বুধবার, ১৭-জুলাই-২০১৯ ইং | বিকাল : ০৫:৩২:২৫ | আর্কাইভ

ঢাকা-১৫ আসনের নির্বাচনের কারচুপির খন্ডচিত্র

তারিখ: ২০১৮-১২-৩০ ০৬:১৮:৩৩ | ক্যাটেগরী: সংসদ নির্বাচন-২০১৮ | পঠিত: ৭১ বার

ঢাকা-১৫ আসনে পুলিশের সহায়তায় সরকারি দলের কর্মীদের সীমাহীন বাধার মুখে পড়েছে ধানের শীষের প্রতীকের পোলিং এজেন্ট সহ নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্তরা। অনেক কেন্দ্রেই পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়া হয়নি। কোথাও কোথাও তাদেরকে নির্দয়ভাবে পিটিয়ে গুরুতর যখম করা হয়েছে। সরকার দলীয় সন্ত্রাসীরা আলী হোসেন কেন্দ্রের প্রধান এজেন্ট জাহিদ হোসেনকে রক্তাক্ত যখম করা হয়েছে।  ঢাকা-১৫ আসনে ৯০ টি কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকের এজেন্টদের কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়নি পুলিশ ও নৌকা প্রতীকের সমর্থকরা। ১০ জন ধানের শীষ এজেন্টকে ছাত্রলীগ-যুবলীগ কর্তৃক অপহরণ ও পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

মনিপুর স্কুল এন্ড কলেজ ব্রাঞ্চ-৩ কেন্দ্রে, ইব্রাহিমপুর সালাউদ্দিন শিক্ষালয়ে ধানের শীষ প্রতীকের এজেন্টদের যুবলীগ নেতা আলমগীরের কার্যালয়ে আটকে রেখেছেন। তাছাড়া মিরপুর আদর্শ স্কুল, রোটারী স্কুল এন্ড কলেজ, মমতাজ উদ্দিন মেমোরিয়াল কিন্ডার গার্ডেন, হলি চাইল্ড কিন্ডার গার্ডেন, হাজী আলী ইউসুফ স্কুলে ধানের শীষ প্রতীকের এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ করেন। এছাড়া শেরেবাংলা নগরের হালিম ফাউন্ডেশনের তিনটি কেন্দ্র আওয়ামীলীগ সভাপতি বেলাল হোসেন ধানের শীষের এজেন্টদের ঢুকতে দেয়নি। বিশেষ শিক্ষা কেন্দ্রে ঢাকা মেট্রো-১২২১৩৩ গাড়ি ব্যবহারকারী ম্যাজিস্ট্রেট, ১১০০০৫ গাড়ির বিজিবিকে জানানো হলেও তার কোন প্রকার প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। বরং ধানের শীষের  লোকজনদেরকে সেখান থেকে চলে যেতে বলেছে।  এর আগে গতরাতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী কামাল আহমেদ মজুমদারের কর্মীরা লাইট অফ করে ও কেন্দ্রের পাশে থাকা বাড়িগুলোর সিসি ক্যামেরা জোরপূর্বক খুলে নিয়ে গতকাল সন্ধ্যা ৭ টা থেকে কেন্দ্রগুলো দখলে নিয়ে নৌকায় সিল মেরেছে। স্থানীয় পুলিশ ও সেনা ক্যাম্পে অভিযোগ করেও এ বিষয়ে কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি।
রাতে আওয়ামী লীগের দখলে থাকা কাফরুল এর ১৩ সেকশন আল জাহরা কেন্দ্র, আদর্শ স্কুল, মিরপুর-১০ এর পূর্ব দিকে ১৩নং হাজী আলী হোসেন স্কুল, পশ্চিম শেওড়াপাড়া ইস্ট ওয়েস্ট স্কুল, ইউনানী আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ, আবুল হোসেন স্কুল, মনিপুর বালক স্কুল ও মনিপুর বালিকা স্কুল ভবনের মোট ৫০ টি কেন্দ্র দখল করে ভোট কেটে নেয় তারা। 

সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যমতে,কাজী পাড়া সিদ্দিকিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে সরকার দলীয় সন্ত্রাসীরা ধানের শীষের পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়নি। তারা তাদের হাত-পা ভেঙে দেয়ার হুমকী দেয়। মনিপুর ব্রাঞ্চ ৩  ও হাজী ইউসুফ স্কুলে  ধানের শীষ এজেন্টদের ঢুকতে দেয়া হয়নি।
হারমান মেইনার কেন্দ্রে পুলিশ এজেন্টদের মেরে তাড়িয়ে দিয়েছে। তারা হলেন রুমেল, বাচ্চু, জাহিদ, আয়েশা, সুমী, রওজাতুনরুম্মান ও জান্নাতি। মনিপুর অঞ্চলের মহিলা ভোটকেন্দ্রে পুরুষ পোলিং এজেন্ট ঢুকতে দেয়া হয়নি। ফলে বুথগুলো থাকে সরকারি দলের দখলে।
আলী হোসেন কেন্দ্রে ধানেরশীষের প্রধান এজেন্ট জাহিদ হোসেনকে নির্দয়ভাবে পিটিয়ে আহত ও রক্তাক্ত করা হয়েছে। আদর্শ স্কুল কেন্দ্রে একজনকে মারধর করা হয়েছে। শেরেবাংলা প্রাইমারী কেন্দ্রে মেরে আহত করা হয়েছে।

