ঢাকা ০৯:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মার্চ ২০২৪, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বিবৃতিতে নেই ইসরায়েল-গাজা সংঘাত

বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বিবৃতিতে নেই ইসরায়েল-গাজা সংঘাত

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৪:২৯:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৩
  • ১৬০ বার পড়া হয়েছে

হামাস ইসরায়েলে হামলা করেছে ৭ অক্টোবর। এর দুই দিন পর মরক্কোতে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক বৈঠক শুরু হয়। শেষ হয়েছে রবিবার। কিন্তু আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতিতে মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কথা উল্লেখ করা হয়নি।

আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বৈঠকের উদ্বোধনী বক্তব্যে ইসরায়েল-গাজা সংঘাতের কথা উল্লেখ করেননি। তবে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা রবিবার সমাপনীতে বলেন, ইসরায়েল-গাজা সংঘাত, ইউক্রেন যুদ্ধ ও আফ্রিকায় সংঘাত বৈঠকের সাফল্যের ওপর ‘দীর্ঘ ছায়া’ ফেলছে এবং অর্থনীতিতে চ্যালেঞ্জ বাড়িয়েছে। ‘শান্তি ছাড়া মানুষের জন্য স্থিতিশীলতা, প্রবৃদ্ধি, সন্তানের দেখাশোনা করা, চাকরি পাওয়া কঠিন। বৈঠক শেষে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ যৌথ বিবৃতিও প্রকাশ করতে পারেনি, যা বিশ্ব রাজনীতিতে বিভাজনের আরেক উদাহরণ।

সাম্প্রতিক সময় ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বিবাদ নিয়েও এমন বিভাজন দেখা গেছে। জি২০-এর এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, গত বছর নভেম্বরে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের মধ্যে বৈঠক হওয়ার পর ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে একটি যৌথ বিবৃতি দেওয়া সম্ভব হয়েছিল। গত বছর ২৪ ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনের হামলা শুরু করে। জি২০-এর ওই কর্মকর্তা মনে করেন, ‘ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত তার চেয়েও বেশি বিতর্কিত, ঐকমত্যে পৌঁছনো প্রায় অসম্ভব। অবশ্য বৈঠকের সময় চলা অনানুষ্ঠানিক বিভিন্ন আলোচনায় এই সংঘাত আলোচনার কেন্দ্রে ছিল বলে অংশগ্রহণকারী কয়েকজন বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন। সংঘাতের ফলে নতুন করে শরণার্থী সংকট তৈরি হতে পারে কি না, বিশ্ব বাণিজ্যের এর কী প্রভাব পড়তে পারে এবং লেবানন ও পশ্চিম তীরে সংঘাতের হুমকি কী হতে পারে, তা নিয়ে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছে।

আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন গবেষণা ফেলো ব্যাচেল নাডেলমান মনে করছেন, ‘এই সংঘাতের মতো বড় এক বৈশ্বিক সংকটের সময়, যা মানব সৃষ্ট, কোনো ক্লাইমেট শক নয়, এই প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো কিছু করতে অক্ষম। তাই তারা এটা নিয়ে কথাও বলছে না।’ বার্ষিক বৈঠকের বিভিন্ন আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন নাডেলমান। বৈঠকে বিশ্ব অর্থনীতিতে ক্রমবর্ধমান ঋণের বোঝা, মূল্যস্ফীতি আর দরিদ্র ও ধনী দেশগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান সম্পদের বৈষম্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের মতো সংকট মোকাবেলায় ভেস্তে যেতে বসা নানা উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

আইএমএফের সাবেক কর্মকর্তা জশ লিপস্কি, যিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের থিংকট্যাংক আটলান্টিক কাউন্সিলের জিওইকোনমিকস সেন্টারের পরিচালক, মনে করছেন, বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত। তিনি মনে করেন, বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের মতো প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতে নিজেদের প্রয়োজনীয় করতে রাখতে চাইলে এই ধরনের সংঘাতের প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে। তিনি বলেন, ‘ভূ-রাজনৈতিক ধাক্কা এখন অর্থনৈতিক ধাক্কা এবং অর্থনৈতিক ধাক্কা হলো ভূ-রাজনৈতিক ধাক্কা। এটাকেই তারা বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পিটার হাসকে হুমকিদাতা ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত

বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বিবৃতিতে নেই ইসরায়েল-গাজা সংঘাত

বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বিবৃতিতে নেই ইসরায়েল-গাজা সংঘাত

আপডেট সময় ০৪:২৯:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৩

হামাস ইসরায়েলে হামলা করেছে ৭ অক্টোবর। এর দুই দিন পর মরক্কোতে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক বৈঠক শুরু হয়। শেষ হয়েছে রবিবার। কিন্তু আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতিতে মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কথা উল্লেখ করা হয়নি।

আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বৈঠকের উদ্বোধনী বক্তব্যে ইসরায়েল-গাজা সংঘাতের কথা উল্লেখ করেননি। তবে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা রবিবার সমাপনীতে বলেন, ইসরায়েল-গাজা সংঘাত, ইউক্রেন যুদ্ধ ও আফ্রিকায় সংঘাত বৈঠকের সাফল্যের ওপর ‘দীর্ঘ ছায়া’ ফেলছে এবং অর্থনীতিতে চ্যালেঞ্জ বাড়িয়েছে। ‘শান্তি ছাড়া মানুষের জন্য স্থিতিশীলতা, প্রবৃদ্ধি, সন্তানের দেখাশোনা করা, চাকরি পাওয়া কঠিন। বৈঠক শেষে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ যৌথ বিবৃতিও প্রকাশ করতে পারেনি, যা বিশ্ব রাজনীতিতে বিভাজনের আরেক উদাহরণ।

সাম্প্রতিক সময় ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বিবাদ নিয়েও এমন বিভাজন দেখা গেছে। জি২০-এর এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, গত বছর নভেম্বরে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের মধ্যে বৈঠক হওয়ার পর ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে একটি যৌথ বিবৃতি দেওয়া সম্ভব হয়েছিল। গত বছর ২৪ ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনের হামলা শুরু করে। জি২০-এর ওই কর্মকর্তা মনে করেন, ‘ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত তার চেয়েও বেশি বিতর্কিত, ঐকমত্যে পৌঁছনো প্রায় অসম্ভব। অবশ্য বৈঠকের সময় চলা অনানুষ্ঠানিক বিভিন্ন আলোচনায় এই সংঘাত আলোচনার কেন্দ্রে ছিল বলে অংশগ্রহণকারী কয়েকজন বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন। সংঘাতের ফলে নতুন করে শরণার্থী সংকট তৈরি হতে পারে কি না, বিশ্ব বাণিজ্যের এর কী প্রভাব পড়তে পারে এবং লেবানন ও পশ্চিম তীরে সংঘাতের হুমকি কী হতে পারে, তা নিয়ে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছে।

আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন গবেষণা ফেলো ব্যাচেল নাডেলমান মনে করছেন, ‘এই সংঘাতের মতো বড় এক বৈশ্বিক সংকটের সময়, যা মানব সৃষ্ট, কোনো ক্লাইমেট শক নয়, এই প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো কিছু করতে অক্ষম। তাই তারা এটা নিয়ে কথাও বলছে না।’ বার্ষিক বৈঠকের বিভিন্ন আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন নাডেলমান। বৈঠকে বিশ্ব অর্থনীতিতে ক্রমবর্ধমান ঋণের বোঝা, মূল্যস্ফীতি আর দরিদ্র ও ধনী দেশগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান সম্পদের বৈষম্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের মতো সংকট মোকাবেলায় ভেস্তে যেতে বসা নানা উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

আইএমএফের সাবেক কর্মকর্তা জশ লিপস্কি, যিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের থিংকট্যাংক আটলান্টিক কাউন্সিলের জিওইকোনমিকস সেন্টারের পরিচালক, মনে করছেন, বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত। তিনি মনে করেন, বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের মতো প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতে নিজেদের প্রয়োজনীয় করতে রাখতে চাইলে এই ধরনের সংঘাতের প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে। তিনি বলেন, ‘ভূ-রাজনৈতিক ধাক্কা এখন অর্থনৈতিক ধাক্কা এবং অর্থনৈতিক ধাক্কা হলো ভূ-রাজনৈতিক ধাক্কা। এটাকেই তারা বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছে।