ঢাকা ০৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ২০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

পারমাণবিক অস্ত্র-নিয়ন্ত্রণ আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্মত চীন

পারমাণবিক অস্ত্র-নিয়ন্ত্রণ আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্মত চীন

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্র-নিয়ন্ত্রণ আলোচনায় সম্মত হয়েছে চীন। আগামী সপ্তাহে বৈশ্বিক এই দুই পরাশক্তি এই আলোচনায় বসবে। আর এর মাধ্যমে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসনের পর প্রথমবারের মতো উভয় দেশের মধ্যে এই ধরনের আলোচনা হতে চলেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার (২ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র আগামী সপ্তাহে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা করবে বলে বুধবার প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন সফর করেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। তার সেই সফরের পর গত সোমবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দুই দেশ সামনের দিনগুলোতে ‘অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ এবং অপ্রসারণের বিষয়ে আলোচনা’ করবে। পাশাপাশি সমুদ্র সংক্রান্ত বিষয় এবং অন্যান্য বিষয়েও পৃথক আলোচনা করবে উভয় দেশ।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী সোমবার চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই আলোচনা হতে পারে। সেদিন উভয় দেশের এই অস্ত্র আলোচনার নেতৃত্ব দেবেন মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র কর্মকর্তা ম্যালরি স্টুয়ার্ট এবং চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অস্ত্র-নিয়ন্ত্রণ বিভাগের প্রধান সান জিয়াওবো। অবশ্য এ বিষয়ে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট এবং ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনের দূতাবাস আলোচনার সময় বা বিন্যাস সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করেনি।

এর আগে ২০২১ সালে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান বলেছিলেন, বেইজিংয়ের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির বিষয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগের উল্লেখ করে ‘কৌশলগত স্থিতিশীলতার বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতে কাজ শুরু করার জন্য’ সম্মত হয়েছেন চীনা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে হোয়াইট হাউস সেই সময়ে বলেছিল, চীনের সঙ্গে এসব আলোচনা আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ত্র কমানোর আলোচনার মতো হবে না, যেমনটি রাশিয়ার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা হয়েছিল। আর এরপর থেকে মার্কিন কর্মকর্তারা বেশ হতাশা প্রকাশ করে বলে আসছিলেন, পারমাণবিক অস্ত্রের ঝুঁকি কমানোর পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনায় খুব কম আগ্রহ দেখাচ্ছে চীন।

গত অক্টোবর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন বলেছিল, চীনের অস্ত্রাগারে পাঁচ শতাধিক অপারেশনাল পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে সেই সংখ্যা সম্ভবত ১ হাজার ওয়ারহেডে পৌঁছাবে। তবে বেইজিং দীর্ঘদিন ধরে যুক্তি দিয়ে আসছে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইতোমধ্যে আরও অনেক বড় পারমাণবিক অস্ত্রাগার রয়েছে। রয়টার্স বলছে, চলতি নভেম্বর মাসে সান ফ্রান্সিসকোতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে সম্ভাব্য বৈঠকের আগে এই অস্ত্র আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। যদিও বাইডেন প্রশাসনের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা গত মঙ্গলবার বলেছেন, এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবরণ এখনও সামনে আনা হয়নি।

ওয়াশিংটন-ভিত্তিক আর্মস কন্ট্রোল অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক ড্যারিল কিমবল বলেছেন, আসন্ন এই অস্ত্র আলোচনায় সম্ভবত নিজ নিজ দেশের পারমাণবিক মতবাদের বৃহত্তর স্বচ্ছতা এবং সংকটকালে আরও কার্যকর যোগাযোগ চ্যানেলের ওপরে ফোকাস করা হবে। তিনি আরও বলেন, ‘ তবে আমি মনে করি না, অল্প সময়ের মধ্যে আমাদের সাফল্যের আশা করা উচিত। কারণ এতে সময় লাগবে এবং উভয় পক্ষ থেকেই চাওয়া-পাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।’

