বাগেরহাটের রামপালে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় বর–কনেসহ ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এ সময় আরও আহত হয়েছেন ১৫ জন। এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শোক জানিয়েছেন। তিনি শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে খোঁজখবর নিচ্ছেন। অন্যদিকে, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জলবায়ু, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকালে বাগেরহাটের মোংলা–খুলনা মহাসড়কের রামপাল উপজেলার বেলাইব্রিজ এলাকায় নৌবাহিনীর স্টাফবাস ও যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে এ হতাহতের ঘটে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। আহতদের উদ্ধার করে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
রামপাল থানার ওসি মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘মোংলা পৌরসভার বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক তার ছেলেকে বিয়ে দিয়ে খুলনার কয়রা এলাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে বিপরীত দিক দিয়ে দ্রুতগামী নৌবাহিনীর স্টাফবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটে। এদের মধ্যে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ৪ জন ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯ জন মারা যায়। এছাড়া আহত একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে সেখানে ভর্তি করা হয়েছে।’
তিনি জানান, নৌবাহিনীর স্টাফবাসের কমপক্ষে ১৪ জন আহত হয়েছে। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে যাদের নাম পাওয়া গেছে তারা হলেন মংলা পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, তার স্ত্রী আঞ্জুমান, ভাই সামিউল আলম (৪২), তিন ছেলে বর সাব্বির, ইমরান, আলামিন ও শ্যালিকার দুই মেয়ে পুতুল (২৩), ঐশী (২৮) এবং কনে পরিবারের কনে মার্জিয়া মিতু, (২৫) কনের ছোট বোন লামিয়া (১২) কনের নানি (৫৮)। এছাড়া মাইক্রোবাস চালক নাঈম শেখ (৩৬)।
রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুকান্ত কুমার পাল জানান, দুর্ঘটনায় ৪ জনের মরদেহ হাসপাতালে রয়েছে। আহত দুজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মেহেনাজ মোশাররফ বলেন, সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত হাসপাতালে ৯ জনের মরদেহ এসেছে। এর মধ্যে তিনজন শিশু, তিনজন নারী আর তিনজন পুরুষ। আরও একজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তার চিকিৎসা চলছে।







