কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স খোলা হচ্ছে আজ।
আজ শনিবার (৩০ আগস্ট) সকাল ৭টার দিকে একযোগে মসজিদের ১১টি দানবাক্স খোলা হবে। ধর্মপ্রাণ মানুষের হৃদয়ের দানে ভরা এই বিশাল দানবাক্সগুলোর প্রতি কিশোরগঞ্জবাসীর পাশাপাশি সবার দৃষ্টি নিবদ্ধ।
এর আগে গত ১২ এপ্রিল ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স খোলা হয়েছিল। ওই সময় ২৮ বস্তা টাকা সংগ্রহ হয়, যার গণনা শেষে রেকর্ড ৯ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৬৮৭ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। এছাড়াও সঙ্গে ছিল বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার, বৈদেশিক মুদ্রাসহ অন্যান্য মূল্যবান সম্পদ।
প্রায় ৪ মাস ১৮ দিন পর শনিবার আবারও দানবাক্সগুলো খোলা হচ্ছে। অনেকেই আশা করছেন, এবার দানের পরিমাণ আগের রেকর্ড ছাড়িয়ে ১০ কোটি টাকার মাইলফলক স্পর্শ করবে।
এদিন সকালে দানবাক্সগুলো খোলার সময় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ছাড়াও মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য, রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন। আর গণনার কাজে নিয়োজিত থাকবেন প্রায় ৪০০ জন, যার মধ্যে থাকবেন মসজিদ কমপ্লেক্সের মাদরাসা ও এতিমখানার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ছাড়াও পার্শ্ববর্তী জামিয়া এমদাদিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থী এবং ব্যাংক কর্মকর্তারা।
পাগলা মসজিদের দানবাক্স থেকে প্রাপ্ত অর্থ মসজিদের উন্নয়ন, গরিব-অসহায়দের সাহায্য, মাদরাসা ও এতিমখানা পরিচালনা এবং বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হয়। মসজিদ কমিটি জানিয়েছে, এই অর্থের একটি বড় অংশ ব্যয় করা হবে আন্তর্জাতিক মানের ‘পাগলা মসজিদ ইসলামিক কমপ্লেক্স’ নির্মাণে, যেখানে একসঙ্গে ৬০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। এই প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৫ কোটি টাকা।
পাগলা মসজিদ কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার হারুয়া এলাকার নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত। মসজিদটি বর্তমানে ৩ একর ৮৮ শতাংশ জমির ওপর বিস্তৃত এবং এর সুউচ্চ মিনার দূর থেকেও দৃশ্যমান। মসজিদটিতে একসঙ্গে ৬ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। এছাড়া নারীদের জন্যও রয়েছে পৃথক নামাজের ব্যবস্থা।
পাগলা মসজিদের নামকরণের পেছনেও রয়েছে ঐতিহাসিক কাহিনী। জনশ্রুতি অনুযায়ী, ঈসা খাঁ’র বংশধর দেওয়ান জিলকদর খান ওরফে ‘জিল কদর পাগলা’ নামক এক আধ্যাত্মিক ব্যক্তির নামে এই মসজিদের নামকরণ করা হয়। এটি শুধু একটি ধর্মীয় স্থান নয়, বাংলাদেশের ধর্মীয় ঐতিহ্য, সমাজকল্যাণ এবং মানুষের বিশ্বাসেরও এক অনন্য প্রতীক।