সোমবার, ২৫-মার্চ-২০১৯ ইং | সন্ধা : ০৬:০০:৫৭ | আর্কাইভ

নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের নামে ৫ লাখ টাকা, সংযোগ প্রত্যাশিদের কাছ থেকে আদায়

তারিখ: ২০১৯-০৩-১৩ ১১:৫২:৫২ | ক্যাটেগরী: সারা দেশ | পঠিত: ১৫ বার


আলমগীর হোসেন লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুর ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের পশ্চিম চর মনসা গ্রামে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানের মিটার প্রতি অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংযোগ দিতে গ্রাহকদের কাছ থেকে মিটার প্রতি অতিরিক্ত ৭-৮ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। ৮৫ জন সংযোগে গ্রাহকদের কাছ থেকে ইতিমধ্যে ৪ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। চরমনসা গ্রামের কাদুরির সাঁকু এলাকার মোদি দোকানদার মমিন উল্যাহ, হাজির পাড়া ভূমি অফিসের পিয়ন ও চর মনসা গ্রামর বায়তুন আকসা জামের মসজিদের সভাপতি নুর নবী খাঁ, হোসেন আহম্মদ এর যোগসাজশে পল্লী বিদ্যুতের ইলেকট্রিশিয়ান ও নুরুল্য গোডাউন এলাকার স্থানীয় নুরনবী, ওয়ারিং মেস্তুরী পাবেল এ মিটার বাণিজ্য করছেন বলে অভিযোগ করেছেন গ্রাহকেরা।
লক্ষ্মীপুর পল্লী- বিদ্যুৎ সমিতি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত জানুয়ারী মাস থেকে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের পশ্চিম চরমনসা শহিদ নাফিজ হোসেন সড়ক এলাকায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের বিদ্যুৎ-সংযোগ দেওয়ার কাজ শুর হয়।
আগামী ২ মাসের মধ্যে ৮৫ জন গ্রাহককে বৈদ্যুতিক মিটারসহ ওই সংযোগ দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। সংযোগ নিতে ওই কার্যালয়ে অন্তত ৮৫ জন গ্রাহক আবেদন করেন। আবেদনের সঙ্গে জমা নেওয়া হয় গ্রাহকের ছবি, ১০০ টাকা ও জমির কাগজপত্র। বিধি অনুযায়ী, ওয়্যারিং পরিদর্শক সরেজমিনে গ্রাহকের আবেদন যাচাই করেন। এরপর বিদ্যুৎ মিস্ত্রি পাবেলের মাধ্যমে বাসায় অভ্যন্তরীণ ওয়্যারিং করার জন্য চিটি দেওয়া হয়। ওয়্যারিং করার পর মিটার প্রতি জামানত ৪৫০ টাকা ও পল্লী বিদ্যুতের নতুন গ্রাহক সদস্য ফি ৫০ টাকা জমা দিতে হয়।
কিন্তু গ্রাহকদের  অভিযোগ, বিদ্যুৎ কার্যালয় থেকে মনোনীত ৩ জন ‘ইনিঞ্জিনিয়ার, আরাফাত, ঠিকাদার সোহেল, ইলেকট্রিশিয়ান নুর নবী সহ বিদ্যুৎ-মেস্তুরী  পাবেলকে দিয়ে গ্রাহকদের বাসাবাড়িতে ওয়্যারিং করা হচ্ছে। এ সুযোগে তাঁরা প্রতিটি ওয়্যারিংয়ে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা করে নিচ্ছেন। ইলেকট্রিশিয়ান পরিদর্শক নুরনবী সঙ্গে যোগসাজশ করে বিদ্যুৎ-মেস্তুরী  মিটারপ্রতি অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছেন। গ্রাহক আরিফ হোসেন, সহ ১৩ জন গত ৯ মার্চ লক্ষ্মীপুর পল্লী- বিদ্যুৎ সমিতি এর জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) বরাবর ওই ছয় দালাল ও ইনঞ্জিনিয়ার  আরাফাতের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। এতে উল্লেখ করা হয় ,অতিরিক্ত ওয়্যারিং সহ ৭ থেকে আট হাজার টাকা করে নিয়েও গ্রাহকদের নতুন মিটার দেওয়া হচ্ছে না। ১২ ই মার্চ পযর্ন্ত্র ৮৫ জন নতুন সংযোগে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত প্রায় ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বিদ্যূৎ প্রত্যাশীরা ভবাণীগঞ্জ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডস্থ হানিয়া পাটওয়ারী বাড়ীর মৃত অজি উল্যাহ ছেলে হানিফ, আনু মাঝি বাড়ীর মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে মুনসুর আহম্মদ, আব্দুল মতিনের বাড়ীর আব্দুল মতিন, হকার বাড়ীর মৃত মফিজুল হকের ছেলে দেলোয়ার হোসেন, জহির উদ্দিনের স্ত্রী ছায়েরা খাতুন সহ ৩০/৩৫ জন গ্রাহক এসব অভিযোগ করেন।
চরমনসার গ্রামের  স্বামী হারা রহিমা বেগম বলেন, কোনো রকম ধার কর্জ করে ৫০০০ হাজার টাকা দিয়েছি চা দোকানদার মমিন উল্যাহকে এক বছর পার হলেও এখনো বিদ্যুতের কোনো আলোর ছোঁড়া দেখতে পাই নাই।
মসজিদ কমিটির সভাপতি নুর নবী ৬০ হাজার টাকা উত্তোলনে কথা স্বীকার করে বলেন, ইলেকট্রিশিয়ান নুরনবীকে টাকা দেওয়া হয়েছে। গাছ কাটা, পিলার আনা নেওয়া করা, ক্যারিং খরচ, কর্মচারীদের ভাতের খরচ ও ঠিকাদার সোহেলকে ২০ হাজার টাকা দেওয়ার হয়। তার পরও মাসের পর অফিস অবৈধভাবে খুঁটি ও লাইন আটকিয়ে রাখা হয়। অভিযোগ প্রসঙ্গে পল্ল ী  বিদ্যুৎতের  দালাল চক্র জুয়াড়ী ও মদি দোকানদার মমিন উল্যাহ জানায় ১লাখ ২৫ হাজার টাকা ইলেকট্রিশিয়ান নুর নবীকে দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদার সোহেলকে নগদ ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। আনুসাংঙ্গিক আরো ১০ হাজার টাকা খরচ হয় বলে জানায় মমিন।
এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার শাহজাহান কবির বলেন, বিদ্যুৎতিক সংযোগ গ্রাহকদের বিনা মূল্যে দেওয়া হয়। সেখানে টাকা নেওয়া অবৈধ। তিনি আরও বলেন, গ্রাহকেরা যেকোনো ইলেকট্রিশিয়ানকে দিয়ে বাসা বাড়িতে ওয়্যারিং করাতে পারেন। নতুন সংযোগ প্রধানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার প্রমান পাওয়া গেলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

তারিখ সিলেক্ট করে খুজুন