তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে রংপুরের গংগাচড়া উপজেলায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে তিস্তা পাড়ের কয়েক হাজার মানুষ অংশ নিয়ে নদীভাঙন, বন্যা ও শুষ্ক মৌসুমে পানিসংকটের স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান। শনিবার (২০ জুন) সকাল এগারোটায় উপজেলার মহিপুর এলাকায় তিস্তা সেতুর দক্ষিণ প্রবেশদ্বারে আয়োজিত মানববন্ধনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।
মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব মো. রায়হান সিরাজী। বক্তব্যে তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা এ অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি। প্রয়োজনে নিজস্ব অর্থায়নে হলেও দ্রুত এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। তিস্তা পাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে এ প্রকল্পের কোনো বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা বাস্তবায়নের এখনই সময়। এ অঞ্চলের মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
রায়হান সিরাজী আরও বলেন, ‘জাগো বাহে, কোনঠে সবাই’ স্লোগানের মাধ্যমে রংপুরের কৃতি সন্তান ও বর্তমান সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী তিস্তা আসাদুল হাবিব দুলু ভাই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় তিস্তা পাড়ের মানুষ এখনো ঐক্যবদ্ধ রয়েছে।
মানববন্ধনে মাওলানা নায়েবুজ্জামানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদি, অধ্যক্ষ আব্দুল গনি, অধ্যক্ষ শফিকুল আলমসহ তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির নেতারা বক্তব্য রাখেন। বক্তারা বলেন, তিস্তা অববাহিকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন, আকস্মিক বন্যা, পানির সংকট ও কৃষি সমস্যার সঙ্গে লড়াই করছেন। বহুবার আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো প্রকল্প বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে নদীভাঙন নিয়ন্ত্রণ, বন্যা ব্যবস্থাপনা, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।







