জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের প্যানেল বিজয়ী হওয়ার পর পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) আনন্দ মিছিলের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি তুষার মাহমুদ।
৭ জানুয়ারি (বুধবার) রাতের ওই ঘটনায় সংবাদ প্রকাশের পর ক্যাম্পাস ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার সৃষ্টি হলে ৮ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) তিনি দুঃখ প্রকাশ করে সাংবাদিকদের বলেন, জকসু নির্বাচনে শিবির প্যানেলের জয়লাভের খবরে সংগঠনের কিছু কর্মী আবেগের বশবর্তী হয়ে দলীয় স্লোগান দিয়েছেন। বিষয়টি সংগঠনের পক্ষ থেকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়েছে এবং যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন তাদের বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি ও নির্দেশনা দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে সংগঠনের অভ্যন্তরে সতর্কতা জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও বাস্তবে তা অনেক ক্ষেত্রে কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ব্যাক্তিবর্গসহ বিভিন্ন সংগঠনের নামে-বেনামে রাজনৈতিক তৎপরতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এ প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে রাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত যেন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবায়ন করা হয়।
এর আগে বুধবার রাতে স্বাধীনতা হলের সামনে থেকে শুরু হয়ে প্রধান ফটক পর্যন্ত শিবিরের মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে দলীয় স্লোগান ও মিছিলের অভিযোগে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন, বিশেষ করে ছাত্রদল ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান, শনিবার ক্যাম্পাস খোলার পর ঘটনাটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
শিবির সভাপতির প্রকাশ্য দুঃখ প্রকাশকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট মহল ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা আশা প্রকাশ করছে, ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসের শান্তিপূর্ণ ও রাজনীতিমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতে সকল ছাত্রসংগঠন আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।







