ঢাকা ০৯:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

১০০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না সবজি, কাঁচা মরিচের কেজি ২৮০

বন্যার অজুহাতে ফের টালমাটাল রাজধানীর কাঁচাবাজার। অধিকাংশ সবজির দাম পৌঁছেছে কেজি ১০০ টাকার ঘরে। ৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে কেবল পটল, মিষ্টিকুমড়া আর পেঁপে। অপরদিকে কোনোমতেই ঝাল কমছে না কাঁচা মরিচের। এক কেজি কাঁচা মরিচ কিনতে খুচরা বাজারে গুনতে হচ্ছে সর্বনিম্ন ২৮০ টাকা। এমন অবস্থায় বেশ বিপাকেই পড়েছেন ক্রেতারা। নিত্য প্রয়োজনীয় শাকসবজির এমন অস্বাভাবিক দামে নাকানিচুবানি খেতে হচ্ছে তাদের।

শনিবার (৬ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে সবজির দোকান ঘুরে এমন চিত্রই চোখে পড়ে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাজার ও মানভেদে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচের দাম ২৮০ থেকে ৩২০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। অথচ এই কাঁচা মরিচ গত সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছিলো ২০০ টাকা কেজি দরে। আর অন্যান্য সবজির দামও বেড়েছে সর্বনিম্ন ২০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৩০ টাকা পর্যন্ত।

সবজির মধ্যে ৫০ টাকা কেজি দরে মিলছে কেবল মিষ্টি কুমড়া, পটল আর পেঁপে। এছাড়া বেগুন ৮০-১২০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, শসা ১০০ টাকা, বরবটি ১১০-১২০ টাকা, কচুর মুখি ১০০ টাকা, কাঁকরোল ১০০ টাকা, টমেটো ২০০ টাকা, করলা ১২০ টাকা, কচুর লতি ৮০-৯০ টাকা, গাজর ৮০-৯০ টাকা, ঢেঁরস ৬০ টাকা, ঝিঙা ৬০-৭০ টাকা, আলু ৬০ টাকা এবং ধুন্দল ৬০ টাকা কেজি দামে বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি পিস লাউ, বাঁধাকপি ও ফুলকপি আকারভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। শাকসবজির দামও চড়া। লালশাক, পালংশাকসহ যেসব আঁটি আগের সপ্তাহগুলোতে ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হতো সেগুলো এখন ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

ঢাকা মহানগরীর নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের খুচরা বাজার দর পর্যালোচনায় খোদ সরকারি সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) বলছে, ১ সপ্তাহ আগেও পেঁয়াজ ৯০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছিলো। ১ মাস আগে এর দাম ছিল ৮৫ টাকা। আর ১ বছর আগে এর দাম ছিল ৮০ টাকা। বাৎসরিক হিসেবে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৩৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। আর রসুনের দাম বেড়েছে ৩৯ দশমিক ২৯ শতাংশ।

কাঁচাবাজারের এমন বাড়ন্ত দামের ব্যাপারে ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঢাকায় সব সবজিই বাইরে থেকে আসে। উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জায়গায় বন্যা এবং গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির কারণে বাজারে সবজির পরিমাণ কম। যার কারণে বাড়তি দাম দিয়েই পাইকারি অর্থাৎ আড়ত থেকে সবজি কিনতে হচ্ছে। সেই প্রভাবই পড়েছে খুচরা বাজারে।

আবু হানিফ নামের এক সবজি বিক্রেতা বলেন, অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে আজকে সবজি কিনতে হয়েছে। অন্যান্য সময় সবজি নিয়ে যে পরিমাণ ট্রাক ঢাকায় আসতো এখন তেমনটি নেই। চাহিদা যেটার বেশি সেটার দামই বেশি। আর কাঁচা মরিচের দাম তো ঈদের সময় থেকেই বেশি ছিল। এখন আবার বন্যা হয়েছে তাই খুচরা বাজারেও প্রভাব পড়েছে।

ক্রেতারা বলেন, খরা, অতিবৃষ্টি, বন্যা বা ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলেই সবজি, কাঁচা মরিচসহ সবকিছুর দাম বেড়ে যায়। ব্যবসায়ীরা বলেন উৎপাদন কমে গেছে। তাহলে দুর্যোগের কথা চিন্তা করে কি কোনো মজুত রাখা হয় না? আসলে কিছু মধ্যস্বত্বভোগী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অথবা পণ্য মজুত করে দাম বাড়িয়ে দেয়। এগুলো মনিটরিংয়ের কেউ নেই। ভোক্তাপর্যায়ে আমাদেরকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ঢাকায় যদি সরাসরি বিক্রয় কেন্দ্র স্থাপন করা যেতো তবে সাধারণ মানুষের উপকার হতো। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের কারসাজি কমবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রশ্নই নেই: বাইডেন

১০০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না সবজি, কাঁচা মরিচের কেজি ২৮০

আপডেট সময় ০৫:১৮:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুলাই ২০২৪

বন্যার অজুহাতে ফের টালমাটাল রাজধানীর কাঁচাবাজার। অধিকাংশ সবজির দাম পৌঁছেছে কেজি ১০০ টাকার ঘরে। ৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে কেবল পটল, মিষ্টিকুমড়া আর পেঁপে। অপরদিকে কোনোমতেই ঝাল কমছে না কাঁচা মরিচের। এক কেজি কাঁচা মরিচ কিনতে খুচরা বাজারে গুনতে হচ্ছে সর্বনিম্ন ২৮০ টাকা। এমন অবস্থায় বেশ বিপাকেই পড়েছেন ক্রেতারা। নিত্য প্রয়োজনীয় শাকসবজির এমন অস্বাভাবিক দামে নাকানিচুবানি খেতে হচ্ছে তাদের।

শনিবার (৬ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে সবজির দোকান ঘুরে এমন চিত্রই চোখে পড়ে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাজার ও মানভেদে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচের দাম ২৮০ থেকে ৩২০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। অথচ এই কাঁচা মরিচ গত সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছিলো ২০০ টাকা কেজি দরে। আর অন্যান্য সবজির দামও বেড়েছে সর্বনিম্ন ২০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৩০ টাকা পর্যন্ত।

সবজির মধ্যে ৫০ টাকা কেজি দরে মিলছে কেবল মিষ্টি কুমড়া, পটল আর পেঁপে। এছাড়া বেগুন ৮০-১২০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, শসা ১০০ টাকা, বরবটি ১১০-১২০ টাকা, কচুর মুখি ১০০ টাকা, কাঁকরোল ১০০ টাকা, টমেটো ২০০ টাকা, করলা ১২০ টাকা, কচুর লতি ৮০-৯০ টাকা, গাজর ৮০-৯০ টাকা, ঢেঁরস ৬০ টাকা, ঝিঙা ৬০-৭০ টাকা, আলু ৬০ টাকা এবং ধুন্দল ৬০ টাকা কেজি দামে বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি পিস লাউ, বাঁধাকপি ও ফুলকপি আকারভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। শাকসবজির দামও চড়া। লালশাক, পালংশাকসহ যেসব আঁটি আগের সপ্তাহগুলোতে ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হতো সেগুলো এখন ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

ঢাকা মহানগরীর নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের খুচরা বাজার দর পর্যালোচনায় খোদ সরকারি সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) বলছে, ১ সপ্তাহ আগেও পেঁয়াজ ৯০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছিলো। ১ মাস আগে এর দাম ছিল ৮৫ টাকা। আর ১ বছর আগে এর দাম ছিল ৮০ টাকা। বাৎসরিক হিসেবে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৩৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। আর রসুনের দাম বেড়েছে ৩৯ দশমিক ২৯ শতাংশ।

কাঁচাবাজারের এমন বাড়ন্ত দামের ব্যাপারে ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঢাকায় সব সবজিই বাইরে থেকে আসে। উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জায়গায় বন্যা এবং গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির কারণে বাজারে সবজির পরিমাণ কম। যার কারণে বাড়তি দাম দিয়েই পাইকারি অর্থাৎ আড়ত থেকে সবজি কিনতে হচ্ছে। সেই প্রভাবই পড়েছে খুচরা বাজারে।

আবু হানিফ নামের এক সবজি বিক্রেতা বলেন, অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে আজকে সবজি কিনতে হয়েছে। অন্যান্য সময় সবজি নিয়ে যে পরিমাণ ট্রাক ঢাকায় আসতো এখন তেমনটি নেই। চাহিদা যেটার বেশি সেটার দামই বেশি। আর কাঁচা মরিচের দাম তো ঈদের সময় থেকেই বেশি ছিল। এখন আবার বন্যা হয়েছে তাই খুচরা বাজারেও প্রভাব পড়েছে।

ক্রেতারা বলেন, খরা, অতিবৃষ্টি, বন্যা বা ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলেই সবজি, কাঁচা মরিচসহ সবকিছুর দাম বেড়ে যায়। ব্যবসায়ীরা বলেন উৎপাদন কমে গেছে। তাহলে দুর্যোগের কথা চিন্তা করে কি কোনো মজুত রাখা হয় না? আসলে কিছু মধ্যস্বত্বভোগী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অথবা পণ্য মজুত করে দাম বাড়িয়ে দেয়। এগুলো মনিটরিংয়ের কেউ নেই। ভোক্তাপর্যায়ে আমাদেরকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ঢাকায় যদি সরাসরি বিক্রয় কেন্দ্র স্থাপন করা যেতো তবে সাধারণ মানুষের উপকার হতো। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের কারসাজি কমবে।