অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ বৈঠকের পর নির্বাচনের সার্বিক চিত্র, অর্থনীতির অবস্থা এবং আসন্ন শপথ অনুষ্ঠান নিয়ে বিস্তৃত বক্তব্য দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তার দাবি, এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশে হয়েছে। এতে সেনাবাহিনী, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্বশীল ভূমিকা রেখেছে এবং এর মাধ্যমে পুলিশ তাদের আত্মমর্যাদা ও আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। প্রেস সচিব জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কমনওয়েলথসহ সব পর্যবেক্ষক দল নির্বাচনকে ভূয়সী প্রশংসা করেছে। বৈঠকে নির্বাচনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবার প্রতি ধন্যবাদ জানানোর প্রস্তাবও গৃহীত হয়।
তিনি বলেন, “এই ইলেকশনটা অনেক দিক দিয়েই অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। সবচেয়ে কম সহিংসতা হয়েছে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে ৮৭টি কেন্দ্রে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল। এবার যা হয়েছে তা খুবই মার্জিনাল।” হোম অ্যাডভাইজারের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, চারজনের মৃত্যুর খবর এলেও প্রকৃত নির্বাচনী সহিংসতায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। হাতিয়ার একটি ঘটনার বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের কথাও জানান তিনি।
নির্বাচন–পরবর্তী সময়ে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার কোনো ঘটনা ঘটেনি বলেও দাবি করেন প্রেস সচিব। তার ভাষায়, “এটি প্রথম নির্বাচন, যার পর দেশে সংখ্যালঘুদের ওপর কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি।” এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে নজর রাখার আহ্বান জানান তিনি।
শপথ অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে শফিকুল আলম জানান, সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ হবে। বিকেল ৪টায় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে। উপদেষ্টারা শপথ অনুষ্ঠানে পতাকাবাহী গাড়িতে যাবেন এবং অনুষ্ঠান শেষে পতাকা ছাড়া গাড়িতে নিজ নিজ বাসায় ফিরবেন বলে জানান তিনি। সার্কভুক্ত সাতটি দেশ ও কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রেস সচিব।
উপদেষ্টারা দেশ ছাড়ছেন কি না, এমন প্রশ্নে শফিকুল আলম বলেন, “উপদেষ্টারা সবাই দেশেই আছেন। তারা দেশের গর্বিত সন্তান। শপথের দিন তারা থাকবেন।” প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্নে তিনি বলেন, “ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ডায়েরিতে অবসর বলে কিছু নেই। তিনি একজন গর্বিত বাংলাদেশি।”







