ঢাকা ০৭:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ২০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

ঝালকাঠিতে ৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট উদ্বোধন

ঝালকাঠিতে ৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দৃস্টিনন্দন ৮ তলা বিশিষ্ট জেলার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নতুন ভবনের উদ্বোধন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে এগারটায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেস্টা পরিষদ সদস্য সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু (এম.পি) নতুন এই ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। ৮তলা এই ভবনে আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে এজলাশ কক্ষ সংকটের সমাধানের পাশাপাশি বিচারকার্যে গতি বাড়বে বলে মনে করেন আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ঝালকাঠির সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. ওয়ালিউল ইসলাম, চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো.পারভেজ শাহ্রিয়ার, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম এ হামিদ, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এডভোকেট খান সাইফুল্লাহ পনির, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট আব্দুল মান্নান রসুল, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট বনি আমীন বাকলাই, পৌর মেয়র লিয়াকত আলী তালুকদার, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান খান আরিফুর রহমান ও গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়সাল আলম উপস্থিত ছিলেন।

ঝালকাঠি গণপূর্ত বিভাগ সূত্র জানায়, ঝালকাঠি জেলা জজ আদালত ভবনের দক্ষিণ পাশে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশের ৬৪ জেলা সদরে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ১.৭৫ একর জমির ওপর ১২ তলা ভিত বিশিষ্ট ৮তলা চীফ জুডিসিয়াল মেজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণ করে গণপূর্ত বিভাগ। ২০১৮ সালে ১৫ সেপ্টম্বর শিল্পমন্ত্রনালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এম.পি ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন এবং নির্মান কাজের উদ্বোধন করেন।

ঝালকাঠি জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট আব্দুল মান্নান রসুল বলেন, প্রশাসন থেকে বিচার বিভাগ পৃথক হওয়ার পর ২০০৭ সালের ০১ নভেম্বর ঝালকাঠি জেলা জজ আদালত ভবনের তৃতীয় তলায় চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। পৃথক ভবন না হওয়ায় এজলাশ সংকটের কারনে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা পালা করে বিচার কাজ চালাতেন। গত ১৫ বছরে মামলার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝালকাঠি আদালত চত্ত্বরে বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীর সংখ্যাও বেড়েছে। এতোদিন ভবন ও এজলাশের সংকটের কারণে মামলার কাজে বিলম্ব হতো। নতুন এই ভবনটির ব্যবহার শুরু হলে বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের স্থান সংকট সমাধানের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে চলমান মামলা জটের নিষ্পত্তি হবে।

ঝালকাঠি জেলা গণপূর্ত বিভাগ সূত্র জানায় ৫৫ কোটি ২৬ লক্ষ ১৬ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই দৃষ্টিনন্দন ভবনটিতে রয়েছে আধুনিক নানা রকম সুযোগ সুবিধা। বিচারক, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের সুবিধার জন্য এখানে রয়েছে ২২টি এজলাশ, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ৫০০ কেবি সাবস্টেশন, অত্যাধুনিক ৩টি লিফট, অত্যাধুনিক লাইব্রেরী, কনফারেন্স রুম, ব্রেস্ট ফিডিং কর্ণার, নামাজের কক্ষ এবং বিচারকদের খাস কামরা। এছাড়াও এখানে রয়েছে নারী ও পুরুষদের জন্য পৃথক হাজতখানাসহ প্রয়োজনীয় অফিসরুম, অপেক্ষমান কক্ষ এবং শৌচাগারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন উদ্বোধনের পর আমির হোসেন আমু আইনজীবী সমিতির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমির হোসেন আমু বলেন, আইনজীবীরা বিভিন্ন সময় দেশে গণতন্ত্র সুরক্ষায় ভূমিকা রেখেছেন। বর্তমানে দেশে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে আইনজীবীদের সাহসি ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

ট্যাগস :

ঝালকাঠিতে ৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট উদ্বোধন

আপডেট সময় ০৭:৫৩:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ নভেম্বর ২০২৩

ঝালকাঠিতে ৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দৃস্টিনন্দন ৮ তলা বিশিষ্ট জেলার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নতুন ভবনের উদ্বোধন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে এগারটায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেস্টা পরিষদ সদস্য সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু (এম.পি) নতুন এই ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। ৮তলা এই ভবনে আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে এজলাশ কক্ষ সংকটের সমাধানের পাশাপাশি বিচারকার্যে গতি বাড়বে বলে মনে করেন আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ঝালকাঠির সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. ওয়ালিউল ইসলাম, চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো.পারভেজ শাহ্রিয়ার, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম এ হামিদ, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এডভোকেট খান সাইফুল্লাহ পনির, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট আব্দুল মান্নান রসুল, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট বনি আমীন বাকলাই, পৌর মেয়র লিয়াকত আলী তালুকদার, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান খান আরিফুর রহমান ও গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়সাল আলম উপস্থিত ছিলেন।

ঝালকাঠি গণপূর্ত বিভাগ সূত্র জানায়, ঝালকাঠি জেলা জজ আদালত ভবনের দক্ষিণ পাশে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশের ৬৪ জেলা সদরে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ১.৭৫ একর জমির ওপর ১২ তলা ভিত বিশিষ্ট ৮তলা চীফ জুডিসিয়াল মেজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণ করে গণপূর্ত বিভাগ। ২০১৮ সালে ১৫ সেপ্টম্বর শিল্পমন্ত্রনালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এম.পি ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন এবং নির্মান কাজের উদ্বোধন করেন।

ঝালকাঠি জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট আব্দুল মান্নান রসুল বলেন, প্রশাসন থেকে বিচার বিভাগ পৃথক হওয়ার পর ২০০৭ সালের ০১ নভেম্বর ঝালকাঠি জেলা জজ আদালত ভবনের তৃতীয় তলায় চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। পৃথক ভবন না হওয়ায় এজলাশ সংকটের কারনে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা পালা করে বিচার কাজ চালাতেন। গত ১৫ বছরে মামলার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝালকাঠি আদালত চত্ত্বরে বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীর সংখ্যাও বেড়েছে। এতোদিন ভবন ও এজলাশের সংকটের কারণে মামলার কাজে বিলম্ব হতো। নতুন এই ভবনটির ব্যবহার শুরু হলে বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের স্থান সংকট সমাধানের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে চলমান মামলা জটের নিষ্পত্তি হবে।

ঝালকাঠি জেলা গণপূর্ত বিভাগ সূত্র জানায় ৫৫ কোটি ২৬ লক্ষ ১৬ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই দৃষ্টিনন্দন ভবনটিতে রয়েছে আধুনিক নানা রকম সুযোগ সুবিধা। বিচারক, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের সুবিধার জন্য এখানে রয়েছে ২২টি এজলাশ, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ৫০০ কেবি সাবস্টেশন, অত্যাধুনিক ৩টি লিফট, অত্যাধুনিক লাইব্রেরী, কনফারেন্স রুম, ব্রেস্ট ফিডিং কর্ণার, নামাজের কক্ষ এবং বিচারকদের খাস কামরা। এছাড়াও এখানে রয়েছে নারী ও পুরুষদের জন্য পৃথক হাজতখানাসহ প্রয়োজনীয় অফিসরুম, অপেক্ষমান কক্ষ এবং শৌচাগারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন উদ্বোধনের পর আমির হোসেন আমু আইনজীবী সমিতির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমির হোসেন আমু বলেন, আইনজীবীরা বিভিন্ন সময় দেশে গণতন্ত্র সুরক্ষায় ভূমিকা রেখেছেন। বর্তমানে দেশে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে আইনজীবীদের সাহসি ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।