অঞ্চলেও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী চার দিন চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগ এবং সংলগ্ন ভারতের ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সিলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির কিছু স্থানে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যার সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের মনু, খোয়াই, খলাই, কংস, সারিগোয়াইন, সোমেশ্বরী, ভোগাইসহ বিভিন্ন নদীর পানিও দ্রুত বাড়তে পারে। এতে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার কিছু নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
রংপুর বিভাগে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ৭২ ঘণ্টায় ধরলা ও দুধকুমার নদী লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামে সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।
এদিকে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার পানিও বাড়তে পারে। গঙ্গা নদীর পানি কয়েক দিন স্থিতিশীল থাকার পর বৃদ্ধি পেলেও পদ্মার পানি কমার প্রবণতা থাকতে পারে। তবে এসব প্রধান নদী আপাতত বিপৎসীমার নিচ দিয়েই প্রবাহিত হবে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা প্রকাশ করা হবে।





