মঙ্গলবার, ১৫-অক্টোবর-২০১৯ ইং | সকাল : ০৯:০৭:১১ | আর্কাইভ

ছাত্রসংগঠনের টেন্ডারবাজী ও দেশের ভবিষ্যত

তারিখ: ২০১৯-০৯-২১ ০৭:৫৬:২৬ | ক্যাটেগরী: মতামত | পঠিত: ২৪ বার

বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতির গৌরবময় ইতিহাস ভাষাআন্দোলন ,৬৯ এর গন অভ্যূত্থ্যান ,স্বাধীনতা আন্দোলন,৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন দেশ ও জাতীর প্রয়োজনে ছাত্রদের আপোষহীন ভূমিকা প্রশংসনীয়, জাতীর প্রয়োজনে নেতৃত্ব এগিয়ে এসেছেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, এ কে ফজলুল হক, মাওলানা ভাষানী, বঙ্গবন্ধুর মত অনেকেই. স্বাধীনতা পরবর্তী নেতৃত্বের দ¦ন্দ্বে ছাত্ররাজনীতির গুনগত পরিবর্তন লক্ষ করা যায়নি, আশিঁর দশকে ছাত্রদেরকে অতিমাত্রায় নিয়ন্ত্রনের ফলে ছাত্ররাজনীতির চর্চা বাঁধাগ্রস্থ হয়। ফলে বাঁধভাঙ্গা ¯্রােতের ন্যায় ৯০ স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদের তোপের মুখে এরশাদ ক্ষমতা ছাড়কে বাধ্য হন। পরবর্তীতে ছাত্র রাজনীতিতে স্বকীয়তা ধরে রাখার পরিবর্তে লেজুড়বৃত্তি,¡ সন্ত্রাসী, অশ্রবাজী, ও নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।  এ সুযোগে সুবিধা ভোগীরা ছাত্রদেরকে বিনিময়ে পেশাদারে পরিনত করে।  যোগ হয় মাদক, নকল, অস্ত্র, ধর্ষনের মত অনৈতিক কাজের প্রতিযোগীতা। যা জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া মানিকের ধর্ষনের সেঞ্চুরী।
বিংশ শতাব্দীর শুরুতে জ্ঞান বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তির প্রতিযোগীতায় ছাত্রদের মধ্যে ছাত্ররাজনীতির গুনগত পরিবর্তনের পিপাসা থাকলেও দীর্ঘদিনের ধ্বজ্জাদারী লেজুড়বৃত্তির নিয়ন্ত্রন থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনী। আরো ও নতুন মাত্রায় যোগ হয় চাঁদাবাজি,অস্ত্রবাজী, ভর্তি বানিজ্য, টেন্ডার বাণিজ্য।  ফলে ছাত্ররাজনীতি লাঠিয়াল বাহিনী ও বাণিজ্য নির্ভর হয়ে পড়ে। নেতৃবৃন্দ দীর্ঘদিন গ্রুপ ও বড় ভাইদের নিয়ত্রন থেকে এবার অর্থের লুলুপ দৃষ্টি সামলাতে না পেরে নিজেদের আধিপত্য টিতে রাখতে একে অন্যকে হত্যা করতে কুন্ঠাবোধ করেনি। তখন হত্যা, সন্ত্রাস, ছিনতাই, চাঁদাবাজি নেশা ও পেশায় পরিনত হয়। সমাজের বিশৃংখলা ও জনমনে আতংক বাড়তে থাকলে সরকার বাধ্য হয়ে অপারেশন ক্লিন হার্ট পরিচালনা করে আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রনে নেয় এবং আইন শৃংখলা বাহিনী শক্তিশালী নতুন শাখা র‌্যাব গঠন করে। 
নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নতুন সরকার গঠন করলে আবার পুরনো ধাচে আধিপত্য ও নিয়ন্ত্রনের প্রতিযোগীতা শুরু হয়। ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত হয় কলেজ বিশ^বিদ্যালয়ের হল ও প্রতিষ্ঠানে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়ার রেওয়াজ। প্রায় ১৩২ টি প্রতিষ্ঠানে আগুন দেয়া হয়। যার সর্ব শেষ আগুনের শিকার হয় সিলেট এম সি কলেজ। আর ক্যাম্পাসের আধিপত্য নিয়ন্ত্রন পাহারাদারির দায়িত্বে রাখা হয় ছাত্রদেরকে এবং সকল অনৈতিক কাজকে বৈধতা দেয়া হয়. ফলে ছাত্ররা জড়িয়ে পড়ে ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা, ভর্তি বানিজ্য, টেন্ডার বানিজ্য, শিক্ষক নিয়োগ বানিজ্য সহ নানা অপরাধে। যেহেতু বানিজ্যই নেতৃত্ব চর্চার লক্ষ তাই টেন্ডার সহ যেকোন কিছু আদায় করতে কর্তৃপক্ষের উপর চাপ সৃষ্টি কখনও প্রতিপক্ষের উপর হামলা এমন কি শিক্ষককে অপমান করতে দ্বিধাবোধ করেনি। দলীয় পেশি শক্তির প্রয়োজনে রাজনীতিবীদরা অন্ধের মতো সকল আপরাধকে বৈধতা দিয়েছেন। এ সুযোগে ছাত্ররা রাজনীতিকে দুটি মিশন হিসাবে নিয়েছেন
