সোমবার, ২৫-মার্চ-২০১৯ ইং | বিকাল : ০৫:৫১:২৭ | আর্কাইভ

জামায়াত সমর্থিত ২৫ আসনে ৯ প্রার্থীসহ গ্রেপ্তার ৩ হাজার 

তারিখ: ২০১৮-১২-২৬ ০৮:০৪:৪০ | ক্যাটেগরী: সংসদ নির্বাচন-২০১৮ | পঠিত: ১০১৭ বার

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক হারে গ্রেপ্তার ও গায়েবি মামলা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে জামায়াত সমর্থিত ২৫ টি আসনের প্রার্থীদের নির্বাচনী এলাকায় নির্বিচারে হামলা, গনগ্রেফতার অব্যাহত রেখেছে পুলিশ ও সরকারদলীয় লোকজন।যার কারনে জামায়াত সমর্থিত অনেক প্রার্থীরা জনসংযোগ করতে পারছেনা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বানের তফসিল ঘোষনার আগে থেকে চট্রগ্রাম-১৫ আসনের প্রার্থী আনম শামছুল ইসলাম,কক্সবাজার-২ হামিদুর রহমান আজাদ,সাতক্ষীরা-২ আসনের মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক,খুলনা-৬ আসনের মো. আবুল কালাম আজাদ,ঠাকুরগাঁও-২ মাওলানা আব্দুল হাকিম কারাগারে রয়েছে।

নির্বাচনে গনসংযোগ কালে জামায়েত সমর্থিত বেশ কিছুু প্রার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন ঝিনাইদহ-৩ আসনের অধ্যাপক মতিয়ার রহমান, , সাতক্ষীরা-৪ আসনের গাজী নজরুল ইসলাম,যশোর-২ আসনের মুহাদ্দিস আবু সাইদ,গাইবান্ধা ২ আসনের প্রার্থী মাজেদুর রহমান।

সাতক্ষীরা-৪ আসনের ধানের শীষের প্রতীকের প্রার্থী জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে কারাগারে সাক্ষাৎকালে স্ত্রী ও মেয়েকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। বাগেরহাট ৪ আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ আব্দুল আলিমের নিজ বাসায় পুলিশের সহায়তায় সরকার দলীয় লোকজন হামলা করে।পুলিশ তার বাসায় থেকে আব্দুল আলিমসহ ৮৭ জনকে আটক করে। হামলায় প্রায় অর্ধ শতাধিক লোক আহত হয়।যশোর ২ আসনে মুহাদ্দিস আবু শাহাদাত হোসেনের বাসায় হামলা করে ঘর ভাংচুর করে।পরে তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয়।কক্সবাজার ২ আসনে কারাবন্দী হামিদুর রহমান আযাদের পক্ষে তার স্ত্রীর গনসংযোগ করতে গেলে তিনি হামলার স্বীকার হন।এতে অনেক নেতাকর্মী আহত হয়।সিরাজগঞ্জ ৪ আসনে রফিকুল ইসলাম খানের পক্ষে প্রচারণা থেকে ইয়াছিন আলী (৩২) নামক এক ব্যক্তিকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। পরবর্তী সময়ে তার পায়ে গুলি করা হয়।
কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এর নির্বাচনী প্রস্তাবক অ্যাডভোকেট শাহজাহান ও আইনজীবী এ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজনকে সাদা পোশাকধারী তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার দুপুর ২টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে বের হওয়ার পর তাঁদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।।দিনাজপুর-১ (বীরগন্জ-কাহারোল) আসনে প্রার্থী মোহাম্মদ হানিফের গসেংযোগ ও পথসাভায় পুলিশ ও ছাত্রলীগ যৌথভাবে অতর্কিত হামলা চালিয়েছে।এতে প্রার্থীসহ প্রায় ৭ জন আহত হয়, ৩ জন গ্রেপ্তার এবং ২টি মোটর সাইকেলে আগুন দেওয়া হয়।ঢাকা ১৫ আসনের প্রার্থী ডাঃ শফিকুর রহমানের নির্বাচনের সমন্বয়ক ডঃ রেজাউল করিমকে সাদাপোশাকধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।তিনদিন পর তাকে বিস্ফোরক দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।এছাড়াও কাফরুল ও পল্লবী এলাকা থেকে ডাঃ শফিকুর রহমানের নির্বাচনী অফিস থেকে ১৮ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়,খুলনা ১১০ সাতক্ষীরা ২১৭, যশোর১১৭ বাগেরহাটে ২২০,রংপুর ও গাইবান্ধায় ২০৭,চট্টগ্রাম ১৮৭,কক্সবাজার ১৩৭,কুমিল্লায় ১৮৯, দিনাজপুরে ১১১, নীলফামারী,৮৬,ঠাকুরগাও ১৫৬, ঝিনাইদহ ১৪৭,সিরাজগঞ্জ ১০৭,চাপাইনবাগন্জে ৪০,পিরোজপুর ৮০ জনসহ সারাদেশে প্রায় তিহাজার নেতাকর্মী গ্রেফতার করা হয়েছে।
এছাড়াও মামলা হয়েছে ৩ শতাধিক, নিখোঁজ রয়েছে ৮ জন। বাড়ি ঘর ভাংচুর করা হয়েছে ৪ শতাধিক, ১শত নির্বাচনি কার্যালয় পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, হামলায় আহত হয়েছে ২৫০ জন। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,সারাদেশে জামায়াত সমর্থীত আসন গুলোতে পুলিশ ও সরকার দলীয় লোকদের বাধার মুখে নির্বাচনের কার্যক্রম পরিচালনায় করতে পারতেছেনা।অধিকাংশ নেতাকর্মী এলাকায় যেতে পারতেছেনা।

তারিখ সিলেক্ট করে খুজুন