সোমবার, ২৭-মে-২০১৯ ইং | দুপুর : ০১:০০:২১ | আর্কাইভ

পাকিস্তানে এখন জাতীয় বীর হাসান সিদ্দিকী

তারিখ: ২০১৯-০২-২৮ ০৫:৪১:২৫ | ক্যাটেগরী: আন্তর্জাতিক | পঠিত: ৫২ বার

ভারতীয় দুটি যুদ্ধ বিমান ভূপাতিত করার পর পাকিস্তানে জাতীয় বীরে পরিণত হয়েছেন দেশটির বিমান বাহিনীর স্কোয়াড্রন লিডার হাসান সিদ্দিকী। বিমান বাহিনীতের তার সতীর্থরা তাকে নিয়ে উল্লাস করছে এমন ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগা মাধ্যমে। সাধারণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীরা ব্যাপকভাবে প্রশংসা করছেন এই তরুণ কর্মকর্তার। পাকিস্তানের গণমাধ্যমেও তার বীরত্ব নিয়ে ফলাও করে প্রচার করা হয়েছে বিভিন্ন সংবাদ।

পাকিস্তানের সংবাদ মাধ্যম দ্যা নিউজ লিখেছে, ভারতীয় আগ্রাসনের জবাবে বুধবার প্রকাশ্যে দিনের আলোতে তাদের দুটি বিমান ভূপাতিত করেন স্কোয়াড্রন লিডার হাসান সিদ্দিকী। এর একটি বিধ্বস্ত হয়েছে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মিরে আর অন্যটি গুলি লেগে আগুন ধরে যাওয়ার পর কোন মতে সীমান্ত পার হয়ে ভারতের মাটিতে এসে বিধ্বস্ত হয়েছে। পাকিস্তানের মাটিতে বিধ্বস্ত পাইলটকে আটক করে সেনা হেফাজতে নেয়া হয়েছে।


 
পত্রিকাটি লিখেছে, হাসান সিদ্দিকীর এই সাফল্য মনে করিয়ে দিচ্ছে ১৯৬৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বরে এয়ার কমোডর মোহাম্মদ মাহমুদ আলমের কথা যিনি একাই নয়টি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছিলেন সেই যুদ্ধে। যার মধ্যে ৫টি ছিলো হকার হান্টার যুদ্ধবিমান।
বুধবার হাসান সিদ্দিকীর বিমান মাটিতে নেমে আসার পরই তাকে বীরে সংবর্ধনা দেয় বিমান ঘাঁটির কর্মকর্তারা। দুটি ভারতীয় বিমান বিধ্বস্ত করে ফেরার পর মাটি স্পর্শ করার সাথে সাথে তার বিমানকে ঘিরে ধরে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর কর্মকর্তারা।

এমনকি পাকিস্তানের শীর্ষ রাজনীতিকদেরও অনেকে হাসানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জরতাজ গুল ওয়াজির বিমান ঘাঁটিতে হাসানকে নিয়ে অন্য কর্মকর্তাদের উল্লাসের একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন।

করাচি শহরের সন্তান হাসান সিদ্দিকীর বিস্তারিত পরিচয় অবশ্য প্রকাশ করা হয়নি পাকিস্তানের সংবাদ মাধ্যমগুলোতে।


 
বাবার সিনেমার মতোই পরিণতি পুত্রের!

১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধ নিয়ে একটি সিনেমা হয়েছিল দক্ষিণ ভারতে। যে সিনেমায় দেখানো হয়েছিল এক ভারতীয় পাইলটের পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হতে ধরা পড়ার কথা। সেই সিনেমার নির্মাতাকে যাবতীয় পরামর্শ দিয়েছিলেন বুধবার পাকিস্তানের হাতে ধরা পড়া পাইলট অভিনন্দনের বাবা বাবা অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল সিমহাকুট্টি বর্তমান। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার লিখেছে, নিজের ছেলেকে পাকিস্তানের হাতে একই রকভাবে ধরা পড়তে দেখে অভিনন্দনের বাবার কি মনে পড়ছে সেই ছবির নায়ক বরুণের কথা?

পরিচালক মণি রত্নমের ‘কাত্রু ভেলিয়িদাই’ নামের ওই ছবিতে দেখানো হয়েছিল, ২০ বছর আগে কার্গিল যুদ্ধের সময় যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ার ফলে নায়ক বরুণ প্যারাস্যুটের সাহায্যে নেমেছিলেন কাশ্মিরের পাকিস্তান অংশে। ধরা পড়েছিলেন পাক সেনাদের হাতে। হয়েছিলেন যুদ্ধবন্দি। এরপর দিনের পর দিন বন্দুকের মুখে বরুণের উপর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছিল পাকিস্তানি সেনারা। বরুণের মনে পড়ত স্ত্রী লীলার কথা। তারই মধ্যে এক দিন পাক সেনাদের কড়া নজর এড়িয়ে সীমান্ত ও নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে ভারতে ফিরে এসে প্রাণ বাঁচাতে পেরেছিল বরুণ।

সেই ছবিতে পরিচালককে যাবতীয় পরামর্শদাতা ছিলেন উইং কমান্ডার অভিনন্দনের বাবা অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল সিমহাকুট্টি বর্তমান। আজ তার ছেলেই সেই নায়কের মতো সত্যিই বন্দি পাকিস্তানের হাতে। অবশ্য অভিনন্দন বলেছেন, তিনি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ব্যবহারে মুগ্ধ। তার সাথে সুন্দর আচরণ করা হয়েছে।

‘কাত্রু ভেলিয়িদাই’-এর কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন অভিনেতা কার্তি। তার স্ত্রী লীলার ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন অদিতি রাও হায়দারি।  

ছেলে পাকিস্তানে হামলা করতে গিয়ে ধরা পড়ার পর অবশ্য অভিনন্দনের বাবার কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অবশ্য বরুণ চক্রপাণির চরিত্রে যিনি অভিনয় করেছিলেন সেই কার্তি টুইটারে পাকিস্তানের হেফাজতে থাকা উইং কম্যান্ডার অভিনন্দন বর্তমানের জন্য শুভেচ্ছা কামনা করে দ্রুত সুস্থ শরীরে তাকে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রশাসনের কাছে।

তারিখ সিলেক্ট করে খুজুন