গণতন্ত্র রক্ষা, ফ্যাসিবাদ নির্মূল ও সংবিধান সংস্কারের দাবিতে ২০২৪ সালে আমাদের সন্তানরা যে আত্মত্যাগ করেছিল, তার যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি। জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হয়নি, আর সন্তান হত্যার বিচারও মেলেনি। তাই বুকের ভেতরের রক্তক্ষরণ থামছে না। জুলাই মাস এলেই সেই স্মৃতিগুলো আমাদের কষ্ট আরো বাড়িয়ে দেয়। এভাবেই আহাজারি তুলে ধরেন জুলাই বিপ্লবের শহীদ ফারহান ফাইয়াজের বাবা শহিদুল ইসলাম।
ছেলের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শহিদুল ইসলাম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫৪ জনের বিরুদ্ধে হত্যা ও গণহত্যার অভিযোগ দায়ের করেন। এছাড়াও তৎকালীন সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী, রাজনৈতিক নেতা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের নামও উল্লেখ করা হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ফারহানের মৃত্যুতে তারা এখনো গভীর শোকের মধ্যে রয়েছেন। বাবা শহিদুল ইসলাম বলেন, একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে আমাদের স্বাভাবিক জীবন থমকে গেছে। এতদিনে সে হয়তো উচ্চশিক্ষায় ব্যস্ত থাকত। তাকে ঘিরে কত স্বপ্ন ছিল। পুরো পরিবার এখনো ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পরিবার আরো জানায়, বন্ধু ও সহপাঠীদের কাছে ফারহান ছিলেন প্রাণবন্ত, দায়িত্বশীল ও নেতৃত্বগুণসম্পন্ন একজন শিক্ষার্থী। লেখাপড়ার পাশাপাশি অন্যান্য কার্যক্রমেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। নতুন কিছু শেখা, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখাই ছিল তার স্বভাব।
ফারহানের মা ফারহানা দিবা ছেলের হত্যার বিচার দাবি করেছেন। বোন সায়ীমা ইসলামও ভাইকে হারানোর বেদনার কথা তুলে ধরে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ধানমন্ডির পুরোনো ২৭ নম্বর রোডে পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলায় বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন ফারহান ফাইয়াজ। তিনি রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। মাত্র ১৭ বছর বয়সে প্রাণ হারানো এই শিক্ষার্থী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম কনিষ্ঠ শহীদ হিসেবে পরিচিতি পান।







