প্রধানমন্ত্রীর ভোজে সৈনিক লীগ নেতা, তোলপাড়

Post Image

চব্বিশের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ছিলেন ‘বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ’র চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক। গলা ফাটিয়ে শেখ মুজিবের বন্দনা করেছেন। আওয়ামী লীগ নেতা এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, আ জ ম নাসিরদের সঙ্গে ছিল মাখামাখি। ক্ষমতার দাপটে মদ্যপ অবস্থায় চট্টগ্রামের ‘আফতাব কনকর্ড’ অ্যাপার্টমেন্টে বাসিন্দাদের লাঞ্ছিত করে হয়েছেন মামলার আসামি। ঢাকার মতিঝিল থানায় তালিকাভুক্ত ইয়াবা কারবারি।

আবার অবস্থা বুঝে ঢাকাকেন্দ্রিক ভুঁইফোঁড় সাংবাদিক ক্লাবের কথিত নেতা। ভিজিটিং কার্ডে পত্রিকার উপ-সম্পাদক, নির্বাহী সম্পাদক। কখনো লেখক, টিভি উপস্থাপক, কখনো

মানবাধিকার সংগঠনের প্রভাবশালী পদধারী। এই গুণধর ব্যক্তির নাম মো. কামাল উদ্দিন। তাকেই দেখা গেল যমুনায় প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজে। মিত্র দলের শীর্ষ নেতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে করমর্দনের ছবি প্রকাশ করলেন।

বহুরূপী এই কামাল চট্টগ্রামে সিন্ডিকেট ও দখলদারিত্বের কারণে পরিচিত ‘ব্যাটারি কামাল’ নামে পরিচিত। সেই চিহ্নিত আওয়ামী সুবিধাভোগী ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান আন্দোলনের বিপক্ষে থেকেও রাতারাতি খোলস পাল্টে ঢুকে গেছেন খোদ রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায়! গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাই-প্রোফাইল বৈঠক ও নৈশভোজে মো. কামাল উদ্দিনের সরাসরি উপস্থিতি এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল করমর্দনের ছবি প্রকাশ্যে আসতেই এখন তোলপাড় চলছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোতে। প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়সহ রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা হচ্ছে। আওয়ামী জমানায় রাজপথে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া ও ফ্যাসিবাদের বন্দনা করা এই লোক কীভাবে প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সংবেদনশীল ভবনে পৌঁছালেন—তা নিয়ে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থাসহ নিরাপত্তা মহলগুলোতে তীব্র চাঞ্চল্য ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি... দীর্ঘ ২১ বছর পর উনার সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা যদি ক্ষমতায় না আসতেন, আজকে আমরা এইভাবে জাতির জনকের কথা বলতে পারতাম না’Ñ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ফুটেজে একসময় এমন আবেগঘন ও জ্বালাময়ী কণ্ঠে স্বৈরাচারের বন্দনা করা লোকটির নাম মো. কামাল উদ্দিন। আওয়ামী লীগ আমলে তিনি ছিলেন শেখ মুজিব ও শেখ হাসিনার একনিষ্ঠ ও অন্ধ অনুসারী। রাজপথে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া থেকে শুরু করে ‘বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ’-এর চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়কের পদ বাগানো—কোনোটাতেই কমতি ছিল না তার। কখনো সাংবাদিক, কখনো কলামিস্ট, আবার কখনো নাগরিক সংগঠনের নেতা পরিচয়ে সুবিধা লুটেছেন দেদারসে। এমনকি চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে যখন রাজপথে সাধারণ শিক্ষার্থীদের রক্ত ঝরছিল, তখনও তিনি হাসিনার পক্ষে মিছিল-মানববন্ধন করে ছাত্র আন্দোলন দমনের ডাক দিয়েছিলেন।

আমার দেশ-এর অনুসন্ধানে জানা গেছে, আওয়ামী শাসনামলে কামাল উদ্দিনের মূল পরিচয়ই ছিল ‘মুজিব ও হাসিনা বন্দনা’ এবং তৎকালীন বিরোধী দল বিএনপি-জামায়াতের প্রতি বিদ্বেষ। স্যোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিও, ছবি, পত্রপত্রিকার সংবাদসহ আওয়ামী আমলে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে সভা-সেমিনার, মানববন্ধন এবং রাজপথে বিক্ষোভ মিছিলÑসবকিছুতেই ছিলেন এই সৈনিক লীগ নেতা কামাল।

যমুনায় কামাল, তোলপাড়

গত সোমবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ৪১টি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা ও নৈশভোজ হয়। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি, ‘৩১ দফা’ রূপরেখা এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে শরিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার জন্য এই সভার আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক আলোচনার সব গুরুত্বকে আড়াল করে এখন মূল আলোচনায় চলে এসেছে সৈনিক লীগ নেতা কামালের উপস্থিতি। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পরপর জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা দ্রুত ঘটনা জানার পর নড়েচড়ে বসেছে অন্যান্য সংস্থাগুলোও। স্পর্শকাতর এই রাষ্ট্রীয় ভবনে ১৮৪ জন আমন্ত্রিত প্রতিনিধির তালিকায় এই কামালের নাম কীভাবে অন্তর্ভুক্ত হলো, তা নিয়ে তোলপাড় চলছে। প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে লুকিয়ে থাকা ফ্যাসিবাদের কোনো দোসর কিংবা কোনো রাজনৈতিক ছদ্মবেশীর মদতে তিনি ভেতরে ঢুকেছেন কি না, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।


গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, সরকারের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা কোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠী কি তাকে ‘ক্লিন ইমেজ’ দিয়ে ভেতরে ঢোকানোর সুযোগ করে দিয়েছে, নাকি নতুন সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার কোনো সুদূরপ্রসারী চক্রান্তের অংশ এটি—তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


কে এই ‘ব্যাটারি কামাল’


অনুসন্ধানে জানা যায়, চট্টগ্রাম মহানগর এলাকার আওয়ামী ঘরানার সুপরিচিত ও প্রভাবশালী সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত এই কামাল। চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর পরিবার, তার ছেলে বিগত আওয়ামী শিক্ষামন্ত্রী নওফেল চৌধুরী, সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনসহ আওয়ামী ও বাম বলয়ের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সঙ্গে তার ছিল গভীর ও দীর্ঘদিনের সখ্য। রাজনৈতিক পরিচয় ভাঙিয়ে তিনি নিজেকে বহু পরিচয়ে পরিচয় দিতেন। চট্টগ্রামে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের কারণে তাকে অনেকে ‘ব্যাটারি কামাল’ নামেও ডাকেন। ঢাকাকেন্দ্রিক নামসর্বস্ব একাধিক সাংবাদিক ক্লাবের নেতা, আবার কখনো সুবিধা নিতে মানবাধিকার সংগঠনের পদধারী বলেও নিজের ভুয়া পরিচয় জাহির করতেন। এ সংক্রান্ত একাধিক ভিজিটিং কার্ডও ব্যবহার করতেন তিনি, যেখানে নিজেকে ‘লেখক, সাংবাদিক ও টিভি উপস্থাপক’ হিসেবে দাবি করা হতো।


সর্বশেষ ২০২৪ সালের ১২ মার্চ কেন্দ্রীয় বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ অনুমোদিত ৩৬ সদস্যবিশিষ্ট চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে তার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। তিনি কেবল পদধারী নেতাই ছিলেন না, বরং বিগত দেড় দশকে চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের মাঠ পর্যায়ের একজন ক্যাডার ও নীতিনির্ধারকদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।


আমার দেশ-এর হাতে আসা একটি ভিডিও রেকর্ডিং এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বক্তব্যে তাকে চরম শেখ মুজিব ভক্ত হিসেবে আবেগঘন কণ্ঠে বলতে শোনা যায়Ñ ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি। তার নেতৃত্বের মাধ্যমেই এই দেশ ও জাতি বিশ্ববাসীর কাছে পরিচিতি লাভ করেছে এবং তিনি আমাদের একটি স্বয়ংসম্পন্ন রাষ্ট্র উপহার দিয়েছেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালো রাতে কিছু উচ্চাভিলাসী এবং পথভ্রষ্ট সামরিক কর্মকর্তার হাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনসহ নিহত হন। এই বিয়োগান্তক ঘটনায় নিহতদের আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে আমাদের বাঙালি জাতিকে হত্যা করেছে। আমাদের বাংলাদেশের পতাকাকে হত্যা করেছে। দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে উনার সুযোগ্য কন্যা দেশনেত্রী শেখ হাসিনা যদি ক্ষমতায় না আসত, আজকে আমরা এভাবে জাতির জনকের কথা বলতে পারতাম না।’


ইয়াবা ব্যবসা, মতিঝিল থানায় মামলা


রাজনৈতিক তোষামোদের আড়ালে এই সৈনিক লীগ নেতার অপরাধের জগত ছিল আরো বিস্তৃত। সংগৃহীত সরকারি নথিপত্র (পিসিপিআর) বিশ্লেষণ করে কামালের (পিতা- মৃত সফর মুল্লুক) বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে। ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসেবে চিহ্নিত কামালের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ৬ জুলাই ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের করা হয় (এফআইআর নং-০৫)। নথি অনুসারে, ৫৮ বছর বয়সি কামালের স্থায়ী ঠিকানা চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়।