                           ১) চাকরীর নিশ্চয়তা 
                           ২) টেন্ডার ও ভর্তি বানিজ্য নিশ্চয়তা
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি শুভন সেক্রেটারী রব্বানী একদিনে এপথে আসেনি দীর্ঘ পথ চলার অভিজ্ঞতা তাকে এপথে নিতে সহায়তা করেছে। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে সাবেক ভিসির মন্তব্যে তাই প্রমান হল শুধু জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয় নয় বাংলাদেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে টেন্ডার, ভর্তি বানিজ্য সহ সকল অপরাধের সাথে ছাত্রলীগ জড়িত যদি খতিয়ে দেখা হয় যে সকল প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলন হয় তার সাথে টেন্ডার, নিয়োগ, ভর্তি বানিজ্য, মাদক অথবা কোন নেতার স¦ার্থ জড়িত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের স¦ার্থে নাম দেয়া হয় শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি অপমান ,স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি হটাও আন্দোলন।  কিন্তু প্রকৃত ঘটনা কখনও প্রকাশ পায়য়ি অপমানের ভয়ে বা অন্ধ আনুগত্যের কারনে। ছাত্র রাজনীতির এমন করুন পরিনতি দেখে সাধারন ছাত্রদের মাঝে দেশাত্ববোধ ও নীতি নৈকিতকতার প্রতিযোগীতার পরিবর্তে নিজ স¦ার্থের প্রধান্য বাড়তে শুরু করেছে। ফলে মেধাবী ও বিবেকবান ছাত্ররা ছাত্ররাজনীতি থেকে দূরে যাচ্ছে। যেহেতু ছাত্রসংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নেতৃত্ব বেরিয়ে আসার কথা ছিল। ছাত্র সমাজ দেশের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকৃয়ার প্রতি আস্তা হারিছে যার  সেচ্চা চারীতা একতরফা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ন্যায় ঢাকসু নির্বাচনে ফলাফল এবং ঢাকসুর ভিপির উপর বার বার হামলা নির্যাতন দেখে .নদীর শ্রুতের স্বাভাবিক গতি আটকালে বা বন্দ করলে বিকল্প পথ খুজে যে কোন দিকে বাদ ভেঙ্গে গেলে সে বাদ আর ধরে রাখা যায় না.ছাত্রদের কোটা বিরুধী আন্দোলন,নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন  যার প্রমান। আজ দেশের এই করুন আবস্হায় ছাত্র ও জনতা যেকোন সময় রান্তায় বেরিয়ে আসতে পারে ।
প্রধানমন্ত্রীর সিদ্বান্তকে স¦াগত জানাই কিন্তু তা গোড়ার দিকে এমন প্রয়োজন ছিল। একের পর এক প্রজন্ম ধ্বংসের দার প্রান্তে। যার জন্য দায়ী নৈতিকতা বিবর্জিত শিক্ষা ব্যবস্থা,রাজনীতিবিদদের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি, সামাজিক অবক্ষয়, ছাত্ররাজনীতিকে বানিজ্যিকি করণ, আকাশ সংস্কৃতির অবাধ সুযোগ সুবিধা।.
আজকের ছাত্রনেতা আগামীদিনের জাতীর ভবিষ্যত কিন্তু এধরনের নৈতিক মুল্যবোধ বিবর্জিত নেতৃত্ব কিভাবে জাতীর নেতৃত্ব দিতে পারবে?
এহেন পরিস্থিতি থেকে জাতিকে পুনরুদ্ধারে দেশের মুল চালিকা শক্তি এগিয়ে আসা সময়ের একান্ত দাবি।
 

লেখক:মো:নজরুল ইসলাম

[email protected]

তারিখ সিলেক্ট করে খুজুন

A PHP Error was encountered

Severity: Core Warning

Message: PHP Startup: Unable to load dynamic library '/opt/cpanel/ea-php56/root/usr/lib64/php/modules/pdo_mysql.so' - /opt/cpanel/ea-php56/root/usr/lib64/php/modules/pdo_mysql.so: cannot open shared object file: No such file or directory

Filename: Unknown

Line Number: 0

Backtrace: