বৃহঃবার, ২৫-এপ্রিল-২০১৯ ইং | সকাল : ০৬:১৫:২৩ | আর্কাইভ

অধ্যক্ষ সিরাজ পরিবারের কারোই সন্ধ্যান পাওয়া যাচ্ছে না

তারিখ: ২০১৯-০৪-১৫ ০১:১৫:৫০ | ক্যাটেগরী: সারা দেশ | পঠিত: ১৯ বার

নুসরাতের মৃত্যুর পর থেকেই লাপাত্তা অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার পরিবার। ফেনী পৌর এলাকার ১২নং ওয়ার্ডের চৌধুরী বাড়ি সড়ক। শহরের পাঠানবাড়ি রোড ধরে চৌধুরী বাড়ি হয়ে সড়কটি চলে গেছে মহিপাল পর্যন্ত। এখানকার মকছুদুর রহমান সড়কের একটি বাইলেনের একেবারে শেষপ্রান্তে সিরাজের বাসা। বাড়িটির নাম ‘ফেরদৌস মঞ্জিল’।

ঘরে তালা দিয়ে লাপাত্তা হয়েছে নুসরাত হত্যা মামলার আসামি সিরাজ উদ দৌলার পরিবার। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আজ থেকে ৭ থেকে ৮ বছর আগে ২০ লাখ টাকায় সাড়ে চার শতক জমি কেনেন সিরাজ। প্রথমে টিনশেড বাসা ছিল। তিন বছর আগে দোতলা পাকা দালান করেন প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে। ৬ তলা ফাউন্ডেশনের ওপর দোতলা বাড়ি।

ওই ভবনের দোতলার রাস্তা লাগোয়া বড় ফ্ল্যাটে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন সিরাজ। কয়েকদিন আগে ঘরে তালা দিয়ে গা ঢাকা দেন পরিবারের সদস্যরা। তারা কোনো আত্মীয়ের বাড়িতে থাকতে পারেন বলে ধারণা প্রতিবেশীদের। সিরাজ উদ দৌলার ফ্ল্যাটের মুখোমুখি ফ্ল্যাটে বসবাস করেন ফেনী সদরের ফাজিলপুরের মো. ইব্রাহিম। তিনি বলেন, ৪ থেকে ৫ দিন আগে সিরাজের ঘরের লোকজন তালা দিয়ে চলে গেছেন। তারা কোথায় গেছেন-তা বলতে পারেননি ষাটোর্ধ এই প্রতিবেশী।

তিনি বলেন, আমরা আসলে এতো কিছু জানতাম না। বাইরে থেকে তাকে সাধারণ বলেই মনে হতো। এখন টিভির খবরে আর পত্রিকায় দেখে উনার সম্পর্কে জানতে পারছি।

স্ত্রী আর মেয়ে নিয়ে ওই ভবনের দোতলার একটি ফ্ল্যাটে থাকেন বৃদ্ধ ইব্রাহিম। নীচতলায় একটি তালা দেয়া ফ্ল্যাট রয়েছে। বাসিন্দারা জানান, এই ফ্ল্যাটটিও সিরাজের। এখানে ভাড়াটে ছিল। কিন্তু কয়েক মাস আগে ভাড়াটে চলে গেলে এটি খালি হয়ে যায়। এখনও ভাড়া হয়নি।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আশপাশের কয়েকজন বাড়ি মালিক ও বাসিন্দা বলেন, মাঝে মাঝে তাকে দেখতাম। সকালে বেরিয়ে রাতে ফিরতেন। বিভিন্ন সময় তার ব্যাপারে অনেক অভিযোগ শুনেছি। সিরাজের পরিবারে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে বলে তারা জানান।

প্রতিবেশীরা জানান, ফেনী শহরের পাঠানবাড়ি রোড ও মকছুদুর রহমান সড়কে একাধিক প্রতিষ্ঠানের অংশীদার ছিলেন এই সিরাজ। নানাভাবে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি আর্থিকভাবে লাভবানও হন। এসব খাত থেকে পাওয়া অর্থে প্রায় ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে দোতলা বাড়ি তৈরী করেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত ২৭ মার্চ আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে কক্ষে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগে অধ্যক্ষ সিরাজের বিরুদ্ধে মামলা করেন তার মা। ওই মামলায় গ্রেফতার হয়ে এখন কারাগারে আছেন অধ্যক্ষ। ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় নুসরাত আলিম পরীক্ষা দিতে গেলে সিরাজের লোকজন তার গায়ে আগুন দেয়।

গত বুধবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নুসরাত মারা যান।

তারিখ সিলেক্ট করে খুজুন