টানা ১৫ দিনের বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জের ছোট-বড় অর্ধশতাধিক হাওরের কাঁচা ধান তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতায় কয়েক হাজার হেক্টর এক ফসলি জমির বোরো ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে সারা বছরের খাদ্য ও জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন হাওরাঞ্চলের কৃষকেরা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এতে হাওরের পানি দীর্ঘস্থায়ী হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইতিমধ্যে পানিতে পচন ধরা ধানগাছ কেটে গবাদিপশুকে খাওয়াতে শুরু করেছেন অনেক কৃষক।
গতকাল বুধবার বিভিন্ন হাওর এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি কৃষকেরা নিজ উদ্যোগে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা করছেন। তবে আগামী এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত শিলা ও ভারী বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় শঙ্কা কাটছে না। অপরিকল্পিত বাঁধ ও প্রয়োজনীয় স্লুইসগেটের অভাবে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুণ্ডা উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিয়নের অন্তত ৫০ গ্রামের প্রায় এক হাজার কৃষক পরিবার। টানা বৃষ্টিতে নদীর পানি বেড়ে টাঙ্গুয়ার হাওরের তাহিরপুর অংশের নজরখালি বাঁধ ভেঙে যায়। প্রতিবছর কৃষকেরা নিজ উদ্যোগে বাঁধটি মেরামত করলেও এবার তা হয়নি। ফলে টাঙ্গুয়াকেন্দ্রিক ৮২ গ্রামের কৃষকেরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
কৃষি অধিদপ্তরের তথ্যমতে, টাঙ্গুয়ার হাওর এলাকার প্রায় ১ হাজার ৯০ হেক্টর আবাদি জমির বেশির ভাগই জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছে। এতে কাঁচা ধানে পচন ধরেছে।
রূপনগর গ্রামের কৃষক মো. মুজিবুর রহমান বলেন, ‘১০-১২ কিয়ার জমিতে ধান আবাদ করেছিলাম। এর মধ্যে ৭-৮ কিয়ার জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। ধানে পচন ধরেছে, এখন পথে বসার অবস্থা।’
টাঙ্গুয়ার হাওর গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি বজলুর রহমান বলেন, প্রতিবছর কৃষকেরা নিজ খরচে নজরখালি বাঁধ দেন। এবার তা না হওয়ায় বহু গ্রামের ধানখেত তলিয়ে গেছে। আরও কয়েক দিন বৃষ্টি হলে বাকি ধানও রক্ষা পাবে না।
জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানান, জেলার বিভিন্ন হাওরে প্রায় ১ হাজার ১৮৯ হেক্টর বোরো জমি পানিতে আক্রান্ত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষকেরা পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা করছেন। পানি নেমে গেলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা যাবে।







