মঙ্গলবার, ১১-ডিসেম্বর-২০১৮ ইং | রাত : ০১:১৫:৪৬ | আর্কাইভ

এলএনজি আমদানিতে নীতিমালা করা হচ্ছে

তারিখ: ২০১৮-১১-২৭ ০৭:০৫:৪৪ | ক্যাটেগরী: অর্থনীতি | পঠিত: ১৩ বার

বেসরকারি পর্যায়ে প্রাকৃতিক তরলীকৃত গ্যাস (এলএনজি) আমদানিতে নীতিমালা করা হচ্ছে। এ নীতিমালার আওতায় আমদানিকারক ও ব্যবহারকারী উভয়পক্ষ আলোচনার ভিত্তিতে গ্যাসের দাম নির্ধারণ করতে পারবে। তবে প্রয়োজনে পেট্রোবাংলা আমদানিকারকদের কাছ থেকে গ্যাস নিতে পারবে, সেক্ষেত্রে গ্যাসের দাম পেট্রোবাংলাই নির্ধারণ করবে।

 

এসব বিধান রেখে বেসরকারি পর্যায়ে এলএনজি আমদানি নীতিমালা-২০১৮ নামে একটি খসড়া তৈরি করেছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি ওই খসড়া নীতিমালাটি সব মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে মতামত চাওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়গুলোর মতামতের ভিত্তিতে নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে।

খসড়া নীতিমালার ভূমিকায় বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক গ্যাসের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার ও দেশের গ্যাসক্ষেত্রের মজুদ হ্রাস পাওয়ায় বর্তমানে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ কঠিন হয়ে পড়েছে। ভবিষ্যতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির কারণে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে পার্থক্য আরও বৃদ্ধি পাবে। এ প্রেক্ষাপটে দেশীয় প্রাকৃতিক গ্যাসের বিকল্প অন্যতম উৎস হিসেবে এলএনজিকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

যদিও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চুরি বন্ধ করতে না পারায় এবং নতুন গ্যাসকূপ খনন না করার কারণেই উচ্চদামে এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে। ২০১৪ সালে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা নির্ধারণের পর মিয়ানমার সমুদ্রে ৫টি গ্যাসকূপ আবিষ্কার করেছে।

বিপরীতে বাংলাদেশ কোনো কূপ অনুসন্ধান করেনি। আবার ব্যবহারের দিক থেকে সিএনজির তুলনায় বাসা-বাড়িতে কম ব্যবহার হওয়ার কথা। কিন্তু সিএনজিতে ৫ শতাংশেরও কম গ্যাস ব্যবহার হয়। অন্যদিকে বাসা-বাড়িতে ব্যবহার ১৬ শতাংশ দেখানো হচ্ছে। বাসা-বাড়ির গ্যাস আত্মসাৎ হয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, সরকারি-বেসরকারি যেভাবেই এলএনজি আমদানি করা হোক না কেন- সবার আগে দামের বিষয়টি ঠিক করতে হবে। এলএনজির দাম বেশি হলে শিল্প প্রতিযোগী সক্ষমতায় পিছিয়ে পড়বে, অর্থনীতি বাধাগ্রস্ত হবে।

এজন্য নীতিমালায় যেসব শব্দ ব্যবহার করা উচিত তা নীতি প্রণয়ন সংশ্লিষ্টদের ভেবে দেখতে হবে। তিনি আরও বলেন, এলএনজি আমদানির পাশাপাশি দেশীয় কূপ খননের দিকে নজর দিতে হবে। কয়লার ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকারকে এখনই উদ্যোগ নিতে হবে।

খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, নিজস্ব বিদ্যুৎ কেন্দ্র, শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে ব্যবহার অথবা বিক্রির উদ্দেশ্যে এলএনজি আমদানি করা যাবে। তবে তার আগে আমদানিকারককে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে অবকাঠামো যেমন স্টোরেজ ট্যাংক ও রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (ভাসমান/স্থলভিত্তিক) নির্মাণ করতে হবে। এরপর প্রতিষ্ঠানের আর্থিক, কারিগরি ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনাসহ অন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তিপত্রের জন্য আবেদন করতে হবে।

প্রতি বছরই অনাপত্তি নিতে হবে। ক্রেতা-বিক্রেতা আলোচনার ভিত্তিতে আমদানিকৃত এলএনজির দাম নির্ধারণ করতে পারবেন। চাইলে উভয় প্রতিষ্ঠান স্বাধীন চুক্তিও করতে পারেন। এলএনজি উদ্বৃত্ত থাকলে পেট্রোবাংলার কাছে বিক্রি করা যাবে। তবে রিগ্যাসিফাইড এলএনজির ২৫ শতাংশ নির্দিষ্ট মেয়াদে পেট্রোবাংলার কাছে বিক্রি করা যাবে।

এক্ষেত্রে পেট্রোবাংলাই এলএনজির দাম নির্ধারণ করবে। এছাড়া জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলা একত্রে অথবা পৃথকভাবে যেকোনো সময় এলএনজি আমদানির জাহাজ, আনলোডিং টার্মিনাল বা জেটি, স্টোরেজ ট্যাংক, এলএনজি পরিবহনের ট্রাক ও রি-গ্যাসিফিকেশন প্লান্ট পরিদর্শন করতে পারবে বলে খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে।

ডিসিসিআই সভাপতি আবুল কাশেম খান বলেন, এলএনজি আমদানি হলে গ্যাসের দাম বাড়বে। সরকার ভর্তুকি না দিলে বেসরকারিভাবে এলএনজি আমদানি ফলপ্রসূ হবে না। তিনি বলেন, এক হিসাবে দেখা গেছে, এলএনজি আমদানির পর শিল্পভেদে ৭০ থেকে ৯০ শতাংশ দাম বাড়বে। টেক্সটাইল, স্টিল খাতসহ উৎপাদনমুখী খাত এ অভিঘাত সহ্য করতে পারবে না।

এজন্য এলএনজির আমদানির আগে খাতভিত্তিক প্রভাব বিশ্লেষণ (ইমপ্যাক্ট অ্যানালাইসিস) করা উচিত। মনে রাখতে হবে সস্তা শ্রম ও জ্বালানির দাম কম হওয়ার কারণে দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আসছে। যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য যুদ্ধের কারণে আরও অনেক চীনা ও জাপানি বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা আছে। এ অবস্থায় জ্বালানির দাম বাড়লে শুধু সস্তা শ্রম দিয়ে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সম্ভব না। তিনি আরও বলেন, এলএনজির দাম নির্ধারণের আগে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত।

পাশাপাশি একবারে দাম না বাড়িয়ে ধাপে ধাপে সহনীয় মাত্রায় গ্যাসের দাম বাড়ালে শিল্প টিকে থাকবে। প্রসঙ্গত, প্রাকৃতিক গ্যাস যে চাপ ও তাপমাত্রায় গ্যাসীয় অবস্থায় থাকে, সেটাকে শীতলীকরণ (রেফ্রিজারেশন) প্রযুক্তির মাধ্যমে তাপমাত্রা কমিয়ে ১৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামিয়ে আনলে তা তরলে পরিণত হয়।

এ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসই হচ্ছে এলএনজি। এলএনজি টার্মিনাল দুই ধরনের হয়ে থাকে। অন-শোর (স্থলে) ও অফ-শোর (সমুদ্রে)। অন-শোর টার্মিনাল নির্মাণ সময়সাপেক্ষ। পক্ষান্তরে অফ-শোর টার্মিনাল নির্মাণে কম সময় লাগে।

তারিখ সিলেক্ট করে খুজুন