শনিবার, ২১-সেপ্টেম্বর-২০১৯ ইং | সকাল : ০৮:২৫:৩৯ | আর্কাইভ

কেমন হলো টাইগারদের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি?

তারিখ: ২০১৯-০২-২০ ০৩:০০:১৮ | ক্যাটেগরী: খেলা | পঠিত: ৭৩ বার

নিউজিল্যান্ড সফরে হোয়াইটওয়াশের মাধ্যমে শেষ হলো টাইগারদের ওয়ানডে সিরিজ। বিশ্বকাপের আগে নিজেদের জ্বালিয়ে নেয়ার এটাই শেষ সিরিজ। তবে এ কাজটি কতটুকু করতে পেরেছেন টাইগাররা?

সামনেই বিশ্বকাপ। দুইদিন আগে এই দল নিয়েই সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। এই দলের উপরেই বিশ্বকাপে তার আস্থা।

 

নিউজিল্যান্ড সফরে পুরো ওয়ানডে সিরিজের দিকে তাকালে, বাংলাদেশের টপ অর্ডাররাই ছিলেন একদম ‘ফ্লপ’। তিন টপ অর্ডার মিলে তিন ম্যাচে সংগ্রহ করেছেন ৬৫ রান! এর মাঝে সৌম্য সরকার তিন ম্যাচ মিলিয়ে করেছেন ৫২ রান। তামিম ইকবালের ১০ রান ও লিটন দাসের সংগ্রহ তিন ম্যাচে ৩ রান। এই হলো বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশর টপ অর্ডারদের অর্জন। শেষ ম্যাচে তিন টপ অর্ডার মিলে সংগ্রহ করেন ১ রান!

মিডল অর্ডারে কেমন করলো বাংলাদেশ? মিডল অর্ডারকে বলা হয় দলের মেরুদন্ড। আর বাংলাদেশ দলের সে মেরুদন্ডের একটি শিরদাঁড় হলেন মুশফিকুর রহিম। কিন্তু সেই ব্যাটসম্যান নিউজিল্যান্ড সফরে তিন ম্যাচে মিলিয়ে সংগ্রহ করেন ৪৬ রান।

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, যার হাত ধরে বাংলাদেশ অনেক ম্যাচ জয়ী হয়েছে। আর বিদেশের মাটিতে অন্যদের তুলনায় মাহমুদুল্লাহর ব্যাট ছিলো হাস্যেজ্জ্বল। হঠাৎ তার ব্যাট খেই হারিয়ে ফেলেছে। তিন ম্যাচে মিলিয়ে এই ব্যাটসম্যান সংগ্রহ করেন ৩৬ রান!

 

সাব্বির রহমান প্রথম দুই ম্যাচে যথাক্রমে ১৩ ও ৪৩ রান করেন। প্রথম দুই ম্যাচে বড় ইনিংস না পেলেও শেষ ম্যাচে দেখা পেয়েছেন নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। তার রানে ফেরাটা নিউজিল্যান্ড সিরিজি সবচেয়ে বড় পাওয়া। তবে এটি ধারাবাহিকভাবে বজায় রাখা হচ্ছে সবচেয়ে মূল্যবান।

মোহাম্মদ মিথুন ধারাবাহিক ভাবে ফর্ম করছিলেন শুরু থেকেই, যদিও চোটের কারণে শেষ ম্যাচে নামা হয়নি তার। এই তরুণ মিডল অর্ডার প্রথম দুই ম্যাচে ৬২ ও ৫৭ রানের দুটি হাফ সেঞ্চুরির ইনিংস খেলে ভালো কোনো প্রত্যাশার অভাস দিয়েছেন।

লোয়ার অর্ডারে অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন তিন ম্যাচে যথাক্রমে ৪২, ১০ ও ৪৪ রানের ইনিংস খেলেন। তার সাথে মেহেদি হাসান মিরাজও তিন ম্যাচে ২৭, ১৬ ও ৩৭ রানের তিনটি ইনিংস খেলেন। মূলত তাদের দু’জনের সহায়তায় বাংরাদেশ তিন ম্যাচে দুই শ’ রান ছাড়িয়ে যায়।

কিউই সিরিজে বোলারদের পারফরমেন্স ছিলো অনেক হতাশাজনক। তিন ম্যাচে স্বাগতিকদের অলআউট করতে পারেনি কোনো ম্যাচে। বরং সব ম্যাচে মিলিয়ে টাইগার বোলাররা পেরেছেন তাদের মাত্র ১০টি উইকেট শিকার করতে।

বল হাতে মোস্তফিজুর রহমান ছিলেন অনেক খরুচে। সফরে দলের অন্যতম এ বোলার তিন ম্যাচে নেন চারটি উইকেট। অগ্রভাগে বোলিং অ্যাটাকে নেতৃত্ব দেয়া অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা তিন ম্যাচে নিতে পেরেছেন মাত্র একটি উইকেট! মেহেদি হাসান মিরাজ তিন ম্যাচে শিকার করেন দুটি উইকেট।

মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন বল হাতে বিপিএল জুড়ে অনেক সুসময় কাটালেও নিউজিল্যান্ড সফর শেষে তার ঝুলিতে উইকেট মাত্র একটি। প্রথম দুই ম্যাচে সাইড লাইনে বসে থাকা রুবেল হোসেন শেষ ম্যাচে নেমে এক উইকেট শিকার করেন। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ অনিয়মিত বোলার হলেও তিনি পেশাদার বোলারদের মতোই বল করা ক্ষমতা রাখেন। যদিও তাকে ব্যাক থ্রো এনে দিতে ব্যবহার করেন অধিনায়ক। তবে এবার ব্যাক থ্রো এনে দিতে ব্যর্থ হন এই বোলারও। সিরিজে একটি উইকেট শিকার করেন তিনি।

এর মাঝে সৌম্য ও সাব্বিরের বোলিং গল্প টেনে নাই আনা হলো।

নিউজিল্যান্ডের পিচ কন্ডিশন, ইংল্যান্ড ও ওয়েলশের কন্ডিশন প্রায়ই একই। পেসের কন্ডিশনে এই ফর্ম দিয়ে বিশ্বকাপে কি দেখাতে পারে বাংলাদেশ দল, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

তাই এমন ভঙ্গুর টপ অর্ডার ও মিডল অর্ডার দিয়ে কীভাবে অধিনায়ক বিশ্বকাপে ভালো কিছু করার আস্থা রাখেন তা প্রশ্নই থাকে। এই সিরিজই বিশ্বকাপের আগে শেষ সিরিজ। যদি ভালো কিছু করতে পারতো তবে বিশ্বকাপে ভালো করার জন্য নিজেদের মনোবল আরো বাড়তো। এখন হোয়াইটওয়াশের বিস্বাদ নিয়েই বিশ্বকাপে অংশ নিবে বাংলাদেশ।

এখনো সিরিজের ক্ষতগুলো দ্রুত পুষিয়ে নেয়ার যথেষ্ট সময় রয়েছে। টপ অর্ডারদের গা-ছাড়া ব্যাটিং পরিহার করে দলের প্রয়োজনীয় মুহূর্তে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করা এবং মিডল অর্ডারদের দ্রুত তাদের রানে ফিরতে হবে। কারণ, তাদের হাত ধরেই নতুনরা দলকে আলোর পথ দেখাবে।

তারিখ সিলেক্ট করে খুজুন

A PHP Error was encountered

Severity: Core Warning

Message: PHP Startup: Unable to load dynamic library '/opt/cpanel/ea-php56/root/usr/lib64/php/modules/pdo_mysql.so' - /opt/cpanel/ea-php56/root/usr/lib64/php/modules/pdo_mysql.so: cannot open shared object file: No such file or directory

Filename: Unknown

Line Number: 0

Backtrace: