এক নজরে অন্তর্বর্তী সরকারের সফলতা-ব্যর্থতা

Post Image

গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তবর্তী সরকারের মূল লক্ষ্য ছিল তিনটি—সংবিধানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার,জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ঠেকাতে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন।


চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় দেয়ালে দেয়ালে তরুণরা যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন এঁকেছিল, তার চেতনাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে জুলাই সনদ এবং ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করে প্রায় ১৩০টি নতুন আইন ও সংশোধন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। জারি করেছে প্রায় ৬০০ নির্বাহী আদেশ; যার প্রায় ৮৪ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে বলে বিদায়ী ভাষণে দাবি করেছেন প্রধান উপদেষ্টা।


গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারগুলোর মধ্যে আছে, বিচার বিভাগকে স্বাধীন করতে আলাদা সচিবালয় গঠন,বিচারক নিয়োগে স্বচ্ছ কাঠামো এবং দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনে সংস্কার।


এ ছাড়া, শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন আয়োজনকে ড. ইউনূসের সরকারের সফলতা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। যদিও, শেষ সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের করা নানা চুক্তির আইনি ও নৈতিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন আছে বিশ্লেষকদের।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের ক্ষমতাচ্যুত পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার মন্ত্রিসভার কয়েকজন মন্ত্রীর মৃত্যুদণ্ডসহ বিচারের রায় হয়েছে। বিচার নিয়ে মানুষের যে প্রত্যাশা, এই প্রত্যাশা নিয়ে তারা কার্যক্রম শুরু করতে পেরেছে।  


আমানত শূন্য ব্যাংক খাত আর ১৫ বিলিয়নের নিচে নামা রিজার্ভকে, দেড় বছরে ৩২ বিলিয়ন ডলারে তুলে এনেছে ইউনুস সরকার। এটিকে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন বললেও, অর্থনীতিবিদের মতে দেশের অর্থনীতি এখনো পুরোপুরি ঘুরে দাড়ায়নি। বরং দারিদ্র্য বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরি বলেন, কিছুটা হলেও অগ্রগতি একটা হয়েছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাকের বৈদেশিক রিজার্ভ বেড়েছে। স্বল্প আয়ের জনগোষ্ঠী যারা তাদেরকে যে দুর্দশার মধ্যে ফেলছিল, সেই দুর্দশা রোধে মূল্যস্ফীতি কমাতে অন্তর্বর্তী সরকার সক্ষম হয়নি।   


অন্তবর্তী সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও মব সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ ছিলো মানবাধিকার সংগঠনগুলোর। আর শেষ সময়ে হাদি হত্যা এবং অপরাধীকে না পারায় সমালোচনা কুড়িয়েছে ইউনূস প্রশাসন।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের  বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী বলেন, হাদি হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে যত হত্যাকাণ্ড আছে, এগুলোকে কানেক্ট করতে হবে একটা সূত্রে, যে এগুলোর পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র ছিল কি না। সরকারের গাফলতি যদি থাকে, তাহলে মানুষের সন্দেহ আরও বাড়বে। 


সফলতা আর ব্যর্থতার দেড় বছর শেষে, অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশকে রেখে গেলো রাজনৈতিক সরকারের হাতে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সংস্কার ও নতুন বাংলাদেশ গড়ার তারা কতখানি এগিয়ে নেয়, সামনের দিনে সেদিকে নজর থাকবে অনেকের।

এই বিভাগের আরও খবর

জাতীয়

সর্বশেষ খবর

ঢাকার তাপমাত্রা নিয়ে দুঃসংবাদ দিল আবহাওয়া অফিস

১৫ দিনের মধ্যে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হবে : পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

এক নজরে অন্তর্বর্তী সরকারের সফলতা-ব্যর্থতা

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক হলেন ডা. মনোয়ারুল কাদির বিটু

পরিবহনে চাঁদাবাজিকে ‘সমঝোতা’ বলে কি বৈধতা দিলেন সরকার

ফেব্রুয়ারির ১৮ দিনে ২ বিলিয়ন ছাড়াল রেমিট্যান্স

১৮ কোটি মানুষের পক্ষে দাঁড়াবে জামায়াত: শফিকুর রহমান

ঢাকার প্রধান সড়কে অটোরিকশার অবাধ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে: সড়কমন্ত্রী

সর্বাধিক পঠিত

হাদির মাথায় জটিল অপারেশনের শেষ চেষ্টা চলছে

লটারির মাধ্যমে কুমিল্লার ১৮ থানায় নতুন ওসি

মোবাইল নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে ইসি

দেশের বাস্তবতায় নির্বাচন করতে ১০-২০ কোটি টাকা লাগে: আসিফ মাহমুদ

৪ লাখ ৭২ হাজারের বেশি প্রবাসীর ভোটদান সম্পন্ন

নিবন্ধিত দলগুলোর মধ্যে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না ৯ দল

ফের জামায়াত আমির নির্বাচিত হলেন শফিকুর রহমান

দেশে পৌঁছেছে ৪ লাখ ২২ হাজার প্রবাসীর ব্যালট

ফেব্রুয়ারির ১৮ দিনে ২ বিলিয়ন ছাড়াল রেমিট্যান্স

একই দিনে দুই ভোটের তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট