আজ ৩০ জুলাই আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব দিবস

Post Image

বিশ্বব্যাপী আজ ৩০ জুলাই (বৃহস্পতিবার) পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব দিবস। বৈশ্বিক শান্তি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সংহতি এবং মানবিক সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে জাতিসংঘ ঘোষিত এই দিবসটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিত হচ্ছে।

ব্যক্তি থেকে সমাজ, সমাজ থেকে বিশ্ব- সম্পর্কের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করার আহ্বানই দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য।

বর্তমান বিশ্বে সংঘাত, বিভাজন ও বৈষম্যের নানা বাস্তবতার মধ্যে বন্ধুত্বের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বন্ধুত্ব এখন শুধু দুই বা ততোধিক মানুষের ব্যক্তিগত সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং জাতি, ধর্ম, ভাষা ও ভৌগোলিক সীমারেখা অতিক্রম করে একটি সহনশীল, শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতিময় বিশ্ব গঠনের অন্যতম ভিত্তি হয়ে উঠেছে মানুষের সঙ্গে মানুষের এই আত্মিক বন্ধন।

জাতিসংঘের বার্তায় বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব দিবসের মূল লক্ষ্য হলো বিভিন্ন জনগোষ্ঠী ও সংস্কৃতির মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি, সংঘাত হ্রাস এবং ইতিবাচক সমাজ প্রতিষ্ঠায় মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্মকে সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা, মানবাধিকার সুরক্ষা, নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠা এবং শিক্ষা ও জ্ঞানের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করার প্রতিও বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষকে আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি সংযুক্ত করলেও, আন্তরিকতা ও মানসিক দূরত্বের কারণে অনেক সম্পর্কই দুর্বল হয়ে পড়ছে। আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব দিবস সেই হারিয়ে যেতে বসা আস্থা, আন্তরিকতা ও সহমর্মিতাকে নতুন করে জাগিয়ে তোলার আহ্বান জানায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দিবসটি উদযাপনে বড় কোনো আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন নেই। পুরোনো কোনো বন্ধুকে একটি ফোনকল, হাতে লেখা একটি চিঠি, সমাজসেবামূলক উদ্যোগে অংশগ্রহণ কিংবা নতুন কোনো মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার আন্তরিক চেষ্টা- এমন ছোট ছোট উদ্যোগই ব্যক্তি ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ তৈরি করতে পারে।

আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব দিবস উপলক্ষে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ মানবিক বৈচিত্র্যকে উদযাপনের পাশাপাশি আরও সুন্দর, বাসযোগ্য ও শান্তিময় পৃথিবী গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছেন।