ঢাকা ০৭:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কিশোরগঞ্জে যুবলীগ নেতার বাড়ি থেকে বিএনপি নেতা আটক

ডিবি পুলিশ পরিচয়ে এক যুবলীগ নেতার বাড়ি থেকে কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি শরিফুল আলমসহ দলের পাঁচ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে বিএনপি। এর প্রতিবাদে এবং আটককৃতদের মুক্তির দাবিতে আগামী রোববার (৫ নভেম্বর) ভৈরব উপজেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি।

তবে ভৈরব থানার পুলিশ ও কিশোরগঞ্জ ডিবি পুলিশ বলছে, তাদের কাছে আটকের কোনো তথ্য নেই।

বিএনপি নেতারা বলছেন, সাদাপোশাকে এসে আজ ভোরে পৌর শহরের কমলপুর এলাকার শফিকুল ইসলাম ওরফে মাজহারুল ইসলামের বাসা থেকে তিনজনকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে রাত একটার দিকে ভৈরব রেলস্টেশন এলাকা থেকে আরেকজন আটক হন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা শরিফুল আলমের পাশাপাশি আটক অন্য নেতারা হলেন ভৈরব উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুজ্জামান ও সাইফুল ইসলাম এবং বাড়ির মালিক শফিকুল ইসলাম। সাইফুল ইসলামকে রাত একটার দিকে ভৈরব রেলস্টেশন থেকে আটক করা হয়। তিনি ট্রেনে করে ঢাকা থেকে ভৈরব আসার পর আটক হন। শফিকুল ইসলাম ইতালিতে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

শরিফুল আলমের বাড়ি জেলার কুলিয়ারচর উপজেলায়। তিনি ভৈরব ও কুলিয়ারচর উপজেলা নিয়ে গঠিত কিশোরগঞ্জ-৬ আসন থেকে বিএনপির টিকিটে তিনবার সংসদ নির্বাচন করেন। তবে জয় পাননি। গত ৩১ অক্টোবর কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষে দুজন নিহত হওয়ার ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা তিন মামলার দুটিতেই তিনি আসামি।

ভৈরব পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান বলেন, মামলা আর গ্রেপ্তার করে তাঁদের আন্দোলনকে থামিয়ে দিতে চাইছে সরকারের মদদপুষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এভাবে দেশ চলতে পারে না। প্রতিবাদ–প্রতিরোধ করা না গেলে দেশের গণতন্ত্র চিরতরে কবরবাসী হবে। আগামীকালের সকাল-সন্ধ্যা হরতাল কর্মসূচি সফল করার জন্য তিনি দলের নেতা-কর্মীদের প্রতি অনুরোধ রাখেন।

শফিকুল ইসলামের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তিনি ইতালিপ্রবাসী। সেখানে তিনি মনফালকনে গরিঝিয়া যুবলীগ শাখার আহ্বায়ক। তাঁর বাড়ি ভৈরব উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের আগানগর গ্রামে। তিনি দুই বছর আগে কমলপুর এলাকায় সাততলা ভবন নির্মাণ করেন। তিনি বর্তমানে নিজের ভবনে বসবাস করছেন। বিএনপি নেতা নুরুজ্জামান তাঁর মামাশ্বশুর। নুরুজ্জামানও একই এলাকার বাসিন্দা। নুরুজ্জামান গতকাল রাতে শফিকুল ইসলামের স্ত্রী সানজিদা সুলতানাকে ফোন করে জানান, তিনি রাতে থাকবেন। পরে কয়েকজনকে নিয়ে ভবনের সাততলার একটি কক্ষে তাঁরা রাত যাপন করেন। ফজরের আজানের সময় দুই গাড়িতে সাদাপোশাকধারী লোকজন আসেন। তাঁরা নিজেদের ডিবি পরিচয় দেন। পরে সাততলার একটি কক্ষ থেকে তাঁদের আটক করে নিয়ে যায়। তাঁর ফোনটিও নিয়ে যায়।

সানজিদা সুলতানার বলেন, নুরুজ্জামান তাঁর আপন মামা। মামা তাঁর বাসায় থাকতে চেয়েছেন। ভাগনি হিসেবে না বলার সুযোগ নেই। কিন্তু তিনি সঙ্গে আর কাউকে নিয়ে আসবেন এমনটা ধারণায় ছিল না। এমনকি তাঁর সঙ্গে কারা আছেন, সে তথ্যও জানা ছিল না। তাঁর স্বামীও এসব জানতেন না।

ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাকছুদুল আলম বলেন, ভোরে ভৈরবে ডিবি পুলিশের কোনো অভিযানের কথা তাঁর জানা নেই। এমনকি কোনো বাসা থেকে কাউকে আটক করার কথাও তিনি শোনেননি। কিশোরগঞ্জ জেলা ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল বাসার ভৈরবের কোনো অভিযানের কথা জানেন না বলে দাবি করেছেন

