ঢাকা ০২:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ এপ্রিল ২০২৫, ৮ বৈশাখ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo চানখারপুলে গণহত্যায় সাবেক ডিএমপি কমিশনারসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন Logo জামায়াত নেতা আজহারের আপিল শুনানি মঙ্গলবার Logo নেত্রকোনায় ভাই-ভাতিজার পিটুনিতে আ. লীগ নেতার মৃত্যু Logo ঢাকা বিভাগে আজ প্রাণঘাতী বজ্রপাতের আশঙ্কা Logo প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পারভেজ হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩ Logo প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র পারভেজ হত্যায় গ্রেপ্তার ৩ Logo সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য হলো ফ্যাসীবাদ যেন প্রতিষ্ঠা না পায়: আলী রিয়াজ Logo উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহিদ দিবস ২০২৫ পালিত Logo পাবিপ্রবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত Logo একুশে বইমেলায় আহমেদ বায়েজীদের ‘মহাকাশে দুঃস্বপ্ন’

বছর শেষ হতে বাকি ১১ দিন, এখনো ছাপা শুরু হয়নি ২৫ কোটি বই

বছর শেষ হতে বাকি ১১ দিন, এখনো ছাপা শুরু হয়নি ২৫ কোটি বই

বছর শেষ হতে বাকি মাত্র ১১ দিন। এখনো ২৫ কোটি বই ছাপার কাজ শুরুই হয়নি। ফলে বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছানো সম্ভব নয়। সব বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছাতে সময় লাগতে পারে আগামী মার্চ পর্যন্ত।

এনসিটিবি সূত্র জানায়, আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য ৪০ কোটি ১৫ লাখ ৬৭ হাজার ২০২টি পাঠ্যবই ছাপার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিকের বই ৯ কোটি ১৯ লাখ ৫৪ হাজার ৩৫৫টি। বাকি প্রায় ৩০ কোটির বেশি বই মাধ্যমিক, মাদরাসা ও কারিগরি স্কুলের। এর মধ্যে প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির বই ছাপার কাজ বেশ আগেই শুরু হয়েছে, যা শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

এই বইয়ের সংখ্যা প্রায় পাঁচ কোটি। এরপর ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির কার্যাদেশ ও চুক্তিপত্র শেষে এই সপ্তাহেই তা ছাপার কাজ শুরু হয়েছে। এই বইয়ের সংখ্যা প্রায় ১২ কোটি। তবে ১০ ও ১১ ডিসেম্বর চতুর্থ, পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির কার্যাদেশ দেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে প্রেস মালিকদের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়নি।

ফলে এই তিন শ্রেণির বইয়ের কাজ শুরু হয়নি। আর নবম ও দশম শ্রেণির বইয়ের দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন শেষে এখনো কার্যাদেশ দেওয়া হয়নি। শিক্ষকরা বলছেন, গত দুই বছর নতুন শিক্ষাক্রমে পড়ালেখা করেছে শিক্ষার্থীরা। সেখানে ভিন্নধর্মী পড়ালেখায় শিক্ষার্থীদের তেমন কোনো চাপ নিতে হয়নি।

কিন্তু এখন হঠাৎ করেই আগের শিক্ষাক্রমে ফিরে যেতে হয়েছে। এতে এমনিতেই বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে শিক্ষার্থীরা। অনেক শিক্ষার্থীই তাল মেলাতে পারছে না। তারা এ বছরের বার্ষিক পরীক্ষায় খুব খারাপ করেছে। এখন যদি আবার বই পেতে পেতে তিন মাস সময় চলে যায়, তাহলে বড় ধরনের দুর্ভোগে পড়বে শিক্ষার্থীরা।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রতিবছর সাধারণত জুলাই-আগস্ট থেকে পাঠ্যবই ছাপার কাজ শুরু হয়। এরপরও ডিসেম্বরের মধ্যে শতভাগ বই দেওয়া সম্ভব হয় না। কিন্তু এ বছর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর এনসিটিবিতে অনেক পরিবর্তন আসে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান, সদস্য ও অন্য কর্মকর্তারা পরিবর্তন হন। এরপর আবার আগের শিক্ষাক্রমে ফিরে যাওয়া হয়। পাঠ্যক্রমেও বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। কিন্তু এনসিটিবির নতুন কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও পরিকল্পনার অভাবে এই পাঠ্যবইয়ের কাজ অনেক পিছিয়ে গেছে। নয়তো আরো অন্তত ১৫ থেকে ৩০ দিন আগে বেশির ভাগ বই ছাপার কাজ শুরু করা সম্ভব হতো।

