যুক্তরাষ্ট্রের এক সামরিক অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হয়েছেন। দেশটির সংবিধানের ২৩৩ ও ২৩৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের অস্থায়ী বা স্থায়ী অনুপস্থিতিতে ভাইস প্রেসিডেন্টই রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। সে অনুযায়ী শনিবার দেশটির বর্তমান দায়িত্ব নিয়েছেন নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। তিনি অর্থ ও তেলমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছিলেন। দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি।
তার দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষনার থেকে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেঠে কে এই ডেরসি রদ্রিগেজ?
সিএনএন -এর সূত্রের বরাতে জানা গেছে, মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস আটক হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদের বৈঠকে মাদুরো দম্পতির ‘তাৎক্ষণিক মুক্তি’ দাবি করেন এবং মার্কিন সামরিক অভিযানকে ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের ‘চরম লঙ্ঘন’ বলে নিন্দা জানান। একইসাথে ভেনেজুয়েলার জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানা।
কারাকাসে জন্মগ্রহণ করা ৫৬ বছর বয়সী ডেলসি রদ্রিগেজকে মাদুরোর ‘পূর্ণ আস্থাভাজন’ নেতা হিসেবে উল্ল্যেখ করা হচ্ছে। তিনি সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অব ভেনেজুয়েলা থেকে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেন। দুই দশকের বেশি সময় ধরে তিনি ‘চাভিসমো’ আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ নেতা। এ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজ; তাঁর মৃত্যুর পর ২০১৩ সালে নেতৃত্বে আসেন নিকোলাস মাদুরো।
ডেলসি রদ্রিগেজের ভাই জর্জে রদ্রিগেজ বর্তমানে জাতীয় পরিষদের সভাপতি। ডেলসি ২০১৩–১৪ সালে যোগাযোগ ও তথ্যমন্ত্রী এবং ২০১৪–১৭ সালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে মাদুরো সরকারের পক্ষে অবস্থান নেন এবং মানবাধিকার ও গণতন্ত্র নিয়ে ওঠা আন্তর্জাতিক সমালোচনার জবাব দেন।
বরন আগে ২০১৭ সালে তিনি সংবিধানিক জাতীয় পরিষদের সভাপতি হন। ২০১৮ সালে মাদুরো তাঁকে ভাইস প্রেসিডেন্ট নিয়োগ দেন। বিতর্কিত ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর ২০২৫ সালের ১০ জানুয়ারি শুরু হওয়া মাদুরোর তৃতীয় মেয়াদেও তিনি এ পদে ছিলেন। মাদুরো আটক হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত রদ্রিগেজ দেশটির প্রধান অর্থনৈতিক কর্তৃপক্ষ ও পেট্রোলিয়ামমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছিলেন।
এদিকে মাদুরো আটক হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন ডেলসি রদ্রিগেজ ওয়াশিংটনের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ দেখিয়েছেন। তবে এ বক্তব্যে বিশ্লেষকরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার ইঙ্গিত কিনা এ বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
তাঁদের মতে, ডেলসি রদ্রিগেজ কোনোভাবেই মাদুরোর ‘মধ্যপন্থী’ বিকল্প নন। জ্যাক ডি. গর্ডন ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক ইমদাত ওনার বলেন, “রদ্রিগেজ পুরো ব্যবস্থার অন্যতম কঠোর ও ক্ষমতাধর নেতা। তাঁর উত্থান সম্ভবত মাদুরো-পরবর্তী পরিস্থিতির জন্য কিছু আন্তর্জাতিক বোঝাপড়ার অংশ।”
তবে বিতর্ক পিছনে ঠেলে প্রতিক্রিয়ায় ডেলসি রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার কোনো ইঙ্গিত দেননি।বলে জানিয়েছেন। একইসাথে জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদের বৈঠকে আরও কড়া ভাষায় তিনি বলেন, “এ দেশে একজনই প্রেসিডেন্ট—তার নাম নিকোলাস মাদুরো মোরোস।”







