ঢাকা ০৭:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ৯ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

‘আন্দোলন করে কি রায় পরিবর্তন করা যায়?’

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন শুনানি ‘নট টুডে’ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সেই সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর কোটা নিয়ে নিয়মিত আপিল করার নির্দেশও দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত।

বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। পরে চলমান কোটাবিরোধী আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি বলেন, রাজপথে আন্দোলন করে কি কোর্টের রায় পরিবর্তন করা যায়?

সরকারি চাকরির প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পদ্ধতির বৈধতার হাইকোর্টের রায় স্থগিত আবেদনের শুনানিকালে অ্যার্টনি জেনারেলের উদ্দেশে আপিল বিভাগ বলেন, রাস্তায় কীসের এত আন্দোলন শুরু হয়েছে? আন্দোলনের চাপ দিয়ে কি হাইকোর্টের রায়, সুপ্রিম কোর্টের রায় পরিবর্তন করবেন?

পরে শুনানি ‘নট টুডে’ (আজ নয়) বলে আদেশ দেন আদালত। পাশাপাশি রাষ্ট্রপক্ষকে নিয়মিত লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করতে বলেন সর্বোচ্চ আদালত।

মামলাটি আজ শুনানি শুরু হলে রিট আবেদনের পক্ষে অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড মো. জহিরুল ইসলাম সময় প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক দেশের বাইরে রয়েছেন। তাই শুনানির জন্য সময় প্রয়োজন।

এসময় শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল আবু মোহাম্মদ (এএম) আমিন উদ্দিন বলেন, আগে কোটা ছিল। ২০১৮ সালে কোটা পদ্ধতি সংশোধন করে পরিপত্র জারি করা হয়। এটা বাতিল ঘোষণা করেন হাইকোর্ট।

আদালত বলেন, চেম্বার আদালত কী আদেশ দিয়েছিলেন? তখন মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ করেছেন।

এসময় আদালত বলেন, নট টুডে (আজ নয়)। আপনারা সিপি (লিভ টু আপিল) ফাইল করেন। আমরা এখন ইন্টারফেয়ার (হস্তক্ষেপ) করবো না।

অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, রায়টা (হাইকোর্ট) পাইনি। আদালত বলেন, পাবেন।

একপর্যায়ে আদালত বলেন, কীসের এত আন্দোলন রাস্তায় শুরু হয়েছে? আন্দোলনের চাপ দিয়ে কি হাইকোর্টের রায়, সুপ্রিম কোর্টের রায় পরিবর্তন করবেন? তখন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, ‘নো, নো’ (না, না)।

২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সরকারি দপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত বা আধাস্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন করপোরেশনে চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের বিদ্যমান কোটাপদ্ধতি সংশোধন করে পরিপত্র জারি করে। পরিপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০২১ সালে রিট করেন চাকরিপ্রত্যাশী ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান অহিদুল ইসলামসহ সাতজন। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০২১ সালের ৬ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রুল দেন। রুলে ওই পরিপত্র কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। চূড়ান্ত শুনানি শেষে রুল অ্যাবসলিউট (যথাযথ) ঘোষণা করে গত ৫ জুন রায় দেন হাইকোর্ট। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে।

‘আন্দোলন করে কি রায় পরিবর্তন করা যায়?’

আপডেট সময় ০৭:০৪:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুলাই ২০২৪

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন শুনানি ‘নট টুডে’ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সেই সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর কোটা নিয়ে নিয়মিত আপিল করার নির্দেশও দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত।

বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। পরে চলমান কোটাবিরোধী আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি বলেন, রাজপথে আন্দোলন করে কি কোর্টের রায় পরিবর্তন করা যায়?

সরকারি চাকরির প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পদ্ধতির বৈধতার হাইকোর্টের রায় স্থগিত আবেদনের শুনানিকালে অ্যার্টনি জেনারেলের উদ্দেশে আপিল বিভাগ বলেন, রাস্তায় কীসের এত আন্দোলন শুরু হয়েছে? আন্দোলনের চাপ দিয়ে কি হাইকোর্টের রায়, সুপ্রিম কোর্টের রায় পরিবর্তন করবেন?

পরে শুনানি ‘নট টুডে’ (আজ নয়) বলে আদেশ দেন আদালত। পাশাপাশি রাষ্ট্রপক্ষকে নিয়মিত লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করতে বলেন সর্বোচ্চ আদালত।

মামলাটি আজ শুনানি শুরু হলে রিট আবেদনের পক্ষে অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড মো. জহিরুল ইসলাম সময় প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক দেশের বাইরে রয়েছেন। তাই শুনানির জন্য সময় প্রয়োজন।

এসময় শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল আবু মোহাম্মদ (এএম) আমিন উদ্দিন বলেন, আগে কোটা ছিল। ২০১৮ সালে কোটা পদ্ধতি সংশোধন করে পরিপত্র জারি করা হয়। এটা বাতিল ঘোষণা করেন হাইকোর্ট।

আদালত বলেন, চেম্বার আদালত কী আদেশ দিয়েছিলেন? তখন মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ করেছেন।

এসময় আদালত বলেন, নট টুডে (আজ নয়)। আপনারা সিপি (লিভ টু আপিল) ফাইল করেন। আমরা এখন ইন্টারফেয়ার (হস্তক্ষেপ) করবো না।

অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, রায়টা (হাইকোর্ট) পাইনি। আদালত বলেন, পাবেন।

একপর্যায়ে আদালত বলেন, কীসের এত আন্দোলন রাস্তায় শুরু হয়েছে? আন্দোলনের চাপ দিয়ে কি হাইকোর্টের রায়, সুপ্রিম কোর্টের রায় পরিবর্তন করবেন? তখন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, ‘নো, নো’ (না, না)।

২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সরকারি দপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত বা আধাস্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন করপোরেশনে চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের বিদ্যমান কোটাপদ্ধতি সংশোধন করে পরিপত্র জারি করে। পরিপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০২১ সালে রিট করেন চাকরিপ্রত্যাশী ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান অহিদুল ইসলামসহ সাতজন। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০২১ সালের ৬ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রুল দেন। রুলে ওই পরিপত্র কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। চূড়ান্ত শুনানি শেষে রুল অ্যাবসলিউট (যথাযথ) ঘোষণা করে গত ৫ জুন রায় দেন হাইকোর্ট। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে।