সরকারি চাকরিতে নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও তা ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকরের দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভরত সরকারি কর্মচারীদের ওপর টিয়ারগ্যাস, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে আন্দোলনকারীরা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার দিকে মিছিল নিয়ে অগ্রসর হলে শাহবাগ ও আশপাশের এলাকায় দফায় দফায় পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় কয়েকজন আন্দোলনকারী আহত হয়েছেন।
সকাল থেকে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের ব্যানারে সমাবেশ শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। সমাবেশ শেষে বেলা ১১টার দিকে তারা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শাহবাগের দিকে রওনা হলে পুলিশ প্রথমে সেখানে তাদের বাধা দেয়। এক পর্যায়ে আন্দোলনকারীরা ও পুলিশ মুখোমুখি অবস্থানে চলে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে। এতে তারা সাময়িকভাবে ছত্রভঙ্গ হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই আবার সংগঠিত হয়ে যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা চালান।
পরে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে আবারও পুলিশ তাদের গতিরোধ করে। এ সময় পুলিশ দফায় দফায় টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়। কাঁদানে গ্যাসে আশপাশের এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। তবুও আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড উপেক্ষা করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং যমুনার সামনে অবস্থান নেন। সর্বশেষ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ডিএমপি কমিশনারের উপস্থিতিতে পুলিশ আবারও অ্যাকশনে যায়।
দফায় দফায় টিয়ারগ্যাস ও জলকামান ব্যবহারের ফলে কয়েকজন আন্দোলনকারী আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে যেতে দেখা গেছে। পরিস্থিতির কারণে বাংলামোটর থেকে শাহবাগমুখী সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং পুরো এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।
আন্দোলনকারীরা এ সময় ‘আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’, ‘অফিস না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ’, ‘অবিলম্বে পে স্কেল, দিতে হবে দিয়ে দাও’ এবং ‘যমুনারে যমুনা, পে স্কেল ছাড়া যাব না’ এমন নানা স্লোগানে এলাকা মুখরিত করে তোলেন।
আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, নবম পে-স্কেলের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও সরকার এখনো প্রজ্ঞাপন জারি করছে না। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অফিস সহকারী বোরহান উদ্দিন বলেন, নবম পে স্কেল তাদের দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবি। তিনি অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দলের আপত্তির কারণে সরকার গেজেট প্রকাশে গড়িমসি করছে, যা তারা কোনোভাবেই মেনে নেবেন না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।
এর আগে দাবি আদায়ে সরকারি কর্মচারীরা টানা তিন দিন প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করেন। এরপর বৃহস্পতিবার চার ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করা হয়। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত সারাদেশে সব সরকারি, আধা সরকারি এবং পে-স্কেলের আওতাভুক্ত অফিসে চার ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করা হয়। আজকের কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানীতে বড় জমায়েতের ঘোষণা দিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে যমুনার সামনে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচিও চলমান রয়েছে। জাতিসংঘের অধীন শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে ওই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। ফলে যমুনা এলাকা ঘিরে একাধিক আন্দোলনের কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।







