বৃহঃবার, ২৫-এপ্রিল-২০১৯ ইং | সকাল : ০৫:৪৫:৩২ | আর্কাইভ

নিষিদ্ধ হতে যাচ্ছে ‘শনিবার বিকেল’

তারিখ: ২০১৯-০১-২০ ০৩:২৫:৪৩ | ক্যাটেগরী: বিনোদন | পঠিত: ৮৯ বার

মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর আলোচিত চলচ্চিত্র ‘শনিবার বিকেল’ নিয়ে আজ ধূম্রজাল কাটবে। ছবিটি আটকে দেয়া হয়েছে, নাকি নিষিদ্ধ করা হয়েছে এ বিষয়ে সেন্সরবোর্ড আজ তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে পারে। নির্মাতা কিংবা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বলছে এ বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। তবে সেন্সরবোর্ডের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান ছবিটির বিষয়ে সেন্সর বোর্ড সদস্যরা তাদের মতামত জানিয়েছেন। আজ রোববার ছবিটি ‘নিষিদ্ধের’ পক্ষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

এর আগে গত ৯ জানুয়ারি সেন্সরবোর্ডে ছবিটির প্রথম স্ক্রিনিংয়ের পর গ্রিন সিগন্যালের আভাস পেলেও চলতি সপ্তাহে দ্বিতীয় স্ক্রিনিংয়ের পর ছবিটির সেন্সর স্থগিত করা হয়।


 
সেন্সরবোর্ডের এক সদস্য জানান, সিনেমাটি হোলে আর্টিজান ঘটনার পটভূমিতে নির্মিত। কারণ সেন্সর ছাড়পত্রের জন্য জমা দেয়ার পর সেন্সরবোর্ডে যারাই সিনেমাটি দেখেছেন তারাই এই ধরনের মত দিয়েছেন। তাই চলচ্চিত্রটি প্রথম দেখার পর তারা কিছু সংশোধন চেয়েছিলেন। কিন্তু নির্মাতা কিংবা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান তা করে দেননি। এতে দেশের ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে এটির ছাড়পত্র দেয়া হয়নি।

কিন্তু পরিচালক ফারুকী বলছেন, সিনেমাটি মোটেই এটি হোলে আর্টিজান বেকারিতে হামলার ঘটনা নিয়ে নয়, ওই ঘটনার ‘অনুপ্রেরণায়’ নির্মিত একটি কাহিনীচিত্র। তিনি বলেন, ছবিটি জমা দেয়ার পর সেন্সরবোর্ডের পক্ষ থেকে এক দিন শুধু ফোনে আমার কাছে একটি কারেকশন চাওয়া হয়েছিল। এরপর আজ পর্যন্ত আমি জানি না এটা আটকে দেয়া হয়েছে নাকি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ভালো বলতে পারবে।

প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়ার চেয়ারম্যান আবদুল আজিজ জানান, সেন্সরবোর্ড ‘শনিবার বিকেল’ নিয়ে কি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা এখনো তিনি জানেন না।

তিনি আরো বলেন, সেন্সরবোর্ডের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার তার কাছে একটি চিঠি এসেছে। কিন্তু এখনো তিনি তা পড়েননি। তাই কোনো মন্তব্য করতে পারছেন না। ছবিটি নিষিদ্ধ হলে কি করবেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আগে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসুক তারপর ব্যবস্থা। তবে নিষিদ্ধ করে থাকলে আদালতে আপিল করবেন বলে তিনি জানান।

ছবির কাহিনীর বিষয়ে ফারুকী বলেন, আমাদের গল্পের চরিত্রগুলোর সাথে হোলে আর্টিজানের ঘটনার কোনো মিল নেই। তবে হোলে আর্টিজানের চরিত্রগুলোর আত্মত্যাগ, কোথাও কোথাও বীরত্ব গাথা আছে। এই বীরত্ব এবং আত্মত্যাগ থেকে আমরা উৎসাহিত হয়েছি। আসলে আমি অন্য রকম একটা গল্প বলতে চেয়েছি। যেমন ‘একটা শনিবার বিকেল, সুন্দর বিকেল, ঝরঝরে বিকেল, চমৎকার বিকেল কী করে দুঃসহ ও বিভীষিকাময় হয়ে উঠল, এমটি বলতে চেয়েছি।

বাংলাদেশ-ভারত-জার্মান এই ত্রিদেশীয় যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ‘শনিবার বিকেল’ বাংলা ভাষা ছাড়াও ইংরেজি ভাষাতেও হয়েছে ডাবিং। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান মাস দুয়েকের মধ্যে সিনেমাটি মুক্তি দেয়ার কথা।

২০১৭ সালের ৩০ ডিসেম্বর থেকে সিনেমাটির মহড়ায় অংশ নেন অভিনয়শিল্পীরা। মহড়া শেষে গত বছরের ৫ জানুয়ারি ঢাকার কোক স্টুডিওতে ‘শনিবার বিকেল’ ছবির শুটিং শুরু হয়। বাংলাদেশ থেকে এই সিনেমা প্রযোজনা করেছে জাজ মাল্টিমিডিয়া ও ছবিয়াল, আরো আছেন ভারতের শ্যাম সুন্দর দে।

ছবিতে অভিনয় করেছেন জাহিদ হাসান, তিশা, ইরেশ যাকের, মামুনুর রশীদ প্রমুখ। আছেন ফিলিস্তিনের অভিনেতা ইয়াদ হুরানি ও ভারতের কলকাতার পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়।

তারিখ সিলেক্ট করে খুজুন