বিশ্বের অন্যতম বড় ফ্যাশন আসর মেট গালায় তারকা ও টেলিভিশন ব্যক্তিত্বরা যখন নিজেদের সেরা লুক প্রদর্শনে ব্যস্ত, তখন হায়দ্রাবাদের উদ্যোক্তা সুধা রেড্ডি অনন্য উপস্থিতিতে আলোকচিত্রীদের নজর কাড়েন। এবারের ‘কস্টিউম আর্ট’ থিমকে তিনি এমনভাবে উপস্থাপন করেন, যা দীর্ঘদিন মনে রাখার মতো।
শুধু মনিশ মালহোত্রার ডিজাইন করা পোশাকই নয়, নিউইয়র্কের মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অব আর্ট-এ তার পরা বিলাসবহুল নেকলেসটিও সবার দৃষ্টি কেড়ে নেয়।
পিপুল ম্যাগাজিনের তথ্যমতে, এই নেকলেসটি তার ব্যক্তিগত সংগ্রহের অংশ, যার মূল্য প্রায় ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৪২ কোটি ৮০ লাখ টাকা)।
স্টাইলিস্ট মারিয়েল হেইন জানান, নেকলেসটিতে ভিক্টোরিয়ান ফিনিশের চেইনের সঙ্গে বড় নাশপাতি ও ত্রিভুজাকৃতির রোজ-কাট হীরার সংমিশ্রণ রয়েছে। ফুলের গুচ্ছের মতো নকশায় বসানো এই রত্নগুলোর কেন্দ্রে রয়েছে তানজানিয়ার মেরেলানি পাহাড় থেকে আনা ৫৫০ ক্যারেটের গাঢ় বেগুনি-নীল ট্যানজানাইট পেন্ডেন্ট, যা ‘মেরেলানির রানি’ নামেও পরিচিত।
সম্পূর্ণ লুকটি আরও সমৃদ্ধ করেছে ৩০ ক্যারেট রোজ-কাট পোলকি হীরার আংটি এবং ১৮ ক্যারেট হলুদ সোনায় বসানো হীরার বলয়যুক্ত ৪০ ক্যারেট অ্যাশার-কাট কলম্বিয়ান পান্না।
নিজের ইনস্টাগ্রামে সুধা রেড্ডি লিখেছেন, ‘হায়দ্রাবাদ শুধু আমার জন্মভূমি নয়; এটি একটি ভাষা, একটি ছন্দ, জীবনযাপনের একটি পদ্ধতি। এই লুকের মাধ্যমে আমি সেই অনুভূতিকে এমন এক রূপে তুলে ধরতে চেয়েছি, যা দক্ষিণ ভারতীয় কল্পনার গভীরে প্রোথিত হলেও বিশ্বমঞ্চে অনায়াসে জায়গা করে নিতে পারে।’
মনিশ মালহোত্রা ও মারিয়েল হেনের যৌথ পরিকল্পনায় নির্মিত ‘জীবনবৃক্ষ’ ধারণাটি সময়, স্মৃতি ও ধারাবাহিকতার প্রতীক হিসেবে উঠে এসেছে। কলমকারি শিল্পের (প্রাচীন ভারতীয় শিল্প) গল্প বলার ঐতিহ্য থেকে অনুপ্রাণিত এই পোশাকে প্রতিটি সুতো যেন ইতিহাসের এক একটি অধ্যায় বহন করছে।
তিনি বলেন, ‘এই পোশাকটি শুধুই স্মৃতিচারণ নয়, এটি বিবর্তনের প্রতীক।’
প্রায় তিন হাজার বছরের পুরোনো বস্ত্রশিল্পের ঐতিহ্যকে নতুনভাবে উপস্থাপন করতে এতে ব্যবহার করা হয়েছে কারুকার্যময় ভেলভেট, অ্যান্টিক গোল্ড জারি ও সূক্ষ্ম জারদোজি কাজ, যা পুরো সাজটিকে এক অনন্য শিল্পকর্মে রূপ দিয়েছে।
পালাপিট্টা, জাম্মি চেট্টু, কল্পবৃক্ষ, টাঙ্গেদু, সূর্য ও চন্দ্রের মোটিফ পোশাকটিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
সুধা রেড্ডির ভাষায়, ‘এর পেছনের মানবিক ছোঁয়াই আমাকে সবচেয়ে বেশি স্পর্শ করে- হাজার হাজার ঘণ্টার শ্রম, অসংখ্য কারিগরের দক্ষতা এবং প্রজন্মের পর প্রজন্মের জ্ঞান একত্রিত হয়ে এই মুহূর্ত সৃষ্টি করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার কাছে পোশাকশিল্প মানে শুধু সাজসজ্জা নয়, এটি একটি জীবন্ত সংরক্ষণাগার। এটি এমন এক উপায়, যার মাধ্যমে ঐতিহ্যকে স্থির নয়, বরং ক্রমাগত বিকশিত, রূপান্তরিত ও প্রকাশমান হিসেবে এগিয়ে নেওয়া যায়।’
আজকের এই রাতে, আমি শুধু একটি গল্প পরিধান করে আসিনি- আমি একটি গল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।
সুধা রেড্ডি ২০২১ সালে ফাল্গুনি শেন পিককের ডিজাইন করা পোশাকে মেট গালার রেড কার্পেটে আত্মপ্রকাশ করেন। সূত্র: এনডিটিবি







