শনিবার, ২৪-অক্টোবর-২০২০ ইং | সকাল : ০৬:৫২:২০ | আর্কাইভ

গণধর্ষণের প্রতিবাদ ও জড়িতদের শাস্তির দাবীতে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ

তারিখ: ২০২০-০৯-২৯ ১০:৪৩:০২ | ক্যাটেগরী: রাজনীতি | পঠিত: ৩২ বার

ঢাকা ভয়েস: সিলেট এমসি কলেজের ছাত্রাবাসের সামনে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের কর্তৃক স্বামীকে আটক রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে এবং অবিলম্বে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।  

আজ মঙ্গলবার বেলা ৫টায় কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক রাশেদুল ইসলামের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিলটি রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্ত্বর থেকে শুরু হয়ে ইত্তেফাক মোড়ে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। এতে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ কয়েক হাজার নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। 

মিছিলোত্তর সমাবেশে ছাত্রশিবিরের নেতৃবৃন্দ বলেন,সরকারদলীয় সন্ত্রাসীদের একের পর এক নৃশংস ও লোমহর্ষক ঘটনায় দেশবাসী আজ আতঙ্কিত। বিচারহীনতার কারণে ধর্ষণ এখন মহামারিতে পরিণত হয়েছে। গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সিলেট এমসি কলেজ প্রাঙ্গণে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে জোরপূর্বক গণধর্ষণ করে ছাত্রলীগের চিহ্নিত ৬ সন্ত্রাসী। একটি স্বনামধন্য কলেজের ভেতরে এমন কলঙ্কজনক ঘটনার ব্যাপারে ঘৃণা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। করোনার কারণে যেখানে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে সেখানে কিভাবে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা ছাত্রাবাসের ভেতরে বহাল তবিয়তে ছিল তা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এমসি কলেজের হলে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের অবৈধ অবস্থান ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের পেছনে কলেজ কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের মদদ রয়েছে তা আজ দিবালোকের মত পরিস্কার। এর আগেও এমসি কলেজের ঐতিহ্যবাহী ছাত্রাবাসগুলোকে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে জ্বালিয়ে দিয়ে উল্লাস করেছিল। যার মর্মান্তিক দৃশ্য গণমাধ্যমের কল্যাণে দেশবাসী দেখেছে। এ ঘটনার সারাদেশে নিন্দার ঝড় উঠেছিল। কিন্তু আজ পর্যন্ত সেই বর্বরতার কোন বিচার হয়নি। ফলে আবারো একই জায়গায় আরেকটি কলঙ্কজনক নজির সৃষ্টি করেছে ছাত্রলীগের নরপশুরা।

নেতৃবৃন্দ বলেন, মূলত দলীয় পরিচয়ের কারণে সরকারের বিচারহীনতা ও সরাসরি প্রশ্রয়ে ধর্ষণের মত ঘৃন্য কাজ নির্বিঘ্নে করে যাচ্ছে নরপিশাচরা। আর এসব অপকর্মে বেশির ভাগ সরকার-দলীয় সন্ত্রাসীরা জড়িত থাকার কারণে সরকার এমন জঘন্য বিষয়গুলো এড়িয়ে গেছে বরাবর। এখন পর্যন্ত তার কোনটিরই সুষ্ঠু বিচার হয়নি। ফলে উৎসাহ পেয়ে নরপিশাচদের লোমহর্ষক অপকর্ম বেড়েই চলেছে। যার প্রমাণ, এমসি কলেজে ধর্ষণের ঘটনার পরপরই চট্টগ্রামে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষনের শিকার হয়েছে এক তরুণী। সাভারেও ধর্ষণের স্বীকার হয়েছে আরেক যুবতী। তাছাড়া গাড়ী, কর্মস্থলসহ নানা স্থানে অহরহ ধর্ষণের ঘটনা বেড়েই চলেছে। আসলে সারাদেশেই ধর্ষণ মহামারিতে রুপ নিয়েছে। যা গোটা জাতিকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। শিশু,তরুণী, শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকরা গভীর শঙ্কায় দিন যাপন করছে। চরম বিচারহীনতা আজকের এই ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য দায়ী। স্কুল,কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয়,রাস্তাঘাটসহ কোন জনপদেই যেন আজ নারীরা নিরাপদ নয়। ধর্ষণের ধরণ এবং মাত্রা আইয়্যামে জাহেলিয়াতকেও হার মানাচ্ছে।  এটা কোন সভ্য সমাজ বা দেশের চিত্র হতে পারে না। 

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, সরকারের বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও পাশ কাটানো ভূমিকায় মনে হয় তারা দলীয় সন্ত্রাসীদের কাছে মা-বোনদের সম্ভ্রমহানীর লাইসেন্স দিয়েছে। কিন্তু এদেশের ছাত্রজনতা তা মেনে নিতে পারে না। সরকার যদি বিচারহীনতার ধারা অব্যাহত রাখে তাহলে ছাত্রসমাজ কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে। এসব কুলাঙ্গার,কাপুরুষ,অমানুষদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার সময়ের অপরিহার্য দাবী। ছাত্রসমাজের দাবী, আর একটা নারীও যেন ধর্ষণ, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার না হন। শুধু চলমান অপরাধীরা নয় বরং সারাদেশে ইতিপূর্বে গ্রেপ্তারকৃত ও চিহ্নিতদেরও খুঁজে কঠিন বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।

তারিখ সিলেক্ট করে খুজুন