ঢাকা ০৫:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ৯ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সুনামগঞ্জে বন্যার শঙ্কা, সুরমার পানি বেড়েছে ২৮ সেন্টিমিটার

সুনামগঞ্জে বন্যার শঙ্কা, সুরমার পানি বেড়েছে ২৮ সেন্টিমিটার

সুনামগঞ্জে আবারো বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। টানা বর্ষণ ও উজানে ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ঢল নেমে জেলার সব নদ নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জের কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টিপাত ও কোথাও কোথাও অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানিয়েছে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রোববার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত) সুনামগঞ্জ পৌরশহরের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বেড়েছে ২৮ সেন্টিমিটার। বর্তমানে সুরমা নদীর পানি এই পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গতকাল সকাল ৯টা থেকে আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত সুনামগঞ্জে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৩৫ মিলিমিটার। একই সময়ে ভারতের চেরাপুঞ্জিতে ১৮৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রথম দফার বন্যার কারণে সুনামগঞ্জে এখনও প্রায় ৪ লাখ মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এর মধ্যে আবহাওয়া অফিস থেকে নতুন করে আগামী তিন দিন ভারী বর্ষণের সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। ফলে হাওরের এ জেলায় বড় বন্যা হওয়ার আতঙ্ক বিরাজ করছে জনমনে।

সুনামগঞ্জ পৌরশহরের রুবেল মিয়া বলেন, ‘গতকাল শনিবার নদীর পানি কম ছিলো। আজ সকাল থেকে দেখছি নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। এখন তো সড়কের ধারে পানি। বৃষ্টি না থামলে আমাদের ঘরে পানি উঠে যাবে।’

সুনামগঞ্জের সবজি বাজার এলাকার মোহাম্মদ সুন্দর আলী বলেন, ‘বাড়িতে এখনো পানি ওঠেনি। নদীর পানি দেখে ভয়ে আছি।’

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, ‘ভারতের চেরাপুঞ্জিতে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ঢল নেমে সুনামগঞ্জের নদ-নদীতে পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জের কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টিপাত ও কোথাও কোথাও অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। নদ-নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্প মেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।’

উল্লেখ্য, গত ১৬ জুন উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢল এবং টানা বর্ষণে সুনামগঞ্জের ১১টি উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। বানের জলে সুনামগঞ্জ পৌরশহরসহ ১১টি উপজেলার মানুষ বন্যাকবলিত হয়ে পড়েন। তলিয়ে যায় জেলার বিভিন্ন সড়ক। পানিবন্দি হয়ে পড়েন ৭ লাখের বেশি মানুষ। গত ২১ থেকে ২৩ জুন বৃষ্টিপাত বন্ধ ও রোদ ওঠায় বন্যার পানি নামতে শুরু করে।

সুনামগঞ্জে বন্যার শঙ্কা, সুরমার পানি বেড়েছে ২৮ সেন্টিমিটার

আপডেট সময় ১০:০৭:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ জুন ২০২৪

সুনামগঞ্জে আবারো বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। টানা বর্ষণ ও উজানে ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ঢল নেমে জেলার সব নদ নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জের কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টিপাত ও কোথাও কোথাও অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানিয়েছে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রোববার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত) সুনামগঞ্জ পৌরশহরের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বেড়েছে ২৮ সেন্টিমিটার। বর্তমানে সুরমা নদীর পানি এই পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গতকাল সকাল ৯টা থেকে আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত সুনামগঞ্জে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৩৫ মিলিমিটার। একই সময়ে ভারতের চেরাপুঞ্জিতে ১৮৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রথম দফার বন্যার কারণে সুনামগঞ্জে এখনও প্রায় ৪ লাখ মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এর মধ্যে আবহাওয়া অফিস থেকে নতুন করে আগামী তিন দিন ভারী বর্ষণের সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। ফলে হাওরের এ জেলায় বড় বন্যা হওয়ার আতঙ্ক বিরাজ করছে জনমনে।

সুনামগঞ্জ পৌরশহরের রুবেল মিয়া বলেন, ‘গতকাল শনিবার নদীর পানি কম ছিলো। আজ সকাল থেকে দেখছি নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। এখন তো সড়কের ধারে পানি। বৃষ্টি না থামলে আমাদের ঘরে পানি উঠে যাবে।’

সুনামগঞ্জের সবজি বাজার এলাকার মোহাম্মদ সুন্দর আলী বলেন, ‘বাড়িতে এখনো পানি ওঠেনি। নদীর পানি দেখে ভয়ে আছি।’

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, ‘ভারতের চেরাপুঞ্জিতে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ঢল নেমে সুনামগঞ্জের নদ-নদীতে পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জের কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টিপাত ও কোথাও কোথাও অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। নদ-নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্প মেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।’

উল্লেখ্য, গত ১৬ জুন উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢল এবং টানা বর্ষণে সুনামগঞ্জের ১১টি উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। বানের জলে সুনামগঞ্জ পৌরশহরসহ ১১টি উপজেলার মানুষ বন্যাকবলিত হয়ে পড়েন। তলিয়ে যায় জেলার বিভিন্ন সড়ক। পানিবন্দি হয়ে পড়েন ৭ লাখের বেশি মানুষ। গত ২১ থেকে ২৩ জুন বৃষ্টিপাত বন্ধ ও রোদ ওঠায় বন্যার পানি নামতে শুরু করে।