ইব্রাহীমপুর সালাহউদ্দীন শিক্ষা কেন্দ্রে ধানের শীষ এজেন্টদের ধরে নিয়ে গিয়ে যুবলীগ নেতা আলমগীরের অফিসে আটকিয়ে রেখেছে। নদার্ন স্কুলে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের কর্মীরা এজেন্টদের ঢুকতে দিচ্ছে না। শেরেবাংলা নগরে ৩টি কেন্দ্রে ধানের শীষের কোন এজেন্টকে ঢুকতে দেয়া হয়নি। এসব কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ নেতা বেলাল হোসেনে নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা তান্ডব চালাচ্ছে। 
১০ নং সেনপাড়া পশ্চিম এলাকায় সরোজ ইন্টারন্যাশনাল ও ওয়াই এম সি ভবন থেকে এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে। পীরেরবাগ এলাকায় নিউ মডেল ইন্টারন্যাশনাল থেকে পুলিং এজেন্ট বের করে দেয়া হয়েছে। মনিপুর ব্রাঞ্চ ৩ এ গিয়াস উদ্দীন তালুকদারকে পিটিয়ে ছাত্রলীগ কর্মীরা কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়েছে। ফুলকুঁড়ি কিন্ডার গার্টেন কেন্দ্র থেকে পুলিশ একজনকে আটক করেছে। মিরপুর ১৪ নং ওয়ার্ড অংশে মমতাজ উদ্দীন মেমোরিয়াল স্কুল , স্কলার কিন্ডার গার্টেন, কাজীপাড়া সিদ্দিকীয়া মাদ্রাসা, মনিপুর ব্রাঞ্চ ৩ এ সকল ভবনে পুলিং এজেন্ট ডুকেছিল এখন সবাইকে বের করে দিয়েছে। মিরপুর-১০ এলাকার ১০ টি কেন্দ্রের ৪৫ টি বুথের সকল বুথ থেকেই ধানের শীষের পুলিং এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেয়া হয়েছে। দু’জনকে সরকার দলীয় সন্ত্রাসীরা ধরে নিয়ে গেছে। পীরেরবাগ আলীমুদ্দীনের স্কুলের ৪ নং বুথকে থেকে এজেন্টদের বের করে দিয়ে তাদেকে আটকে রাখা  হয়েছে। ইব্রাহিমপুুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কাউকেই ঢুকতে দেয়া হয়নি। হাজী আশরাফ আলী কেন্দ্রে শামসুল হুদা নামের একজনকে পিটিয়ে আটকে রেখেছে সরকার দলীয় সন্ত্রাসীরা। চেরিগ্রাম স্কুলের এজেন্ট ইমরানকে কমিশনার মতি মোল্লার অফিসে আটকে রেখেছে। ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা আবু হানিফ, সামিউল হুদা, আব্দুল কুদ্দুস, রাসেল ও ইমরানকে তুলে  নিয়ে গেছে। যাওয়ায় তারা এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। 
সার্কিকভাবে পুলিশের সহায়তায় সরকারি দলের ঢাকা-১৫ আস

নের ৯০ টি কেন্দ্রের পুরোপুরি দখলে নিয়ে নৌকার পক্ষে গণহারে সিল মারছে। পুলিশ বিজয় ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের সামনে থেকে হাসান আল ফেরদাউস ও বান্না নামের দু’জনকে আটক করেছে। মূলত গোটা নির্বাচনী এলাকায় শত শত মানুষকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেফতার করেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের কোন পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে। পুলিশ ও সরকার দলীয় সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত হয়েছেন জাহিদ হোসেন, রুমেল, বাচ্চু, জাহিদ, গিয়াস উদ্দীন তালুকদার, শামিউল হুদা, আব্দুল কুদ্দুস, রাসেল ও ইমরানসহ অসংখ্য মানুষ। 
এদের মধ্যে আলেয়া, সুমী, রওজাতুন রুম্মান ও জান্নাতি বেগম নামীয়া মহিলারাও রয়েছেন। এ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক মানুষকে সরকার দলীয় সন্ত্রাসীরা তুলে নিয়ে গেছে। এদের মধ্যে আবু হানিফ, শামিউল হুদা, আব্দুল কুদ্দুস,  রাসেল, ইমরান, শামসুল হুদ, শাহজাহান ও সোগের পরিচয় জানা গেছে। এরা প্রত্যেকেই সন্ত্রাসী হামলা গুরতরভাবে আহতও হয়েছেন। অন্যদের এখন পর্যন্ত পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।

তারিখ সিলেক্ট করে খুজুন