ঢাকা ০১:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ মার্চ ২০২৫, ১৪ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মহাসড়কে ট্রাক আটকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ছাত্রলীগ নেতার

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নবীগঞ্জ অংশে ছয় লেনে উন্নীতকরণের কাজে ব্যবহৃত বালুর ট্রাক আটকে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ছাত্রলীগের এক নেতা ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে।

রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) এ ঘটনায় মা এন্টারপ্রাইজ নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নবীগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

জানা গেছে, কুশিয়ারা নদী থেকে উত্তোলিত সাত ট্রাক বালু জগন্নাথপুরের রানীগঞ্জ থেকে নবীগঞ্জে যাচ্ছিল। এ সময় স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা ও তার অনুসারীরা ট্রাক আটকে চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টরা।

ঘটনার দিন সকালে সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি বাইপাস মহাসড়ক পার হয়ে কামারগাঁওয়ের মুচিবাড়ি এলাকায় পৌঁছলে ট্রাকগুলো আটক করেন উপজেলার ৪ নম্বর দীঘলবাক ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হক ও তাঁর লোকজন। এ সময় তারা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্টদের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে নবীগঞ্জ থানা পুলিশের সহায়তায় সেগুলো উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় দায়ের করা অভিযোগে মা এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক সাঈদ আলী জানান, সাসেক প্রজেক্টের এশিয়ান হাইওয়ে সিক্স লাইনের উন্নয়ন কাজের জন্য সাতটি ট্রাকে করে বরাদ্দের ওই বালু আনা হচ্ছিল। মুচিবাড়ির ব্রিজ-সংলগ্ন রাস্তায় ট্রাকগুলো আটকে ১০ লাখ টাকার জন্য চাপ দেন ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও তাঁর ৭ থেকে ৮ অনুসারী। তাদের মধ্যে ছিলেন– স্বস্তিপুর গ্রামের জগলু মিয়া, কামারগাঁওয়ের মুকিদ মিয়া ও শিপন মিয়া, বহরমপুরের রউফ মিয়া এবং নগরকান্দির জয়নাল মিয়া। এ সময় ছাত্রলীগ নেতা হক ও তাঁর লোকজন ট্রাকের সঙ্গে থাকা লোকজনকে মারধর এবং গাড়ি ভাঙচুর করে বলেও জানান সাঈদ আলী।

এ ব্যাপারে দীঘলবাক ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হক জানান, চাঁদা আদায়ের জন্য তারা ট্রাকগুলো আটক করেননি। নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে অতিরিক্ত বালু বহন করায় সেগুলো আটক করা হয়।

মা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মতিউর রহমান জানান, বৈধভাবে মহাসড়কের কাজের জন্য বালু আনা হয়েছে। একটি চক্র অনেক দিন ধরেই বালুর ট্রাক আটকে চাঁদাবাজি করে আসছে। রোববার ওই চক্রের সদস্যরা তাঁর প্রতিষ্ঠানের বালুর ট্রাক আটকে চাঁদা দাবি করলে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক নবীগঞ্জ থানায় অভিযোগ করেন।

নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, এ বিষয়ে সাতজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ট্রাকগুলো উদ্ধারের পর গন্তব্যে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ তদন্ত করে এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মহাসড়কে ট্রাক আটকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ছাত্রলীগ নেতার

আপডেট সময় ০৮:৪২:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নবীগঞ্জ অংশে ছয় লেনে উন্নীতকরণের কাজে ব্যবহৃত বালুর ট্রাক আটকে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ছাত্রলীগের এক নেতা ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে।

রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) এ ঘটনায় মা এন্টারপ্রাইজ নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নবীগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

জানা গেছে, কুশিয়ারা নদী থেকে উত্তোলিত সাত ট্রাক বালু জগন্নাথপুরের রানীগঞ্জ থেকে নবীগঞ্জে যাচ্ছিল। এ সময় স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা ও তার অনুসারীরা ট্রাক আটকে চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টরা।

ঘটনার দিন সকালে সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি বাইপাস মহাসড়ক পার হয়ে কামারগাঁওয়ের মুচিবাড়ি এলাকায় পৌঁছলে ট্রাকগুলো আটক করেন উপজেলার ৪ নম্বর দীঘলবাক ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হক ও তাঁর লোকজন। এ সময় তারা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্টদের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে নবীগঞ্জ থানা পুলিশের সহায়তায় সেগুলো উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় দায়ের করা অভিযোগে মা এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক সাঈদ আলী জানান, সাসেক প্রজেক্টের এশিয়ান হাইওয়ে সিক্স লাইনের উন্নয়ন কাজের জন্য সাতটি ট্রাকে করে বরাদ্দের ওই বালু আনা হচ্ছিল। মুচিবাড়ির ব্রিজ-সংলগ্ন রাস্তায় ট্রাকগুলো আটকে ১০ লাখ টাকার জন্য চাপ দেন ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও তাঁর ৭ থেকে ৮ অনুসারী। তাদের মধ্যে ছিলেন– স্বস্তিপুর গ্রামের জগলু মিয়া, কামারগাঁওয়ের মুকিদ মিয়া ও শিপন মিয়া, বহরমপুরের রউফ মিয়া এবং নগরকান্দির জয়নাল মিয়া। এ সময় ছাত্রলীগ নেতা হক ও তাঁর লোকজন ট্রাকের সঙ্গে থাকা লোকজনকে মারধর এবং গাড়ি ভাঙচুর করে বলেও জানান সাঈদ আলী।

এ ব্যাপারে দীঘলবাক ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হক জানান, চাঁদা আদায়ের জন্য তারা ট্রাকগুলো আটক করেননি। নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে অতিরিক্ত বালু বহন করায় সেগুলো আটক করা হয়।

মা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মতিউর রহমান জানান, বৈধভাবে মহাসড়কের কাজের জন্য বালু আনা হয়েছে। একটি চক্র অনেক দিন ধরেই বালুর ট্রাক আটকে চাঁদাবাজি করে আসছে। রোববার ওই চক্রের সদস্যরা তাঁর প্রতিষ্ঠানের বালুর ট্রাক আটকে চাঁদা দাবি করলে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক নবীগঞ্জ থানায় অভিযোগ করেন।

নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, এ বিষয়ে সাতজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ট্রাকগুলো উদ্ধারের পর গন্তব্যে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ তদন্ত করে এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।