উৎপাদন খরচে হিমশিম, লোকসানের শঙ্কায় পশু খামারিরা

Post Image


আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের খামারিদের পশু পরিচর্যার প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে পশুখাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, কমার্শিয়াল রেটে বিদ্যুৎ বিল ও বাড়তি উৎপাদন খরচের কারণে এবার লাভের মুখ দেখা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন সারা দেশের প্রান্তিক খামারিরা। এর সাথে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ক্রেতা ও আর্থিক সংকট। খামারিদের দাবি, গত বছরের তুলনায় এবার বাজারে পশুর দাম কম ওঠার আশঙ্কা রয়েছে।

খামারিরা জানিয়েছেন, কোরবানির হাটে সাধারণত ৪ থেকে ৬ মণ ওজনের মাঝারি গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। তবে পশুখাদ্যের দাম যেভাবে বেড়েছে, তাতে এই ওজনের একটি গরু প্রস্তুত করতেই খামারিদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

জয়পুরহাটের দোগাছি গ্রামের সাবেক খামারি রোজিনা পারভিন জানান, একটি গরু চার থেকে ছয় মাস মোটাতাজা করতে শুধু খাবারের পেছনেই খরচ হয় ৪৭ থেকে ৫৪ হাজার টাকা। এর বাইরে চিকিৎসা, শ্রম ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ তো রয়েছেই। এত ব্যয়ের পর গরু প্রতি মাত্র ১০-১৫ হাজার টাকা লাভ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। লোকসানের মুখে পড়ে তিনি নিজের খামারটিই বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় বড় হাটে কোরবানির পশুর সিংহভাগ আসে উত্তরাঞ্চল থেকে। এক সময় পশুখাদ্যের জোগান সহজ হওয়ায় শুধু জয়পুরহাটেই প্রায় ৬৫ হাজার ৭৬৪টি ডেইরি ফার্ম গড়ে উঠেছিল। কিন্তু বর্তমান সংকটে অনেকেই খামার বন্ধ করে দিয়েছেন।

জয়পুরহাট ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাদমান জয় রায়হান বলেন, "খামারে যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়, তা কৃষি খাতে নেওয়ার দাবি আমাদের দীর্ঘদিনের। কিন্তু সরকার এখনো তা বাস্তবায়ন করেনি। ফলে খামারিরা মারাত্মক অর্থনৈতিক চাপে রয়েছেন।" সম্ভাবনাময় এই খাতকে বাঁচাতে দ্রুত সরকারি নজরদারি ও সহায়তার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

চাহিদার তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি পশু:
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবার দেশের প্রায় প্রতিটি জেলাতেই চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত পশু প্রস্তুত রয়েছে। ফলে বিদেশি গরুর ওপর দেশের নির্ভরতা নেই বললেই চলে।

পাবনার বেড়া উপজেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা ৪০ হাজার ১১০টি। এর বিপরীতে প্রস্তুত রয়েছে ৯২ হাজার ১২০টি পশু। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত পশু আছে প্রায় ৫২ হাজার, যা দ্বিগুণেরও বেশি।

জয়পুরহাট জেলায় ৩ লাখ ২৬ হাজার পশু প্রস্তুত থাকলেও স্থানীয় চাহিদা মাত্র ২ লাখ। এখানেও ১ লাখ ২৩ হাজার পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে।

এছাড়া সাতক্ষীরায় ১৮ হাজার এবং ভৈরবে ১২ হাজার পশু উদ্বৃত্ত আছে। এছাড়া শেরপুরের পাহাড়ি অঞ্চলে প্রাকৃতিকভাবে লালন-পালন করা গরুর ভালো চাহিদা লক্ষ্য করা গেছে।

ভারতীয় গরু অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর প্রশাসন:
চাহিদার তুলনায় দেশি গরুর জোগান বেশি থাকায় খামারি ও ব্যাপারীদের বড় ভয় সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরুর অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ে। পাবনার বেড়া এলাকার ব্যাপারী পরেন ও মাসুদ মণ্ডল জানান, এমনিতেই বাজারে জোগান বেশি, তার ওপর ভারতীয় গরু এলে বাজারে ধস নামবে।

তবে এ বিষয়ে আশ্বস্ত করেছে স্থানীয় প্রশাসন ও মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি বগুড়ায় এক সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রতিবেশী রাষ্ট্র থেকে অবৈধভাবে গবাদিপশু প্রবেশ রোধে বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দিয়েছেন।

জয়পুরহাট ও সাতক্ষীরার জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পশু অনুপ্রবেশের কোনো ঘটনা এখন পর্যন্ত ঘটেনি এবং দেশীয় খামারিরা যাতে পশুর ন্যায্য মূল্য পান, সে লক্ষ্যে প্রশাসন সম্পূর্ণ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

জাতীয়

সর্বশেষ খবর

জার্মান রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে স্পিকারের সাক্ষাৎ, গণতন্ত্র পুনর্গঠনের আশ্বাস

এশিয়ান গেমস উপলক্ষে জাপানে গেলেন সেনাপ্রধান

সিলেটে রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা বয়কট করল মহানগর বিএনপি

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চ্যানেল ওয়ানের সাংবাদিকের অ্যাক্রেডিটেশন বাতিল

শাহজালাল মাজার জিয়ারত করলেন রাষ্ট্রপতি

ওবায়দুল কাদেরের মৃত্যুদণ্ড

ইউপি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা ইসির,, ‘সরকার কিছু জানে না’ বললেন প্রতিমন্ত্রী

ফ্যামিলি কার্ড চালুই হয়নি, আগেই ৫০০ টাকা!

সর্বাধিক পঠিত

আজ স্বাধীনতা পদক হস্তান্তর করবেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধান উপদেষ্টা তাঁর আগের পেশায় ফিরে যাবেন: আলী রীয়াজ

স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, এটি মৌলিক অধিকার: জুবাইদা রহমান

বিগত নির্বাচনে ইসলামের স্বার্থে আমরা সমঝোতা ত্যাগ করেছিলাম

স্থানীয় নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করতে চায় ইসি

অনুমোদন ছাড়া স্লিপার বাস সড়কে চলবে না: হাইকোর্ট

ড্রোন নির্মাণে চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিমান বাহিনীর চুক্তি

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তির বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে রিট

নতুন পে স্কেল নিয়ে সচিব কমিটির বৈঠক আজ, আলোচনায় যেসব ইস্যু

নির্বাচন কাভার করতে ঢাকায় ৪০ পাকিস্তানি সাংবাদিক