সরকার নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সাইবার বুলিং ও অনলাইনে নারীর বিরুদ্ধে হয়রানি বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে গতকাল শনিবার দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে বিশ্বের সব নারীকে তিনি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন তখনই টেকসই হয়, যখন নারীর অধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও সমাজে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়।
তিনি আরও বলেন, এবারের আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রতিপাদ্য—‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’—সময়ের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে সরকার স্নাতকোত্তর পর্যন্ত বিনা মূল্যে শিক্ষা চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো, মেয়েদের জন্য বিনা মূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম, ডিজিটাল লার্নিং সুবিধা এবং আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, বিশ্বে জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। তাদের সরকার ও রাজনীতির মূলধারার বাইরে রেখে কোনো দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। বিশেষ করে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত না হলে সামগ্রিক উন্নয়নের সুফলও আসবে না।
বাণীতে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ১৯৭৬ সালে রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ে নারী বিষয়ক দপ্তর প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং ১৯৭৮ সালে মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করা হয়। পরে বেগম খালেদা জিয়ার সরকার ১৯৯৪ সালে এটি ‘মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’-এ রূপান্তর করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীর আর্থসামাজিক ক্ষমতায়নে বেগম খালেদা জিয়ার সরকার দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা চালু করেছিল, যা নারীর ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল।
বাণীতে তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করেছে। শিক্ষা, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ও রাজনীতিসহ সব ক্ষেত্রে নারীর সক্রিয় ও কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।







