সোমবার, ২৭-মে-২০১৯ ইং | দুপুর : ০২:০৯:৫১ | আর্কাইভ

চকবাজারে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থদের ছাত্রশিবিরের সহায়তা প্রদান

তারিখ: ২০১৯-০৩-০৪ ০১:০২:১০ | ক্যাটেগরী: রাজনীতি | পঠিত: ৩৫ বার

ুরান ঢাকার চকবাজারে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। গতকাল রাজধানীর এক মিলনায়তনে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ড.মোবারক হোসাইন ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। এসময় কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক রাজিফুল হক বাপ্পী..সহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 

সহায়তা প্রদান কালে তিনি বলেন, গত ২০ ফেব্রুয়ারী রাতে রাজধানী ঢাকার চকবাজারে একটি ভবনে আগুন লেগে তা আশে-পাশে ছড়িয়ে পরে ৭৮-এর অধিক সংখ্যক মানুষ অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহত এবং আরো বহুসংখ্যক লোক আহত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। পরে চিকিৎসাধিন অবস্থায় আরো কয়েকজনের মৃত্যু হয়। এখনো অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। যা দেশাবাসীকে ভারাক্রান্ত করে। কিন্তু এ মর্মান্তিক ঘটনার পেছনে সরকারের অবহেলা ও অদূরদর্শিতা অনেকাংশে দায়ী। কেননা এর আগেও ২০১০ সালের ৩ জুন  রাসায়নিক পদার্থ থেকে পুরান ঢাকার নিমতলীতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। যাতে প্রাণ হারান ১২৪ জন। তখন ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাটি ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছিল। তারপরেও সরকারের টনক নড়েনি। তখন তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু সে তদন্ত কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়িত হয়নি। সকলেই একমত যে, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় কেমিক্যালের গুদাম বা দোকান থাকা উচিত নয়। তা সত্ত্বেও পুরান ঢাকার জনবসতি এলাকায় কেমিক্যালের গুদাম বা দোকান আগের মতই ছিল। এ জন্য সরকারই সিংহভাগ দায়ী। সরকারের অবহেলা ও অদূরদর্শিতার কারণেই একশ্রেণীর অর্থলোভী ব্যবসায়ী জনবসতিপূর্ণ এলাকায় কেমিক্যালের গুদাম তৈরী করে ব্যবসা করছে আর বার বার এমন নির্মম ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। নিমতলী ট্রাজেডী থেকে শিক্ষা নিলে চকবাজার আগুনের ভয়াভয়তা এতটা ভয়ঙ্কর রূপ নিত না। তাছাড়া অপরিকল্পিত নগরায়নও ব্যপক প্রাণহানী ও ক্ষতির কারণ। চকবাজারসহ পুরান ঢাকার অনেক এলাকায় দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের গাড়ী চলাচলের জন্য উপযুক্ত রাস্তা নেই। ফলে একটি ব্যস্ততম এলাকায় সরু রাস্তার ফলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পৌছালেও যথা সময়ে ও যথাযত ভাবে অগ্নিনির্বাপণের কাজ করতে পারেনি। এ অবস্থার পরিবর্তন না করলে ভবিষ্যতেও  এমন দু:খজনক ঘটনা দেখতে হতে পারে।

তিনি বলেন, নির্মম ভাবে আগুনে পুড়ে নারী শিশুসহ মানুষদের নিহত হওয়া এবং তাদের স্বজনদের আর্তনাদ শুধু বাংলাদেশের মানুষকে নয় বরং বিশ্ববাসীকে কাঁদিয়েছে। জাতি এমন দৃশ্য আর দেখতে চায় না। আমরা জানি অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য আমাদের সহায়তা অপর্যাপ্ত। কিন্তু এমন ঘটনা পুনরায় যেন না ঘটে এবং ক্ষতিগ্রস্থদের সর্বোচ্চ সহায়তার জন্য সরকারকেই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অগ্নিকান্ডে যারা নিহত হয়েছেন তাদের পরিবার-পরিজন এবং আহতদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ  দিতে হবে। আহতদের বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসা প্রদান করতে হবে। এ ঘটনার সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে দোষী ব্যাক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে। দ্রুত জনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে কেমিক্যালের দোকান ও গুদাম সরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। রাস্তার পর্যাপ্ত প্রশস্ততা রেখে সংস্কার করতে হবে। নিরাপত্তা বিষয়ক আইনের কঠোর প্রয়োগ করতে হবে। অগ্নি দূর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রশিক্ষণ ও সচেতনা বৃদ্ধি করতে ব্যপক কর্মসূচি গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করতে হবে। আমরা আশাকরি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে আগের মত এবারও বিষয় গুলো এড়িয়ে যাবে না। ছাত্রশিবির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সাধ্য অনুযায়ী বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমাদের এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ। আমরা অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে দাঁড়াতে সরকারের সাথে সাথে বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসার আহবান জানাচ্ছি।  
 

তারিখ সিলেক্ট করে খুজুন