পারমাণবিক অস্ত্র-নিয়ন্ত্রণ আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্মত চীন

আপডেট সময় ০১:৪১:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ নভেম্বর ২০২৩

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্র-নিয়ন্ত্রণ আলোচনায় সম্মত হয়েছে চীন। আগামী সপ্তাহে বৈশ্বিক এই দুই পরাশক্তি এই আলোচনায় বসবে। আর এর মাধ্যমে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসনের পর প্রথমবারের মতো উভয় দেশের মধ্যে এই ধরনের আলোচনা হতে চলেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার (২ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র আগামী সপ্তাহে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা করবে বলে বুধবার প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন সফর করেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। তার সেই সফরের পর গত সোমবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দুই দেশ সামনের দিনগুলোতে ‘অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ এবং অপ্রসারণের বিষয়ে আলোচনা’ করবে। পাশাপাশি সমুদ্র সংক্রান্ত বিষয় এবং অন্যান্য বিষয়েও পৃথক আলোচনা করবে উভয় দেশ।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী সোমবার চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই আলোচনা হতে পারে। সেদিন উভয় দেশের এই অস্ত্র আলোচনার নেতৃত্ব দেবেন মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র কর্মকর্তা ম্যালরি স্টুয়ার্ট এবং চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অস্ত্র-নিয়ন্ত্রণ বিভাগের প্রধান সান জিয়াওবো। অবশ্য এ বিষয়ে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট এবং ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনের দূতাবাস আলোচনার সময় বা বিন্যাস সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করেনি।

এর আগে ২০২১ সালে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান বলেছিলেন, বেইজিংয়ের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির বিষয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগের উল্লেখ করে ‘কৌশলগত স্থিতিশীলতার বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতে কাজ শুরু করার জন্য’ সম্মত হয়েছেন চীনা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে হোয়াইট হাউস সেই সময়ে বলেছিল, চীনের সঙ্গে এসব আলোচনা আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ত্র কমানোর আলোচনার মতো হবে না, যেমনটি রাশিয়ার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা হয়েছিল। আর এরপর থেকে মার্কিন কর্মকর্তারা বেশ হতাশা প্রকাশ করে বলে আসছিলেন, পারমাণবিক অস্ত্রের ঝুঁকি কমানোর পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনায় খুব কম আগ্রহ দেখাচ্ছে চীন।

গত অক্টোবর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন বলেছিল, চীনের অস্ত্রাগারে পাঁচ শতাধিক অপারেশনাল পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে সেই সংখ্যা সম্ভবত ১ হাজার ওয়ারহেডে পৌঁছাবে। তবে বেইজিং দীর্ঘদিন ধরে যুক্তি দিয়ে আসছে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইতোমধ্যে আরও অনেক বড় পারমাণবিক অস্ত্রাগার রয়েছে। রয়টার্স বলছে, চলতি নভেম্বর মাসে সান ফ্রান্সিসকোতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে সম্ভাব্য বৈঠকের আগে এই অস্ত্র আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। যদিও বাইডেন প্রশাসনের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা গত মঙ্গলবার বলেছেন, এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবরণ এখনও সামনে আনা হয়নি।

ওয়াশিংটন-ভিত্তিক আর্মস কন্ট্রোল অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক ড্যারিল কিমবল বলেছেন, আসন্ন এই অস্ত্র আলোচনায় সম্ভবত নিজ নিজ দেশের পারমাণবিক মতবাদের বৃহত্তর স্বচ্ছতা এবং সংকটকালে আরও কার্যকর যোগাযোগ চ্যানেলের ওপরে ফোকাস করা হবে। তিনি আরও বলেন, ‘ তবে আমি মনে করি না, অল্প সময়ের মধ্যে আমাদের সাফল্যের আশা করা উচিত। কারণ এতে সময় লাগবে এবং উভয় পক্ষ থেকেই চাওয়া-পাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।’