চলছে ঢাকা লিগের খেলা। গতকাল সকালেও দলের সঙ্গে বিকেএসপিতে খেলতে যান ঘরোয়া ক্রিকেটের পরিচিত মুখ অমিত মজুমদার। ডিপিএলের এবারের আসরে রূপগঞ্জ টাইগার্সের হয়ে খেলছিলেন তিনি। গতকালও ছিলেন মূল একাদশে। তবে ম্যাচ শেষ করে টিম বাস ধরার পর তিনি এবং তার দল জানতে পারেন, সব ধরনের ক্রিকেটীয় কার্যক্রম থেকে সাময়িক নিষিদ্ধ হয়েছেন।
বিপিএল ফিক্সিং এবং বেটিং কাণ্ডে অমিতের সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন নোয়াখালী এক্সপ্রেস এবং চট্টগ্রাম রয়্যালসের ৪ জন কর্মকর্তা। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় অমিত, কারণ ৫ জনের মধ্যে সরাসরি ক্রিকেটার হিসেবে তিনি একাই দুর্নীতিবিরোধী এই কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন।
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের চলমান আসরে রূপগঞ্জ টাইগার্সের দলে ছিলেন অমিত মজুমদার। ম্যাচ শেষে টিম বাসে ওঠার পর গণমাধ্যমের বরাতে বিষয়টি জানতে পারেন রূপগঞ্জ টিম ম্যানেজমেন্ট। পরবর্তীতে সিসিডিএমের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দলটিকে চিঠি দেওয়া হয়।
রূপগঞ্জ টাইগার্সের একটি সূত্র ঢাকা পোস্টকে জানিয়েছে, বর্তমানে দলটির সব ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে অমিতকে। এমনকি দলটির হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকেও বাদ দেওয়া হয়েছে তাকে। দুর্নীতিবিরোধী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বিসিবিকে পূর্ণ সহযোগিতা করতে চায় বলেও জানিয়েছে দলটি।
তবে যেই অমিতকে নিয়ে এত কাণ্ড, তিনি অবশ্য সরাসরি ম্যাচ ফিক্সিংয়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। বিসিবির দেওয়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিসিবির দুর্নীতিবিরোধী ২.২.১ ধারা লঙ্ঘন করেছেন অমিত। ধারাটি হলো- ক্রিকেট ম্যাচের ফলাফল, অগ্রগতি বা অন্য যে কোনো বিষয়ের ওপর বাজি ধরা।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, বিপিএলের কোনো এক আসরের ম্যাচে বাজি ধরেছিলেন অমিত। বিসিবির ঘরোয়া ক্রিকেটার হিসেবে তালিকাভুক্ত থাকায় ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের নজরে আসে সেটা। ইতোমধ্যে বিসিবির ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের কাছে দোষ স্বীকারও করেছেন তিনি।
৩৫ বছর বয়সী অমিত একসময় বাংলাদেশ ক্রিকেটের সম্ভাবনাময় এক তরুণ হিসেবে বিবেচিত হতেন। ২০০৮ এবং ২০১০, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। যুব ক্রিকেটে জিম্বাবুয়ে এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুটি সেঞ্চুরিও আছে অমিতের। একসময় জাতীয় দলের ভবিষ্যত ভাবা হলেও সিনিয়র পর্যায়ে কখনোই আসতে পারেননি অমিত। তবে নিয়মিত খেলছিলেন ঘরোয়া ক্রিকেটে। এবার সেখান থেকেও সাময়িক নিষেধাজ্ঞা পেলেন।







