আল্লাহর সাক্ষাতের প্রস্তুতি নিতে হবে যেভাবে

Post Image

মানুষের জীবন থেমে থাকে না। জন্মের পর থেকে প্রতিটি মানুষ এগিয়ে চলে এক অনিবার্য গন্তব্যের দিকে। সুখ–দুঃখ, সফলতা–ব্যর্থতা, হাসি–কান্না—সবকিছু মিলিয়ে জীবন যেন এক নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম; কিন্তু এই ছুটে চলার শেষ কোথায়? কুরআন আমাদের জানিয়ে দেয়— এই পরিশ্রমের শেষ গন্তব্য হলো রবের সাক্ষাৎ। মানুষ চাইলেও এ সাক্ষাৎ এড়াতে পারে না; বরং প্রতিটি নিঃশ্বাস তাকে সেই সাক্ষাতের আরও কাছাকাছি নিয়ে যায়।

আয়াতের ঘোষণা: রবের দিকে অবশ্যম্ভাবী যাত্রা

আল্লাহ তাআলা বলেন—

يَا أَيُّهَا الْإِنسَانُ إِنَّكَ كَادِحٌ إِلَىٰ رَبِّكَ كَدْحًا فَمُلَاقِيهِ

‘হে মানুষ! নিশ্চয়ই তুমি তোমার রবের দিকে পৌঁছতে কঠোর পরিশ্রমে রত থাকবে; অতঃপর তুমি তার সাক্ষাৎ পাবে।’ (সুরা আল-ইনশিকাক: আয়াত ৬)

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা সমগ্র মানবজাতিকে সম্বোধন করেছেন। এখানে ‘কাদহ’ (كَدْحًا) শব্দটি গভীর অর্থ বহন করে— যার অর্থ হলো ক্লান্তিকর চেষ্টা, অবিরাম সংগ্রাম। অর্থাৎ মানুষের পুরো জীবনই এক ধরনের পরিশ্রম, যা শেষ পর্যন্ত তাকে আল্লাহর সামনে দাঁড় করাবে।

রবের সাক্ষাৎ: অবিশ্বাসী ও বিশ্বাসীর পরিণতি ভিন্ন

রবের সাক্ষাৎ সবার জন্য অবধারিত হলেও এর ফলাফল সবার জন্য এক নয়। যারা ঈমান ও নেক আমলের জীবন যাপন করে, তাদের জন্য এ সাক্ষাৎ হবে শান্তি ও সম্মানের। আর যারা আল্লাহকে অস্বীকার করে, তাদের জন্য তা হবে ভয়াবহ হিসাবের দিন। আল্লাহ তাআলা বলেন—

مَنْ كَانَ يَرْجُو لِقَاءَ اللَّهِ فَإِنَّ أَجَلَ اللَّهِ لَآتٍ

‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সাক্ষাতের আশা রাখে—নিশ্চয়ই আল্লাহ নির্ধারিত সময় অবশ্যই আসবে।’ (সুরা আল-আনকাবুত: আয়াত ৫)

রবের সাক্ষাৎ কোনো কল্পনা নয়; বরং নিশ্চিত সত্য। এ আয়াতই মুমিনদের জন্য সেই সান্ত্বনা।

হাদিসের আলোকে রবের সাক্ষাৎ

নবীজি (সা.)-এর হাদিস আমাদের অন্তরের অবস্থার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। দুনিয়ার মোহে আচ্ছন্ন হৃদয় আল্লাহর সাক্ষাৎ ভয় পায়, আর ঈমানদার হৃদয় তা কামনা করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

مَنْ أَحَبَّ لِقَاءَ اللَّهِ أَحَبَّ اللَّهُ لِقَاءَهُ، وَمَنْ كَرِهَ لِقَاءَ اللَّهِ كَرِهَ اللَّهُ لِقَاءَهُ

‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সাক্ষাৎকে ভালোবাসে, আল্লাহও তার সাক্ষাৎকে ভালোবাসেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাক্ষাৎ অপছন্দ করে, আল্লাহও তার সাক্ষাৎ অপছন্দ করেন।’ (বুখারি ৬৫০৭)

রবের সাক্ষাতের প্রস্তুতি কীভাবে হবে?

কুরআন আমাদের জানিয়ে দেয়—রবের সাক্ষাতের প্রস্তুতি হলো ঈমান ও সৎকর্ম। আল্লাহ তাআলা বলেন—

فَمَنْ كَانَ يَرْجُو لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا

‘যে ব্যক্তি তার রবের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম করে এবং তার রবের ইবাদতে কাউকে শরিক না করে।’ (সুরা আল-কাহফ: আয়াত ১১০)

এই আয়াত রবের সাক্ষাতের বিষয়টি সুস্পষ্ট করে দেয় যে, নেক আমল ও খাঁটি তাওহিদই হলো সেই পাথেয়, যা মানুষকে রবের সম্মানজনক সাক্ষাতে পৌঁছে দেয়।

সর্বশেষ খবর

হজ শেষে অশ্রুসিক্ত নয়নে মক্কা ছাড়ছেন হাজিরা

কোরবানির পশু দিয়ে কি আকিকা দেওয়া যাবে?

‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখর মক্কা-মিনা

পবিত্র হজ শুরু, মিনায় যাচ্ছেন হজযাত্রীরা

ভাগে কোরবানি দিতে যে ৪টি বিষয় জানতে হবে

আজকের নামাজের সময়সূচি

জুমার দিনে মৃত্যুসহ ইসলামে ভালো মৃত্যুর ১২ আলামত

কোরবানির দিনগুলোতে হাঁস-মুরগি জবাই করা যাবে কি?