জুলাই আন্দোলন নস্যাতের পাঁয়তারা


চব্বিশের জুলাইয়ে যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কার ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে নেমেছিলেন, তখন এই কামাল রাজপথে নেমেছিলেন আন্দোলন দমনে। ওই বছরের ১৬ জুলাই প্রকাশিত একাধিক নথিতে দেখা যায়, তিনি বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের ব্যানারে ‘কোটা বাতিলের নামে নৈরাজ্য বন্ধের আহ্বান’ জানিয়ে চট্টগ্রামে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলের সরাসরি নেতৃত্ব দেন। শুধু আন্দোলন দমনই নয়, ফ্যাসিবাদের শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে ছিল তার চরম সখ্য। শেখ মুজিবকে নিয়ে ‘সর্বনাশা আগস্ট ও বঙ্গবন্ধু’ এবং ‘বঙ্গবন্ধুর কথা’ শিরোনামে দুটি বইও রচনা করেন তিনি। এছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীর উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে তাকে সক্রিয় বক্তব্য দিতে দেখা গেছে। এমনকি সম্প্রতি ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আটকের পর পুলিশের ভূমিকা নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা বিতর্কিত পোস্ট দিয়েছিলেন এই কামাল।


মদ্যপ অবস্থায় তাণ্ডব


রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে কামালের উচ্ছৃঙ্খল আচরণের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। জানা গেছে, চট্টগ্রামের চটেশ্বরী রোডের ‘আফতাব কনকর্ড’ অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দা ছিলেন তিনি। সেখানে মদ্যপ অবস্থায় ভবনের বাসিন্দাদের ওপর অত্যাচার ও লাঞ্ছনার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।


নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ৩ মে রাত সোয়া ১১টার দিকে কামাল চরম মদ্যপ অবস্থায় ফ্ল্যাট কমপ্লেক্সে প্রবেশ করেন। তিনি নাম ধরে বাসিন্দাদের চরম অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। দায়িত্বরত নিরাপত্তা প্রহরীদের মারধর করার পাশাপাশি ভবনের পিএবিএক্স টেলিফোন সেট ও তার ছিঁড়ে ফেলেন। পরিস্থিতি শান্ত করতে এলে ফ্ল্যাট মালিক সমিতির নারী সহ-সম্পাদিকাকে শারীরিকভাবে আক্রমণ এবং কর্মকর্তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেন। ঘটনার ভয়াবহতায় ‘আফতাব কনকর্ড ফ্ল্যাট ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’-এর পক্ষে সাধারণ সম্পাদক একরামুল হক আকবর চট্টগ্রাম কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরবর্তীতে ফ্ল্যাট মালিক সমিতি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কামালকে কমপ্লেক্স থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছিল।


যমুনায় প্রবেশের পেছনের অনুঘটক


অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া গেছে, কামাল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় কোনো সাংবাদিক বা নাগরিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে যাননি; তিনি গিয়েছিলেন ‘গণদল’ নামে একটি নামসর্বস্ব দলের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে। তার নামে ইস্যু করা প্রবেশকার্ড বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঢাকা হাজারীবাগ থানার বাড়ৈখালী এলাকার রিভারভিউ আবাসিক এলাকার ১১ নম্বর রোডের ৬ নম্বর বাসার ‘স্বপ্ননীড়’ ভবনের ৬ডি ফ্ল্যাটের ঠিকানায় কার্ডটি ইস্যু করা হয়েছিল। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে গণদলের চেয়ারম্যান গোলাম মাওলা চৌধুরী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে আমার দেশকে বলেন, ‘কামাল উদ্দিন আমাদের দলের ভাইস চেয়ারম্যান। গত সোমবার জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন। কামালের সৈনিক লীগ পরিচয়ের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে গোলাম মাওলা দাবি করেন, ‘কামাল উদ্দিনকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিগত আওয়ামী সরকার চট্টগ্রাম মহানগর সৈনিক লীগের আহ্বায়ক বানিয়েছিল।’


এ বিষয়ে এনপিপির সাবেক নেতা ফরহাদ অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি।


