ঢাকা ০৫:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ৯ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ আদালতের বিরুদ্ধে শক্তি প্রদর্শন করছেন : কাদের

  • ফখরুল ইসলাম
  • আপডেট সময় ০৭:৪৪:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুলাই ২০২৪
  • 29

শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ আদালতের বিরুদ্ধে শক্তি প্রদর্শন করছেন : কাদের

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ আদালতের বিরুদ্ধে শক্তি প্রদর্শন করছেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, আন্দোলনের নামে জনগণের চলাফেরা ও যানবাহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা সম্পূর্ণ বেআইনি। কিন্তু আন্দোলনকারীরা অনেকটা জনজীবনকে জিম্মি করে ও আইনি পন্থায় না হেঁটে সর্বোচ্চ আদালতের বিরুদ্ধে শক্তি প্রদর্শন করছেন, যা সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত। বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, কোটার সংস্কার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ চার সপ্তাহের স্থিতাবস্থা দেওয়ায় ২০১৮ সালের সরকারি পরিপত্র অনুযায়ী সরকারি নিয়োগে এই মুহূর্তে কোনো কোটা সংরক্ষিত নেই। আপিল বিভাগ শুনানি সাপেক্ষে বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নিস্পত্তি করবেন।

সেতুমন্ত্রী বলেন, গত পাঁচ বছরে কোটা না থাকায় নারীরা পিছিয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী। বৈচিত্র্যময় ও সমতাভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনে কোটার গুরুত্ব রয়েছে। কোটা কোনো বৈষম্য নয়। বরং বৈষম্য নিরসনে কোনো কোনো ক্ষেত্রে কোটার প্রয়োজন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপিসহ কিছু দল এই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছে। নিজেদের আন্দোলনের ব্যর্থতা পেছনে রেখে ও শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক ফাঁদে ফেলে নতুন আন্দোলন শুরুর পাঁয়তারা করছে তারা। কোটাবিরোধী আন্দোলনকে সরকারবিরোধী আন্দোলণে রূপ দিতে চায় বিএনপি।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধা কোটার দরকার নেই। এর মধ্য দিয়ে বিএনপি যে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী, তার প্রমাণ আবারও দিয়েছে তারা। তাদের মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি কোনো সম্মানবোধ নেই। বিএনপি মুক্তিযুদ্ধ চেতনায় বিশ্বাসী এটা মনে করার আর কোনো কারণ নেই।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমরা অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি, বিষয়টি নিয়ে যখন বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান, তার প্রতি সম্মান না করে আন্দোলনকারীরা তথাকথিত ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচির নামে মানুষকে কষ্ট দিচ্ছেন। মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, কোনো কোনো মহল তাদের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের প্ররোচনা দিচ্ছে। দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত করার ষড়যন্ত্র করছে। কোটাবিরোধী অরাজনৈতিক এই আন্দোলনকে কেউ রাজনৈতিক ফাঁদে ফেলতে চাইলে আমরা রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করব। এ নিয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, আমরা তারুণ্যের শক্তি ও আবেগের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু এই শক্তি ও আবেগকে পুঁজি করে কোনো অশুভ মহল দেশে অরাজক পরিস্থিতি ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চাইলে সরকারকে অবশ্যই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। যারা কোটা আন্দোলনকে সরকারবিরোধী আন্দোলন করতে চায়, তাদের খায়েশ পূরণ হতে দেব না।

ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালত সংবিধানের রক্ষক। আদালতের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। সবাইকে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সব প্রতিষ্ঠানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে বল প্রয়োগের রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। জনদুর্ভোগ সৃষ্টির রাজনীতি পরিহার করতে হবে।

সংবাদ সম্মলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, এসএম কামাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, উপ-দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট সায়েম খান, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য সাহাবুদ্দিন ফরাজী, আনোয়ার হোসেন, কৃষক লীগের সভাপতি সমীর চন্দ প্রমুখ।

ট্যাগস :

শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ আদালতের বিরুদ্ধে শক্তি প্রদর্শন করছেন : কাদের

আপডেট সময় ০৭:৪৪:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুলাই ২০২৪

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ আদালতের বিরুদ্ধে শক্তি প্রদর্শন করছেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, আন্দোলনের নামে জনগণের চলাফেরা ও যানবাহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা সম্পূর্ণ বেআইনি। কিন্তু আন্দোলনকারীরা অনেকটা জনজীবনকে জিম্মি করে ও আইনি পন্থায় না হেঁটে সর্বোচ্চ আদালতের বিরুদ্ধে শক্তি প্রদর্শন করছেন, যা সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত। বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, কোটার সংস্কার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ চার সপ্তাহের স্থিতাবস্থা দেওয়ায় ২০১৮ সালের সরকারি পরিপত্র অনুযায়ী সরকারি নিয়োগে এই মুহূর্তে কোনো কোটা সংরক্ষিত নেই। আপিল বিভাগ শুনানি সাপেক্ষে বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নিস্পত্তি করবেন।

সেতুমন্ত্রী বলেন, গত পাঁচ বছরে কোটা না থাকায় নারীরা পিছিয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী। বৈচিত্র্যময় ও সমতাভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনে কোটার গুরুত্ব রয়েছে। কোটা কোনো বৈষম্য নয়। বরং বৈষম্য নিরসনে কোনো কোনো ক্ষেত্রে কোটার প্রয়োজন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপিসহ কিছু দল এই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছে। নিজেদের আন্দোলনের ব্যর্থতা পেছনে রেখে ও শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক ফাঁদে ফেলে নতুন আন্দোলন শুরুর পাঁয়তারা করছে তারা। কোটাবিরোধী আন্দোলনকে সরকারবিরোধী আন্দোলণে রূপ দিতে চায় বিএনপি।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধা কোটার দরকার নেই। এর মধ্য দিয়ে বিএনপি যে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী, তার প্রমাণ আবারও দিয়েছে তারা। তাদের মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি কোনো সম্মানবোধ নেই। বিএনপি মুক্তিযুদ্ধ চেতনায় বিশ্বাসী এটা মনে করার আর কোনো কারণ নেই।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমরা অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি, বিষয়টি নিয়ে যখন বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান, তার প্রতি সম্মান না করে আন্দোলনকারীরা তথাকথিত ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচির নামে মানুষকে কষ্ট দিচ্ছেন। মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, কোনো কোনো মহল তাদের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের প্ররোচনা দিচ্ছে। দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত করার ষড়যন্ত্র করছে। কোটাবিরোধী অরাজনৈতিক এই আন্দোলনকে কেউ রাজনৈতিক ফাঁদে ফেলতে চাইলে আমরা রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করব। এ নিয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, আমরা তারুণ্যের শক্তি ও আবেগের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু এই শক্তি ও আবেগকে পুঁজি করে কোনো অশুভ মহল দেশে অরাজক পরিস্থিতি ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চাইলে সরকারকে অবশ্যই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। যারা কোটা আন্দোলনকে সরকারবিরোধী আন্দোলন করতে চায়, তাদের খায়েশ পূরণ হতে দেব না।

ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালত সংবিধানের রক্ষক। আদালতের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। সবাইকে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সব প্রতিষ্ঠানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে বল প্রয়োগের রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। জনদুর্ভোগ সৃষ্টির রাজনীতি পরিহার করতে হবে।

সংবাদ সম্মলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, এসএম কামাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, উপ-দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট সায়েম খান, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য সাহাবুদ্দিন ফরাজী, আনোয়ার হোসেন, কৃষক লীগের সভাপতি সমীর চন্দ প্রমুখ।