মহান মে দিবস উপলক্ষ্যে আজকের দিনে সব অফিস-আদালত বন্ধ থাকলেও থেমে নেই খেটে খাওয়া মানুষের হাত। সূর্য ওঠার আগেই কাজের সন্ধানে রাস্তায় এসে ভিড় জমাতে শুরু করেছে হাজারো শ্রমিক।
চাতক পাখির মতো তাকিয়ে আছে কখন এসে কেউ বলবে, আমার বাড়িতে শ্রমিক লাগবে কাজের জন্য। ঠিক এর বিপরীতে কপালে দেখা যায় চিন্তার ভাঁজ। আজ কাজ পাবো তো! নাকি অন্যান্য দিনের মতো খালি হাতে ফিরে যেতে হবে বাড়িতে।
শুক্রবার (১ মে) রাজধানীর সড়কের পাশে কাজের সন্ধানে অপেক্ষা করা হাজারো শ্রমিকের মাঝে এ চিত্রটিই ফুটে উঠেছে।
রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় কথা হয় নির্মাণ শ্রমিক আবুল কালামের সঙ্গে। তিনি জানান, আজ শ্রমিক দিবস সেটা জানা থাকলেও আমাদের কিছু করার নেই। সকলে বৃষ্টিতে ভিজে এখানে এসে দাঁড়িয়েছি। যদি কাজ হয় তাহলে সন্ধ্যায় ঘরে বাজার নিয়ে যেতে পারবো। রিকশাও চালাতে পারি না। দুই দিন প্যাডেল রিকশা নিয়ে নামছিলাম, একদিন সাড়ে চারশো, আরেকদিন ৫০০ টাকা ইনকাম করেছিলাম। এখানে এসে প্রতিদিন দাঁড়িয়ে থাকি। কোনোদিন কাজ পাই, আবার কোনোদিন কপালে কাজ জোটে না। এদিকে বাড়িভাড়ার জন্য বাড়িওয়ালারা ৫ তারিখের মধ্যে চাপ দিতে থাকে। ইনকাম করতে না পারলে কোথা থেকে দেব।
কোহিনূর নামে এক শ্রমিক কাঁধে ছোট ব্যাগের ভেতর হাতুড়ি নিয়ে তিনিও এসেছেন কাজ খোঁজার জন্য। কোহিনূরের ৬ সদস্যের পরিবারের হাল তাকেই বহন করতে হয়। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, স্বামী অ্যাক্সিডেন্ট করে ঘরে পড়ে আছে। বাসায় কোনো বাজার নেই। গত তিন দিন ধরে কাজ পাইনি। আজও এলাম, দেখি কেউ কাজে নিয়ে যায় কিনা। আজ মে দিবস এটা সম্পর্কে জানেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, জানি, কিন্তু বাড়ি বসে থাকলে তো পরিবারের পেটে ভাত জুটবে না। কাম না করলে খামু কী? কেউ তো ঘরে এসে কিছু দিয়ে যাবে না।
আবুল কালাম ও কোহিনূরের মতো হাজারো শ্রমিকের একই গল্প এবং উত্তর-কাজ না করলে খাবো কী। গরিবের দেখার কেউ নেই আল্লাহ ছাড়া।







