রাজধানীর উত্তরায় ব্যতিক্রমধর্মী এক মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ‘ইচ্ছে পূরণ’ নামে নতুন এই কর্মসূচির মাধ্যমে ২৫ জন অসহায় মানুষকে দেওয়া হয়েছে নিজেদের পছন্দমতো কেনাকাটা করার সুযোগ। ঈদ সামনে রেখে আয়োজিত এ উদ্যোগে অংশ নিতে পেরে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
গতকাল শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর উত্তরা এলাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তর এর উদ্যোগে কর্মসূচিটির উদ্বোধন করা হয়। এতে সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ২৫ জন মানুষকে একটি নির্দিষ্ট মার্কেটে নিয়ে গিয়ে তাদের প্রয়োজন ও পছন্দ অনুযায়ী পোশাকসহ বিভিন্ন সামগ্রী কেনার সুযোগ দেওয়া হয়।
আয়োজকদের ভাষ্য, সাধারণত দাতব্য কর্মসূচিতে নির্দিষ্ট প্যাকেট বা সামগ্রী বিতরণ করা হয়। কিন্তু ‘ইচ্ছে পূরণ’ কর্মসূচিতে উপকারভোগীরা নিজেরাই বেছে নিতে পারেন তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। এতে তারা নিজেদের সম্মান ও স্বাধীনতার সঙ্গে কেনাকাটা করার সুযোগ পান—যা অনেকের কাছে দীর্ঘদিনের অপূর্ণ ইচ্ছা পূরণের মতো অনুভূতি তৈরি করে।
কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন। তিনি বলেন, রাজনীতি শুধু ক্ষমতা বা ক্ষমতার প্রতিযোগিতার বিষয় নয়; বরং আর্তমানবতার সেবা এবং গণমানুষের কল্যাণে কাজ করার একটি বড় মাধ্যম। রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই যদি ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ায়, তবে সমাজে পরিবর্তন আনা সম্ভব।
‘ইচ্ছে পূরণ’ কর্মসূচির উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, সমাজের অসহায় ও প্রান্তিক মানুষ যেন মূলধারার মানুষের মতো ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনেক পরিবার আছে, যারা সারা বছর নানা কষ্টের মধ্যে দিন কাটায়। ঈদ এলেও তাদের পক্ষে নতুন পোশাক বা প্রয়োজনীয় জিনিস কেনা সম্ভব হয় না। এই বাস্তবতা থেকেই এমন কর্মসূচির পরিকল্পনা
সেলিম উদ্দিন আরও বলেন, মানুষকে শুধু নিজের স্বার্থে ডুবে থাকার জন্য পৃথিবীতে পাঠানো হয়নি। বরং মানবতার কল্যাণে কাজ করার দায়িত্বই মানুষের প্রকৃত দায়িত্ব। রাষ্ট্রেরও দায়িত্ব হলো সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ও অসহায় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখা। কিন্তু দেশে প্রকৃত কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত না থাকায় অনেক নাগরিকই রাষ্ট্রীয় সেবার বাইরে থেকে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হলে সমাজের সব স্তরে ইতিবাচক পরিবর্তন প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে দলটি।
মহানগর উত্তরের আমির জানান, এ কর্মসূচির আওতায় প্রথম ধাপে ২৫ জন অসহায় মানুষকে ইচ্ছেমতো ঈদের বাজার করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও এই উদ্যোগ আরও বড় পরিসরে চালিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি সমাজের বিত্তবান মানুষ, সামাজিক সংগঠন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিও আহ্বান জানান—ঈদকে কেন্দ্র করে যেন তারা প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ান। তাহলেই সমাজে সত্যিকার অর্থে আনন্দের ভাগাভাগি তৈরি হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও উত্তরা-পূর্ব অঞ্চলের পরিচালক জামাল উদ্দিন, উত্তরা-পূর্ব অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মাহবুবুল আলম, উত্তরা পূর্ব থানা আমির মাহফুজুর রহমান, উত্তরা ১ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার প্রার্থী মাহফুজার রহমান, তুরাগ মধ্য থানা নায়েবে আমির কামরুল হাসান এবং বদিউজ্জামাল বকুল।
আয়োজকদের মতে, ছোট ছোট মানবিক উদ্যোগই সমাজে বড় পরিবর্তনের পথ তৈরি করতে পারে—আর ‘ইচ্ছে পূরণ’ সেই প্রচেষ্টারই একটি সূচনা।







