ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে প্রেম করে বিয়ের মাত্র সাত মাসের মাথায় মুসলিমা আক্তার মুন্নি (১৮) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে পৌরসভার কলারণ গ্রামে স্বামীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে হত্যার অভিযোগ করা হলেও পুলিশ প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে।
নিহত মুসলিমা আক্তার পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আমগ্রামের মো. মুরাদ শেখের মেয়ে। সাত মাস আগে পরিবারের অমতে প্রেমের সম্পর্কের জেরে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কলারণ গ্রামের নুর ইসলাম শেখের ছেলে টাইলস মিস্ত্রি সজল শেখের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
মুসলিমার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে মুসলিমার সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিল না। পারিবারিক কলহের জেরে তাকে হত্যা করে লাশ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে তাদের ধারণা।
তবে স্থানীয়দের ভাষ্য, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহের একপর্যায়ে মুসলিমা ঘরের দরজা বন্ধ করে আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দেন। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়রা দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক ডা. শিঞ্জন সাহা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ডা. শিঞ্জন সাহা বলেন, মুসলিমাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
মুসলিমার স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করার পর মুসলিমার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন লাশ হাসপাতালে রেখে সেখান থেকে চলে যান।
মুসলিমার বাবা মুরাদ শেখ অভিযোগ করে বলেন, আমার মেয়েকে হত্যা করে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছে আমার জামাই। মেয়ের নাক-মুখে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আমার মেয়েকে কেন হত্যা করা হলো, আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
খবর পেয়ে বোয়ালমারী থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে লাশ উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
বোয়ালমারী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় আপাতত একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা করা হবে। পরবর্তীতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।