ঈমান আকিদা সংরক্ষণ কমিটি ট্রানজেন্ডারবান্ধব শ্রম আইন বাতিল, কাদিয়ানি সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা ও হিজবুত তাওহীদকে নিষিদ্ধ করা সহ সাত দফা দাবি জানিয়েছে।আজ মঙ্গলবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত জাতীয় উলামা মাশায়েখ কনভেনশন থেকে সরকারের কাছে এসব দাবি জানানো হয়।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-মহান আল্লাহ, রাসুল (সা.), পবিত্র কুরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাস করা। কুরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোন আইন পাস না করা; শিক্ষার প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলাম ধর্ম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা; জাতীয় শিক্ষা সিলেবাসে ধর্মশিক্ষা বইয়ে নবী ও সাহাবীদের জীবনচরিত বিষয়ে লেখা সংযুক্ত করা; জাতীয় সংসদে পাশ হওয়া শ্রম আইন থেকে ট্রান্সজেন্ডারের শব্দগুলো বাতিল করে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগষ্ঠির চিন্তা চেতনার আলোকে দ্বি-লিঙ্গ নীতি ঘোষণা করা এবং জাতীয় পর্যায়ে মুসলিম পারিবারিক ও পার্সোনাল সংক্রান্ত বিষয়ে হাইকোর্টে স্বতন্ত্র শরিয়াহ ব্যাঞ্চ গঠন করা।
মাওলানা আব্দুল আউয়ালের সভাপতিত্বে এবং মুফতি সুলতান মহিউদ্দীন ও মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজীর যৌথ পরিচালনায় কনভেনশনে প্রধান অতিথি হিসেবে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর অনুপস্থিতিতে তার বক্তব্য পাঠ করে শোনানো হয়।
এতে বলা হয়, বর্তমান সময়ে আমাদের ঈমান-আকিদা, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। এ অবস্থায় কুরআন-সুন্নাহর আলোকে সঠিক আকিদা সংরক্ষণ, বিভ্রান্তিকর মতাদর্শ সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা এবং দেশের সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ রক্ষায় ওলামায়ে কেরামের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, কাদিয়ানিদের অমুসলিম হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে ঘোষণা করা এবং সাধারণ মুসলমানদের তাদের ঈমান বিধ্বংসী প্রচারণা থেকে রক্ষা করা সময়ের দাবি। ইসলামের সঠিক ভাবমূর্তি ও সালাফে সালেহীনের পথকে অক্ষুণ্ণ রাখতে মওদূদীবাদের মতাদর্শিক ভুল ও বিভ্রান্তি সম্পর্কেও উম্মাহকে সতর্ক থাকতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমান বলেন, হিজবুত তাওহীদ দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত ও বিভ্রান্তিকর মতবাদ প্রচারের মাধ্যমে মুসলিম সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।
এ বিষয়ে তদন্তসাপেক্ষে সংগঠনটির কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা আব্দুল আউয়াল বলেন, ইসলামী মূল্যবোধ ও সাংবিধানিক অধিকার সমুন্নত রেখে সমাজে নৈতিকতা, শালীনতা ও পারিবারিক মূল্যবোধ রক্ষায় রাষ্ট্রকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকিদা-বিশ্বাস সংরক্ষণে জাতীয়ভাবে গণসচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
কনভেনশনে প্রধান আলোচক হিসেবে আলোচনা করেন ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম। বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন পাকিস্তানের মাওলানা ইলিয়াস গুম্মান।
আরও বক্তব্য দেন, আল্লামা নুরুল ইসলাম ওলিপুরী, মাওলানা আব্দুল হামিদ পীর সাহেব, মাওলানা মহিউদ্দিন রাব্বানী, মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, মুফতি মোহাম্মদ আলী, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা মাহবুবুল্লাহ কাসেমী, মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী, মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মুফতি আবু সাঈদ নোমান, মুফতি জাবের কাসেমী প্রমুখ।







