বৃহঃবার, ২০-জুন-২০১৯ ইং | বিকাল : ০৫:০৭:৫৬ | আর্কাইভ

সোয়া ২ কোটি বই এখনো বাকি

তারিখ: ২০১৮-১২-১৩ ০৩:১৬:১৬ | ক্যাটেগরী: শিক্ষা | পঠিত: ৯২ বার

১ জানুয়ারি উৎসব করে শিক্ষার্থীদের হাতে বই দেওয়া হবে
মোট ৩৫ কোটি ২১ লাখ ৯৭ হাজার ৮৮২টি বই ছাপা হচ্ছে 
বই ছাপায় খরচ পড়ছে প্রায় ১ হাজার ৮২ কোটি টাকা
আসন্ন নতুন শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত বিনা মূল্যের বই ছাপার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে আপত্কালীন মজুতসহ এখনো সোয়া দুই কোটি বই মাঠপর্যায়ে পাঠানোর কাজ বাকি। এবার নতুন বইয়ের বিষয়বস্তুতে পরিবর্তন নেই। তবে পরীক্ষামূলকভাবে দুটি নতুন বই দেওয়া হচ্ছে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। অবশ্য এনসিটিবির চেয়ারম্যান নারায়ণ চন্দ্র সাহা গতকাল বুধবার প্রথম আলোকে বলেছেন, চাহিদা অনুযায়ী মোটামুটি প্রায় সব বই মাঠপর্যায়ে চলে গেছে। বাকি বইও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চলে যাবে। তিনি বলেন, গতকাল সিদ্ধান্ত হয়েছে, আগামী ১ জানুয়ারিতেই উৎসব করে সারা দেশে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়া হবে। এর আগে ২৪ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কয়েকজন শিক্ষার্থীর হাতে বই তুলে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিনা মূল্যের বই বিতরণের কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে ১ জানুয়ারি উৎসব করে বই দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন।

এনসিটিবি সূত্রমতে, ২০১৯ সালের জন্য প্রাক্-প্রাথমিক, প্রাথমিক থেকে শুরু করে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত ৪ কোটি ২৬ লাখ ১৯ হাজার ৮৬৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য মোট ৩৫ কোটি ২১ লাখ ৯৭ হাজার ৮৮২টি বই ছাপা হচ্ছে। এতে খরচ পড়ছে প্রায় ১ হাজার ৮২ কোটি টাকা।

এনসিটিবির উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্রমতে, এবার বড় তিনজন মুদ্রণকারী একাধিক প্রতিষ্ঠানের নামে প্রায় ১০ কোটি বই ছাপার কাজ পান। এর মধ্যে প্রায় দেড় কোটি বই এখনো মাঠপর্যায়ে পাঠানো যায়নি। যদিও নির্ধারিত সময় অনুযায়ী কাগজপত্রে তাঁদের হাতে শুক্রবার পর্যন্ত সময় আছে। এর বাইরে আরও ৭৫ লাখের মতো বই মাঠপর্যায়ে যায়নি। এবার আপত্কালীন মজুত বইয়ের সংখ্যা ৮৮ লাখ ৪ হাজার ৯৪৭টি।

এ ছাড়া ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর পাঁচটি ভাষায় রচিত প্রায় পৌনে তিন লাখ বই ছাপার কাজও বাকি আছে। যদিও এসব বই ছাপার জন্য ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় আছে। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ৯৮ হাজার ১৪৪ জন শিক্ষার্থীকে প্রাক্-প্রাথমিক, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির বই দেওয়া হচ্ছে।

এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) রতন সিদ্দিকী প্রথম আলোকে বলেন, বই ছাপা ও মাঠপর্যায়ে পাঠানো নিয়ে এবার কোনো জটিলতা নেই। তবে ছাপাকৃত বইয়ের ছাড়পত্র দেওয়ার পরও যাতায়াতে মাঠপর্যায়ে পৌঁছাতে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সময় লেগে যায়।

নতুন দুটি সম্পূরক বই
এনসিটিবি সূত্রমতে, এবারও বইয়ের বিষয়বস্তু গতবারের মতোই রয়েছে। বিষয়বস্তুতে কোনো পরিবর্তন নেই। এর আগে ২০১৭ সালে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের দাবি অনুযায়ী প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের পাঠ্যবইয়ে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়। এরপর এ নিয়ে ব্যাপক আপত্তি উঠলেও সেগুলো আর পরিবর্তন হয়নি। এবারও সেসব বিষয়বস্তুই থাকছে।

তবে এবার পরীক্ষামূলকভাবে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত সম্পূরক কৃষিশিক্ষা নামে নতুন একটি বই দেওয়া হচ্ছে। অবশ্য এসব বই সব শিক্ষার্থী পাবে না। এনসিটিবির একজন কর্মকর্তা বলেছেন, নির্বাচিত কিছু বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এই বই দেওয়া হবে। এ জন্য ১ লাখ ২৪ হাজার ২৬১টি বই ছাপা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কৃষিশিক্ষা সম্পর্কে ধারণা দিতেই এই বই দেওয়া হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে জাতীয়ভাবে কোনো পরীক্ষা হবে না।

এর বাইরে এনসিটিবি অনুমোদিত হিজড়াদের নিয়ে লেখা ‘বৈচিত্র্যময় মানুষ’ নামে একটি সম্পূরক বই ষষ্ঠ শ্রেণির কিছু শিক্ষার্থীকে পরীক্ষামূলকভাবে দেওয়া হবে। এই বইয়ের জন্য অর্থায়ন করছে বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি (বন্ধু)। অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালের একটি প্রবন্ধসহ মোট চারটি প্রবন্ধ নিয়ে লেখা ছোট এই বই সংকলন ও সম্পাদনা করেছেন অধ্যাপক রতন সিদ্দিকী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ধারণা দিতে পরীক্ষামূলকভাবে ১ হাজার বই নির্বাচিত ১০টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দেওয়া হবে।

তারিখ সিলেক্ট করে খুজুন