অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল ঘিরে ওঠা অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেওয়া একটি বিজ্ঞপ্তি কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিবর্তন করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। প্রথম বিজ্ঞপ্তিতে অতিরিক্ত বিল নিয়ে 'মিথ্যা তথ্য' ছড়ালে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল। তবে কয়েক ঘণ্টা পর সেই অংশ বাদ দিয়ে নতুন একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
সোমবার (৩ আগস্ট) বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের দাবি, এ পর্যন্ত অতিরিক্ত বিল সংক্রান্ত যত অভিযোগ পাওয়া গেছে, তার সবকটিই বিদ্যুৎ বিভাগ এবং দেশের বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো ইতিমধ্যে সমাধান করেছে।
এর আগে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে অতিরিক্ত বিল নিয়ে 'মিথ্যা তথ্য' বা 'অপপ্রচার' চালালে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল; পরবর্তীতে সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে সেই অংশটি বাদ দিয়ে কেবল প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিদ্যুৎ বিভাগ গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে জানিয়েছে, যদি কোনো গ্রাহক মনে করেন তার বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিকভাবে বেশি এসেছে, তবে তিনি যেন প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জমা দেন। প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হবে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একই সঙ্গে, এই ইস্যু নিয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি না ছড়াতে এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং বিচ্ছিন্নভাবে কিছু গ্রাহকের পক্ষ থেকে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল আসার অভিযোগ ওঠার প্রেক্ষিতে এই স্পষ্টীকরণ দিল বিদ্যুৎ বিভাগ।
বিদ্যুৎ বিল নিয়ে কেন এমন জটিলতা তৈরি হয়েছিল, সে বিষয়ে বিদ্যুৎ খাতের কর্মকর্তারা ইতিপূর্বে বেশ কিছু কারণ জানিয়েছিলেন। এর মধ্যে রয়েছে: মিটারে না দেখে আনুমানিক রিডিং দেওয়া, মিটারের তথ্য সিস্টেমে আপডেট করতে বিলম্ব, বিলিং চক্রের সমন্বয় অথবা গ্রীষ্মকালে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে বিল বেশি আসা।
বিদ্যুৎ বিভাগ বলেছে, যাচাই না করে সামাজিক মাধ্যমে কোনো দাবি না তুলে প্রকৃত অভিযোগ থাকলে গ্রাহকদের উচিত আনুষ্ঠানিক অভিযোগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা।
এমন পরিস্থিতিতেই প্রথমে কঠোর আইনগত ব্যবস্থার সতর্কবার্তা দিয়ে পরে সেটি প্রত্যাহার করে সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিদ্যুৎ বিভাগ।