ট্যাগস :

চানখারপুলে গণহত্যায় সাবেক ডিএমপি কমিশনারসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন

বছর শেষ হতে বাকি ১১ দিন, এখনো ছাপা শুরু হয়নি ২৫ কোটি বই

আপডেট সময় ০২:৫৮:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৪

বছর শেষ হতে বাকি মাত্র ১১ দিন। এখনো ২৫ কোটি বই ছাপার কাজ শুরুই হয়নি। ফলে বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছানো সম্ভব নয়। সব বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছাতে সময় লাগতে পারে আগামী মার্চ পর্যন্ত।

এনসিটিবি সূত্র জানায়, আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য ৪০ কোটি ১৫ লাখ ৬৭ হাজার ২০২টি পাঠ্যবই ছাপার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিকের বই ৯ কোটি ১৯ লাখ ৫৪ হাজার ৩৫৫টি। বাকি প্রায় ৩০ কোটির বেশি বই মাধ্যমিক, মাদরাসা ও কারিগরি স্কুলের। এর মধ্যে প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির বই ছাপার কাজ বেশ আগেই শুরু হয়েছে, যা শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

এই বইয়ের সংখ্যা প্রায় পাঁচ কোটি। এরপর ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির কার্যাদেশ ও চুক্তিপত্র শেষে এই সপ্তাহেই তা ছাপার কাজ শুরু হয়েছে। এই বইয়ের সংখ্যা প্রায় ১২ কোটি। তবে ১০ ও ১১ ডিসেম্বর চতুর্থ, পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির কার্যাদেশ দেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে প্রেস মালিকদের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়নি।

ফলে এই তিন শ্রেণির বইয়ের কাজ শুরু হয়নি। আর নবম ও দশম শ্রেণির বইয়ের দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন শেষে এখনো কার্যাদেশ দেওয়া হয়নি। শিক্ষকরা বলছেন, গত দুই বছর নতুন শিক্ষাক্রমে পড়ালেখা করেছে শিক্ষার্থীরা। সেখানে ভিন্নধর্মী পড়ালেখায় শিক্ষার্থীদের তেমন কোনো চাপ নিতে হয়নি।

কিন্তু এখন হঠাৎ করেই আগের শিক্ষাক্রমে ফিরে যেতে হয়েছে। এতে এমনিতেই বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে শিক্ষার্থীরা। অনেক শিক্ষার্থীই তাল মেলাতে পারছে না। তারা এ বছরের বার্ষিক পরীক্ষায় খুব খারাপ করেছে। এখন যদি আবার বই পেতে পেতে তিন মাস সময় চলে যায়, তাহলে বড় ধরনের দুর্ভোগে পড়বে শিক্ষার্থীরা।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রতিবছর সাধারণত জুলাই-আগস্ট থেকে পাঠ্যবই ছাপার কাজ শুরু হয়। এরপরও ডিসেম্বরের মধ্যে শতভাগ বই দেওয়া সম্ভব হয় না। কিন্তু এ বছর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর এনসিটিবিতে অনেক পরিবর্তন আসে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান, সদস্য ও অন্য কর্মকর্তারা পরিবর্তন হন। এরপর আবার আগের শিক্ষাক্রমে ফিরে যাওয়া হয়। পাঠ্যক্রমেও বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। কিন্তু এনসিটিবির নতুন কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও পরিকল্পনার অভাবে এই পাঠ্যবইয়ের কাজ অনেক পিছিয়ে গেছে। নয়তো আরো অন্তত ১৫ থেকে ৩০ দিন আগে বেশির ভাগ বই ছাপার কাজ শুরু করা সম্ভব হতো।