আত্মপক্ষ সমর্থনের চেষ্টা


পুরো বিষয়টি নিয়ে কামালের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে আমার দেশ। কথোপকথনে নিজের অতীতে আওয়ামী তোষামোদের দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন তিনি। তবে তিনি আওয়ামী সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়া, দলীয় পদবি থাকা, হাসিনার জন্মদিনের বন্দনা এবং সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয়—জুলাই বিপ্লবের আন্দোলনের বিরুদ্ধে রাজপথে তার হাসিনার পক্ষের অবস্থানকে অস্বীকার করতে পারেননি।


রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া


এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিএনপির অভ্যন্তরে আলোচনার ঝড় উঠেছে। এ বিষয়ে বিএনপির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা, প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রী পদমর্যাদার একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলেছে আমার দেশ। কথা হয়েছে অঙ্গ সংগঠনের কেন্দ্রীয় একাধিক নেতার সঙ্গেও। বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় কেউই নাম উদ্ধৃত করে কথা বলতে রাজি হননি। তবে তাদের বক্তব্যের সার কথা হলোÑ দীর্ঘ দেড় দশক জেল, জুলুম ও মামলার শিকার হয়ে রাজপথে রক্ত দেওয়ার পর যদি সেই স্বৈরচারের দোসররা খোলস পাল্টে আমাদের নেতা, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে গিয়ে বসার সুযোগ পায়, একসঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেওয়ার বিষয়টি হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। এটি একদিকে লাখ লাখ নেতাকর্মীর ত্যাগ, হাজার হাজার নেতাকর্মীর রক্তসহ সার্বিকভাবে জিয়াউর রহমান ও মরহুমা খালেদা জিয়ার আপসহীন রাজনীতির সঙ্গে একেবারেই মানানসই নয়। এ ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাগত দিক থেকে অশনিসংকেত।


নেতারা বলছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে নস্যাৎ করতে ফ্যাসিবাদের দোসররা নতুন মোড়কে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায় এবং শরিক দলগুলোর ছায়াতলে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছে কি না তা খতিয়ে দেখা দরকার গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর। নেতারা বলছেন, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও শীর্ষ নেতৃত্বের নিরাপত্তায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোকে আরো বেশি সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। বিএনপি এবং এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—নিরাপত্তা তল্লাশি এবং নামের তালিকা যাচাই-বাছাই করার দায়িত্বে যারা ছিলেন, তাদের চোখের সামনে দিয়ে কীভাবে একজন চিহ্নিত সৈনিক লীগ নেতা প্রধানমন্ত্রীর সামনে যাওয়ার সুযোগ পেলেন? অনতিবিলম্বে ঘটনার সঠিক তদন্ত করে অনুপ্রবেশের নেপথ্যে থাকা কারিগরদের চিহ্নিত করার জোর দাবি উঠে এসেছে নেতাদের কথায়।

এই বিভাগের আরও খবর

জাতীয়

সর্বশেষ খবর

ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে জিয়া হত্যার আসামি মোজাফফরকে

চলতি মাসেই বিদায় নিচ্ছেন রাষ্ট্রপতি চুপ্পু

প্রধানমন্ত্রীর ভোজে সৈনিক লীগ নেতা, তোলপাড়

মাউশির সাবেক দুই ডিজিকে হাইকোর্টে তলব

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কোনো আগ্রহ যুক্তরাষ্ট্রের নেই: ট্রাম্প

ঢাকাসহ ১০ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা

পুলিশ প্রশাসনে রদবদল, বদলি হলেন ৬ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা

অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, আগস্টে তফসিলের প্রস্তুতি ইসির

সর্বাধিক পঠিত

জীবনে কোনো কিছুর জন্য কোনো আক্ষেপ নাই : তারেক

আপিল নামঞ্জুর হওয়ায় নির্বাচন করতে পারবেন না জামায়াত প্রার্থী

ইরানের পরমাণু স্থাপনা ধ্বংস না হওয়ার খবর আবারও নাকচ করলেন ট্রাম্প

আজ থেকে প্রাথমিক শিক্ষকদের ৩ দিনের কর্মবিরতি শুরু

‘ঢাকার কসাই’আসাদুজ্জামান খান কামালকে অতিশীঘ্রই বাংলাদেশের কাছে প্রত্যর্পণ : প্রেস সচিব

পরিবর্তন ও সংস্কার চাইলে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিন: তথ্য উপদেষ্টা

আজ দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে ইসি

ফোনালাপে ইরানের প্রেসিডেন্টকে যা বললেন সৌদি যুবরাজ

হাদি হত্যা তদন্তে রোববার জাতিসংঘে চিঠি পাঠাবে সরকার

সেহরি, ইফতার ও তারাবির সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ রাখার নির্দেশ