ঢাকা ০৭:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ৯ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সারাদেশে ‘বাংলা ব্লক’ এর ডাক কোটা বিরোধী আন্দোলনকারীদের

সারাদেশে ‘বাংলা ব্লক’ এর ডাক কোটা বিরোধী আন্দোলনকারীদের

আগামীকাল রোববার বিকেল ৩টা থেকে ‘বাংলা ব্লক’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে কোটা বিরোধী আন্দোলনকারীরা। শনিবার (৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শাহবাগ অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এ নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে কোটাবিরোধী আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ এর মুখপাত্র নাহিদ ইসলাম বলেন, আগামীকাল (রোববার) বিকেল ৩টা থেকে ‘বাংলা ব্লক’ কর্মসূচি পালিত হবে। শুধু শাহবাগ মোড় নয় ঢাকা শহরের সায়েন্সল্যাব, চানখারপুল, নীলক্ষেত, মতিঝিল প্রতিটি পয়েন্টে পয়েন্টে কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নেমে আসবেন৷ ঢাকার বাইরের শিক্ষার্থীরা তারা জেলায়-জেলায়, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মহাসড়কগুলো অবরোধ করবেন।

এসময় তিনি বলেন, শিক্ষকরা তাদের আন্দোলন শেষ করে ক্লাসে ফিরলেও আমরা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কেউ ক্লাসে ফিরে যাবো না। হলে হলে যারা বাধা দিচ্ছে তাদেরকেও আন্দোলনে আসার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বাধা দিয়ে কেউ পথ পায়না।

শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার কিছু পরে সরকারি চাকরিতে ‘কোটা’ পদ্ধতি পুনর্বহালের প্ৰতিবাদে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শাহবাগ অবরোধ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রত্যাশীরা। ১ ঘণ্টা অবরোধের পর নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে পরবর্তীতে বিকেল সাড়ে ৫ টায় শাহবাগের রাস্তা ছাড়েন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারনে শাহবাগ থেকে সায়েন্স ল্যাব, মিরপুর সড়ক, গুলিস্তান ও ফার্মগেটগামী সড়ক বন্ধ হয়ে যায়। এসব এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। যান চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীদের অনেকেই হেঁটে গন্তব্যস্থলের দিকে রওনা হতে দেখা যায়।

এর আগে বিকেল ৩টা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ও বিভাগ থেকে শিক্ষার্থীরা ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ এর ব্যানারে ও নানান ধরনের ফেস্টুনসংবলিত মিছিল নিয়ে জড়ো হন। পরবর্তীতে সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন তারা। বিক্ষোভ মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি থেকে শুরু হয়ে মুহসিন হল, ভিসি চত্বর, টিএসসি, জগন্নাথ হলের মোড় হয়ে বকশিবাজার অতিক্রম করে পলাশী-আজিমপুর হয়ে পুণরায় নীলক্ষেত থেকে রাজু ভাস্কর্য হয়ে শাহবাগে গিয়ে শেষ হয়।

এসময় শিক্ষার্থীরা ‘১৮ এর হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘১৮ এর পরিপত্র, বহাল করতে হবে’, ‘সংবিধানের মূলকথা, সুযোগের সমতা’, ‘সারা বাংলায় খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে’, ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’ সহ নানা স্লোগান দেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার শাহবাগ অবরোধকালে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দেন ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’এর মুখপাত্র নাহিদ হাসান। ঘোষিত কর্মসূচির আলোকে আজকের বিক্ষোভ সমাবেশের পাশাপাশি আগামীকাল রোববার দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন তারা।

শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবিতে এ আন্দোলন করছেন। দাবিগুলো হলো- ২০১৮ সালে ঘোষিত সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহাল রাখা; পরিপত্র বহাল সাপেক্ষে কমিশন গঠন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি চাকরির সব গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাদ দেওয়া (সুবিধাবঞ্চিত ও প্রতিবন্ধী ছাড়া); সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার করা যাবে না এবং কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্য পদগুলোয় মেধা অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া এবং দুর্নীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক আমলাতন্ত্র নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