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কিশোরগঞ্জে যুবলীগ নেতার বাড়ি থেকে বিএনপি নেতা আটক

আপডেট সময় ০৬:৩৩:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ নভেম্বর ২০২৩

ডিবি পুলিশ পরিচয়ে এক যুবলীগ নেতার বাড়ি থেকে কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি শরিফুল আলমসহ দলের পাঁচ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে বিএনপি। এর প্রতিবাদে এবং আটককৃতদের মুক্তির দাবিতে আগামী রোববার (৫ নভেম্বর) ভৈরব উপজেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি।

তবে ভৈরব থানার পুলিশ ও কিশোরগঞ্জ ডিবি পুলিশ বলছে, তাদের কাছে আটকের কোনো তথ্য নেই।

বিএনপি নেতারা বলছেন, সাদাপোশাকে এসে আজ ভোরে পৌর শহরের কমলপুর এলাকার শফিকুল ইসলাম ওরফে মাজহারুল ইসলামের বাসা থেকে তিনজনকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে রাত একটার দিকে ভৈরব রেলস্টেশন এলাকা থেকে আরেকজন আটক হন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা শরিফুল আলমের পাশাপাশি আটক অন্য নেতারা হলেন ভৈরব উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুজ্জামান ও সাইফুল ইসলাম এবং বাড়ির মালিক শফিকুল ইসলাম। সাইফুল ইসলামকে রাত একটার দিকে ভৈরব রেলস্টেশন থেকে আটক করা হয়। তিনি ট্রেনে করে ঢাকা থেকে ভৈরব আসার পর আটক হন। শফিকুল ইসলাম ইতালিতে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

শরিফুল আলমের বাড়ি জেলার কুলিয়ারচর উপজেলায়। তিনি ভৈরব ও কুলিয়ারচর উপজেলা নিয়ে গঠিত কিশোরগঞ্জ-৬ আসন থেকে বিএনপির টিকিটে তিনবার সংসদ নির্বাচন করেন। তবে জয় পাননি। গত ৩১ অক্টোবর কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষে দুজন নিহত হওয়ার ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা তিন মামলার দুটিতেই তিনি আসামি।

ভৈরব পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান বলেন, মামলা আর গ্রেপ্তার করে তাঁদের আন্দোলনকে থামিয়ে দিতে চাইছে সরকারের মদদপুষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এভাবে দেশ চলতে পারে না। প্রতিবাদ–প্রতিরোধ করা না গেলে দেশের গণতন্ত্র চিরতরে কবরবাসী হবে। আগামীকালের সকাল-সন্ধ্যা হরতাল কর্মসূচি সফল করার জন্য তিনি দলের নেতা-কর্মীদের প্রতি অনুরোধ রাখেন।

শফিকুল ইসলামের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তিনি ইতালিপ্রবাসী। সেখানে তিনি মনফালকনে গরিঝিয়া যুবলীগ শাখার আহ্বায়ক। তাঁর বাড়ি ভৈরব উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের আগানগর গ্রামে। তিনি দুই বছর আগে কমলপুর এলাকায় সাততলা ভবন নির্মাণ করেন। তিনি বর্তমানে নিজের ভবনে বসবাস করছেন। বিএনপি নেতা নুরুজ্জামান তাঁর মামাশ্বশুর। নুরুজ্জামানও একই এলাকার বাসিন্দা। নুরুজ্জামান গতকাল রাতে শফিকুল ইসলামের স্ত্রী সানজিদা সুলতানাকে ফোন করে জানান, তিনি রাতে থাকবেন। পরে কয়েকজনকে নিয়ে ভবনের সাততলার একটি কক্ষে তাঁরা রাত যাপন করেন। ফজরের আজানের সময় দুই গাড়িতে সাদাপোশাকধারী লোকজন আসেন। তাঁরা নিজেদের ডিবি পরিচয় দেন। পরে সাততলার একটি কক্ষ থেকে তাঁদের আটক করে নিয়ে যায়। তাঁর ফোনটিও নিয়ে যায়।

সানজিদা সুলতানার বলেন, নুরুজ্জামান তাঁর আপন মামা। মামা তাঁর বাসায় থাকতে চেয়েছেন। ভাগনি হিসেবে না বলার সুযোগ নেই। কিন্তু তিনি সঙ্গে আর কাউকে নিয়ে আসবেন এমনটা ধারণায় ছিল না। এমনকি তাঁর সঙ্গে কারা আছেন, সে তথ্যও জানা ছিল না। তাঁর স্বামীও এসব জানতেন না।

ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাকছুদুল আলম বলেন, ভোরে ভৈরবে ডিবি পুলিশের কোনো অভিযানের কথা তাঁর জানা নেই। এমনকি কোনো বাসা থেকে কাউকে আটক করার কথাও তিনি শোনেননি। কিশোরগঞ্জ জেলা ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল বাসার ভৈরবের কোনো অভিযানের কথা জানেন না বলে দাবি করেছেন