বুধবার, ১৭-জুলাই-২০১৯ ইং | বিকাল : ০৪:১৭:৫০ | আর্কাইভ

সূচকের ‘নিয়ন্ত্রিত’ উত্থান-পতন

তারিখ: ২০১৯-০৪-০৮ ১২:৪৬:২৭ | ক্যাটেগরী: অর্থনীতি | পঠিত: ৩৯ বার

• নির্বাচনের পর ডিএসইর প্রধান সূচক বেড়েছিল ৫৬৪ পয়েন্ট 
• আবার ৫১৬ পয়েন্ট কমে সূচক এখন আগের অবস্থানে
• কয়েক বছর ধরে সূচকের নিয়ন্ত্রিত উত্থান-পতন ঘটছে 
• প্রতিবারের উত্থান-পতনে সূচকের ৪০০-৮০০ পয়েন্টের তারতম্য 
• সূচকের উত্থান-পতনে বড় মূলধনি কোম্পানিগুলোর বড় প্রভাব

দেশের শেয়ারবাজারে সূচকের ‘নিয়ন্ত্রিত’ উত্থান-পতন চলছে। বছরে দু-তিন মাসের ব্যবধানে বাজারে সূচকের উত্থান যেভাবে হচ্ছে, পতনও হচ্ছে সেভাবেই। বাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কিছুসংখ্যক বিনিয়োগকারী কারসাজির মাধ্যমে সূচকের ওপর এ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে লাভবান হচ্ছেন। বিশেষ করে রাজনীতি ও নির্বাচনসহ জাতীয় বিভিন্ন ইস্যু, জাতীয় বাজেট ও নানা ধরনের গুজব ছড়িয়ে বাজারে সূচকের উত্থান-পতন ঘটানো হচ্ছে।

চলমান ধারাবাহিক পতনে শেয়ারবাজার ফিরে গেছে গত জাতীয় নির্বাচনের আগের অবস্থায়, যখন (২৭ ডিসেম্বর) ডিএসইএক্স সূচক ছিল ৫৩৮৬ পয়েন্টে এবং তখন মোট লেনদেন ছিল ৫৩৮ কোটি টাকা। গতকাল রোববার ওই সূচক নেমেছে ৫৪৩৪ পয়েন্টে এবং লেনদেন কমে হয়েছে ৩৩১ কোটি টাকা। অথচ গত তিন মাসের এই সময়ের মধ্যে সূচক বেড়ে হয়েছিল ৫৯৫০ পয়েন্ট এবং লেনদেন বেড়ে হয়েছিল প্রায় ১২০০ কোটি টাকা।

প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) গত পাঁচ বছরের উত্থান-পতনের তথ্য বিশ্লেষণ করে বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, কয়েক বছর ধরে সূচকের নিয়ন্ত্রিত উত্থান-পতন ঘটছে। প্রতিবারের উত্থান-পতনে সূচকের ৪০০ থেকে ৮০০ পয়েন্টের তারতম্য ঘটে।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী এ বিষয়ে প্রথম আলোকে বলেন, ২০১০ সালের ধসের পর থেকেই বাজারে সূচকের একধরনের নিয়ন্ত্রিত উত্থান-পতন চলছে। দেখে মনে হচ্ছে কারসাজির মাধ্যমে সূচকের ওপর একধরনের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে একশ্রেণির সুচতুর বিনিয়োগকারী বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার থেকে মুনাফা তুলে নেন। তিনি বলেন, এর পেছনে বড় ধরনের কোনো কারসাজি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে গভীরভাবে তদন্ত করা দরকার। তা না হলে বারবারই সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

বাজারসংশ্লিষ্ট একাধিক পক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাধারণ বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কেনায় আগ্রহী হন মূলত সূচকের উত্থানপর্বে। আর তখনই বড় বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করে দিয়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। তাতে সূচক দ্রুত কমতে থাকে। পতনের একপর্যায়ে এসে বড় বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কিনতে শুরু করেন। দাম বাড়তে শুরু করলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বাজারে সক্রিয় হন, তখনই বিক্রি শুরু করেন বড় বিনিয়োগকারীরা এবং মুনাফা তুলে নিয়ে সাময়িকভাবে নিষ্ক্রিয় হন।

সূচকের উত্থান-পতনে বড় মূলধনি কোম্পানিগুলোর বড় প্রভাব রয়েছে। এসব কোম্পানির শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধিতে সূচক বাড়ে আর দরপতনে সূচক কমে। এ কারণে সূচকের উত্থান-পতন ঘটানোর জন্য বড় মূলধনি কোম্পানির শেয়ার বেছে নেন কারসাজিকারকেরা। বাজারসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পতনের ধারা থেকে যখনই বাজারকে টেনে তোলার চেষ্টা হয়, তখনই শুরুতে বড় মূলধনি কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ানো হয়। এরপর বাজার উত্থানের ধারায় ফিরলে ভালো কোম্পানির শেয়ারের চেয়ে মন্দ কোম্পানির শেয়ারের দাম হু হু করে বাড়তে থাকে।

বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এ ধরনের ২৫ থেকে ৩০টি কোম্পানি রয়েছে, যেগুলোর দাম গত এক বছরে কারণ ছাড়াই অস্বাভাবিক বেড়েছে। সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারের দাম দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। গত বছরের ৮ এপ্রিল কোম্পানিটির শেয়ারের বাজারমূল্য ছিল ১৮ টাকা। গতকাল দিন শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮ টাকায়। একই সময়ে দ্বিগুণ হয়েছে মুন্নু সিরামিক, বিডি অটোকারসের শেয়ারের দাম। আর বন্ধ কোম্পানি এমারেল্ড অয়েলের শেয়ারের দাম গতকাল এক দিনেই ১০ শতাংশ বা ১ টাকা ৬০ পয়সা বেড়েছে। ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, কারসাজির ঘটনা ছাড়া মন্দ কোম্পানির শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধির যৌক্তিক কোনো কারণ নেই। 

তারিখ সিলেক্ট করে খুজুন