ছামিউল চৌধুরী, পাবিপ্রবিঃ পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) বয়স আঠারো। এই আঠারো বছর বয়সে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ২১টি বিভাগ খোলা হয়েছে কিন্তু এর মাত্র ১২টি বিভাগে অধ্যাপক আছে, বাকী ৯টি বিভাগে কোন অধ্যাপক নেই। বিভিন্ন সময়ে প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপক নিয়োগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত সরাসরি অধ্যাপক পদে কাউকে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনা ঘটেনি। ফলে অভিজ্ঞ শিক্ষকের কৌশলী পাঠদান, ভালো গবেষণা ও উন্নত পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ঘুরে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট শিক্ষক রয়েছেন ১৯৮ জন। এর মধ্যে অধ্যাপক রয়েছেন ২৫ জন। সহকারী অধ্যাপক রয়েছেন ৭৮ জন, সহযোগী অধ্যাপক রয়েছেন ৩৫ জন এবং প্রভাষক রয়েছেন ৬০ জন। এর মধ্যে মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের লোক প্রশাসন বিভাগ, ইংরেজি বিভাগ ও সমাজকর্ম বিভাগে কোন অধ্যাপক নেই। তবে ইতিহাস ও অর্থনীতি বিভাগে রয়েছে মাত্র ১ জন করে এবং বাংলা বিভাগে ২ জন অধ্যাপক রয়েছেন।
বিজ্ঞান অনুষদের গণিত বিভাগে রয়েছে ৩ জন, পদার্থবিজ্ঞানে ২ জন এবং পরিসংখ্যান বিভাগে ১ জন রয়েছেন। অন্যদিকে এই অনুষদের রসায়ন ও ফার্মেসি বিভাগে নেই কোন অধ্যাপক। ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে ব্যবসায় প্রশাসনের ৭ জন অধ্যাপক থাকলেও ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে কোন অধ্যাপক নেই। জীব ও ভূবিজ্ঞান অনুষদের একটি বিভাগ ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগেও কোন অধ্যাপক নেই।
প্রকৌশল অনুষদের স্থাপত্য বিভাগ এবং নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগে কোন অধ্যাপক নেই। তবে এই অনুষদের ইলেকট্রিকেল ও ইলেকট্রনিক কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইসিই) বিভাগে ৩ জন, ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগে ২ জন, কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগ, ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিই) বিভাগ এবং সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ১ জন করে অধ্যাপক রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত পরিমাণ অধ্যাপক না থাকায় উন্নত শিক্ষা ও গবেষণা ক্ষেত্রে অনেক বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের চাহিদা ও প্রয়োজন অনুযায়ী পরামর্শ পাচ্ছেন না। তাদের গুরুত্বপূর্ণ কাজে বিঘ্ন ঘটে। ফলে বিভিন্ন দেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন বাঁধার সম্মুখীন হতে হয়। যা বিদেশে উচ্চ শিক্ষা গ্রহনের ক্ষেত্রে অনেক বিঘ্ন সৃষ্টি করছে।
ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. নাঈম হাসান বলেন, 'আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক সংখ্যা খুবই কম। আমরা গুনগত মান অনুযায়ী শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি না। আমাদের গবেষণা ক্ষেত্রেও অসুবিধার সম্মুখীন হই। পর্যাপ্ত পরিমান পরামর্শ পাওয়া যায় না। আমরা চাই যেন আমাদের অভিজ্ঞ শিক্ষক থাকেন এবং সব সুযোগ সুবিধা পাই।'
কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শেখ সিফাত বলেন, 'একজন অধ্যাপক শিক্ষার্থীদেরকে গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করতে সহায়তা করে। তার সমৃদ্ধ জ্ঞানকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দেয়। আমাদের প্রত্যাশা প্রতিটি বিভাগে যেন প্রয়োজন অনুযায়ী অধ্যাপক থাকেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে সমৃদ্ধশালী জ্ঞান চর্চার কেন্দ্র তৈরি করে। আমদের বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক সংখ্যা খুবই কম, অভিজ্ঞ শিক্ষক কম। যার ফলে আমাদের সবসময় পিছিয়ে থাকতে হয়। আমরা চাই যেন তাড়াতাড়ি এই বিষয়গুলো সমাধান হয়।'
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বিজন কুমার ব্রহ্ম বলেন, 'আমরা এর আগে অধ্যাপকের জন্য অনেকগুলো নিয়োগ দিয়েছি কিন্তু এই পদের জন্য তেমন কেউই আবেদন করেনা। ফলে দেখা যায় নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে আমাদের শিক্ষকরাই অধ্যাপক হয়ে যাচ্ছেন। মোটামুটি সবগুলো বিভাগেই ঐ বিভাগের শিক্ষকরাই অধ্যাপক হয়েছেন। যে বিভাগগুলো বাকী আছে সেগুলোতেও পর্যায়ক্রমে অধ্যাপক হয়ে যাবে।'