সারাদেশে ‘বাংলা ব্লক’ এর ডাক কোটা বিরোধী আন্দোলনকারীদের

আপডেট সময় ০৬:৪৪:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুলাই ২০২৪

আগামীকাল রোববার বিকেল ৩টা থেকে ‘বাংলা ব্লক’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে কোটা বিরোধী আন্দোলনকারীরা। শনিবার (৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শাহবাগ অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এ নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে কোটাবিরোধী আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ এর মুখপাত্র নাহিদ ইসলাম বলেন, আগামীকাল (রোববার) বিকেল ৩টা থেকে ‘বাংলা ব্লক’ কর্মসূচি পালিত হবে। শুধু শাহবাগ মোড় নয় ঢাকা শহরের সায়েন্সল্যাব, চানখারপুল, নীলক্ষেত, মতিঝিল প্রতিটি পয়েন্টে পয়েন্টে কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নেমে আসবেন৷ ঢাকার বাইরের শিক্ষার্থীরা তারা জেলায়-জেলায়, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মহাসড়কগুলো অবরোধ করবেন।

এসময় তিনি বলেন, শিক্ষকরা তাদের আন্দোলন শেষ করে ক্লাসে ফিরলেও আমরা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কেউ ক্লাসে ফিরে যাবো না। হলে হলে যারা বাধা দিচ্ছে তাদেরকেও আন্দোলনে আসার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বাধা দিয়ে কেউ পথ পায়না।

শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার কিছু পরে সরকারি চাকরিতে ‘কোটা’ পদ্ধতি পুনর্বহালের প্ৰতিবাদে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শাহবাগ অবরোধ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রত্যাশীরা। ১ ঘণ্টা অবরোধের পর নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে পরবর্তীতে বিকেল সাড়ে ৫ টায় শাহবাগের রাস্তা ছাড়েন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারনে শাহবাগ থেকে সায়েন্স ল্যাব, মিরপুর সড়ক, গুলিস্তান ও ফার্মগেটগামী সড়ক বন্ধ হয়ে যায়। এসব এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। যান চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীদের অনেকেই হেঁটে গন্তব্যস্থলের দিকে রওনা হতে দেখা যায়।

এর আগে বিকেল ৩টা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ও বিভাগ থেকে শিক্ষার্থীরা ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ এর ব্যানারে ও নানান ধরনের ফেস্টুনসংবলিত মিছিল নিয়ে জড়ো হন। পরবর্তীতে সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন তারা। বিক্ষোভ মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি থেকে শুরু হয়ে মুহসিন হল, ভিসি চত্বর, টিএসসি, জগন্নাথ হলের মোড় হয়ে বকশিবাজার অতিক্রম করে পলাশী-আজিমপুর হয়ে পুণরায় নীলক্ষেত থেকে রাজু ভাস্কর্য হয়ে শাহবাগে গিয়ে শেষ হয়।

এসময় শিক্ষার্থীরা ‘১৮ এর হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘১৮ এর পরিপত্র, বহাল করতে হবে’, ‘সংবিধানের মূলকথা, সুযোগের সমতা’, ‘সারা বাংলায় খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে’, ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’ সহ নানা স্লোগান দেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার শাহবাগ অবরোধকালে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দেন ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’এর মুখপাত্র নাহিদ হাসান। ঘোষিত কর্মসূচির আলোকে আজকের বিক্ষোভ সমাবেশের পাশাপাশি আগামীকাল রোববার দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন তারা।

শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবিতে এ আন্দোলন করছেন। দাবিগুলো হলো- ২০১৮ সালে ঘোষিত সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহাল রাখা; পরিপত্র বহাল সাপেক্ষে কমিশন গঠন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি চাকরির সব গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাদ দেওয়া (সুবিধাবঞ্চিত ও প্রতিবন্ধী ছাড়া); সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার করা যাবে না এবং কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্য পদগুলোয় মেধা অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া এবং দুর্নীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক আমলাতন্ত্র নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।