রাষ্ট্রপতির অপেক্ষায় ঠাকুরগাঁও

Post Image

শৈশব-কৈশোরের চেনা শহর ঠাকুরগাঁওয়ে ফিরছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর আজ রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) প্রথমবারের মতো নিজ জেলা সফরকে ঘিরে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো শহর।

কোথাও নির্মাণ করা হচ্ছে তোরণ, কোথাও চলছে আলোকসজ্জা; প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও পৌরসভার কর্মীদের ব্যস্ততায় বদলে গেছে শহরের চেনা চিত্র। প্রিয় সন্তানকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবারের মতো বরণ করে নিতে যেন অধীর অপেক্ষায় ঠাকুরগাঁওবাসী।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো রবি ও সোমবার সরকারি সফরে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রীয় এই সফর ঘিরে প্রশাসনের নানা প্রস্তুতির সঙ্গে সাধারণ মানুষের আগ্রহ যেন এর চেয়েও বেশি, এর চেয়েও বেশি আবেগের।

ঠাকুরগাঁও শহরের কোলাহলেই কেটেছে তার শৈশব-কৈশোর। নিজ বাড়ির পাশেই শহরের প্রাণকেন্দ্র বড়মাঠ। যে শহরের অলিগলি, বাজার-পাড়া আর রাস্তাঘাট তার চেনা- সেই শহরই এখন ব্যস্ত তাকে ঘিরে।

কারও কাছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় রাজনীতির সুপরিচিত মুখ, কারও কাছে তিনি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নেতা। আবার ঠাকুরগাঁওয়ের অনেকের কাছে তিনি আজও সেই পরিচিত ‘আলমগীর স্যার’-নিজ শহরের আপনজন।

রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজ শেকড়ের টানে নিজ মাটিতে আসা তাই ঠাকুরগাঁওবাসীর কাছে কেবল একটি রাষ্ট্রীয় সফর নয়, এটি একই সঙ্গে গর্ব, আনন্দ, ভালোবাসা আর গভীর আবেগের ক্ষণ।

রাষ্ট্রপতির প্রটোকল অফিসার আবুল কালাম মো. লুৎফর রহমান স্বাক্ষরিত সফরসূচি অনুযায়ী, প্রথম দিন রোববার সকাল ১০টায় হেলিকপ্টারযোগে ঠাকুরগাঁওয়ের উদ্দেশে রওনা হবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে ঠাকুরগাঁও মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম মাঠে তার অবতরণের কথা রয়েছে। সেখান থেকে তিনি যাবেন জেলা সার্কিট হাউসে। রাষ্ট্রপতি সেখানে গার্ড অব অনার গ্রহণ করবেন।

এরপর রাষ্ট্রপতি শহরের সেনুয়া পাড়ায় পারিবারিক কবরস্থানে তার বাবা সাবেক মন্ত্রী মরহুম মির্জা রুহুল আমীন (চোখামিয়া) ও মা ফাতেমা বেগমের কবর জিয়ারত করবেন।

কবর জিয়ারত শেষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শহরের কালীবাড়িতে তার নিজ বাসভবনে যাবেন। সেখানে দুপুরের খাবার ও বিশ্রামের পর বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক কমিটি আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।

সংবর্ধনা শেষে রাষ্ট্রপতি নিজ বাসভবনে ফিরে গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। সেখানেই তার রাত্রিযাপনের কথা রয়েছে।

সফরের দ্বিতীয় দিন রাষ্ট্রপতি ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় প্রস্তাবিত ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে রাষ্ট্রপতি নিজ বাসভবনে ফিরে দুপুরের খাবার গ্রহণ ও বিশ্রাম করবেন। পরে তিনি সার্কিট হাউসে যাবেন। এরপর হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশে ঠাকুরগাঁও ছাড়ার কথা রয়েছে তার।


এদিকে, রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর) ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। সফরের সম্ভাব্য স্থান, যাতায়াতের পথ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা।


রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. আবু মো. খয়রুল কবির বলেন, ‘তিনি শুধু রাষ্ট্রপতি নন, তিনি আমাদের ঠাকুরগাঁওয়ের সন্তান। দীর্ঘদিন পর রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থেকে তিনি নিজের মানুষের কাছে ফিরছেন। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্ব ও আবেগের মুহূর্ত। আমরা চাই, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ ভালোবাসা ও সম্মানের সঙ্গে তাকে স্বাগত জানাক।’


জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে প্রথম আগমন জেলার মানুষের জন্য আনন্দ, গর্ব ও আবেগের বিষয়। ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। রাষ্ট্রপতির সফরকে ঘিরে জেলার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি।


জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন, ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর মহামান্য রাষ্ট্রপতির দুই দিনের সফরকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সফরের প্রতিটি কর্মসূচি সুষ্ঠু, সুন্দর ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর, সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।


ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. বেলাল হোসেন বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির দুই দিনের সফরকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁওয়ে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির সফরের প্রতিটি কর্মসূচি, যাতায়াতের পথ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোকে নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়েছে।’


তিনি আরও বলেন, এসব এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তার সফরকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের চলাচল ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সব বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।


সূত্র: বাসস

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর

সর্বাধিক পঠিত

বরিশালে পুলিশ সদস্যের হামলার শিকার হয়ে হাসপাতালে সাংবাদিক!

কুষ্টিয়ায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আসিফ এখন ছাত্রদল নেতা!

আমি এমপি না হলে আওয়ামী লীগের ওপর নির্যাতন ও জুলুম বাড়বে: জাপা মহাসচিব

সিলেটের এক বেইমান পিছন থেকে ভিডিও করে: মাদানী

‘নারী সেজে বন্ধুত্ব করাই রাব্বির নেশা’

জুলাই সনদ বাস্তবায়নসহ ৫ দাবিতে মুন্সীগঞ্জে জামায়াতের বিক্ষোভ সমাবেশ

রাত পোহালেই কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে শিক্ষক পরিষদ নির্বাচন

হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের বিশেষ অনুমতি পেল কোন কোন দেশ?

পাবনায় প্রকাশ্য দিবালোকে প্রেসক্লাবে সন্ত্রাসী হামলা

হরিপুরে সাংবাদিক মিজানুর রহমান আটক, প্রেসক্লাবের নিন্দা ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবি